শুক্রবার ২১ জানুয়ারী ২০২২



যে নারীর কারণে বাতিল হতে চলেছে তারেক রহমানের রাজনৈতিক আশ্রয়


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
07.03.2019

নিউজ ডেস্ক: একজন নারীর কারণে লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিল হতে যাচ্ছে। আইএস- এ যোগ দেয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক শামিমা রহমানের নাগরিকত্ব বাতিলের প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রে প্রাপ্ত খবরে তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে শামিমা প্রসঙ্গে বলেন, ‘শামিমা কোন দেশের বংশোদ্ভূত সেটা বড় কথা নয়। জঙ্গিবাদের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদেরকে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। এমনকি যারা ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে জঙ্গিবাদের মদদ বা পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছেন, তাদের ব্যাপারেও ব্রিটেন একই নীতি গ্রহণ করবে। ব্রিটেন তার ভূমিকে জঙ্গিবাদের লালন ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করতে দেবে না। জঙ্গিবাদের সঙ্গে তারা কোন রকম আপোষ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিট্রিশ পার্লামেন্টের ওই ভাষণের প্রেক্ষিতে শঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, যেহেতু বহু আগে থেকেই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদে পৃষ্ঠপোষকতা এবং আইএস- এর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ তথ্য আছে, ফলে যদি যুক্তরাজ্য তারেক রহমানের বিরুদ্ধে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে তথ্য প্রমাণ পায় তবে তারেক রহমানের রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিল অবধারিত।

এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরে তারেক রহমানের জঙ্গি সম্পৃক্ততার একাধিক প্রমাণ উপস্থাপন করবে বলেও জানা গেছে। এই তথ্য-প্রমাণগুলো যদি সঠিক-বস্তুনিষ্ঠ হয় এবং ব্রিটিশ সরকার যদি তদন্ত করে সেটি সঠিক বিবেচনা করে, সেক্ষেত্রে তারেক রহমানের রাজনৈতিক আশ্রয় সুযোগ বাতিল হয়ে যাবে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। বাংলাদেশের কাছে তারেক রহমান জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার একাধিক প্রমাণ রয়েছে বলে জানা গেছে।

তথ্যসূত্র বলছে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় তারেক রহমান প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে পাকিস্তান ভিত্তিক একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সহযোগিতা নিয়েছিলেন । এমনকি ওই হামলায় পাকিস্তানি জঙ্গিদের থেকে সংগৃহীত অস্ত্র এবং জঙ্গিরা অপারেশন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল বলে আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতে উল্লেখ করা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ওই প্রতিবেদনই তারেক রহমানের জঙ্গিবাদে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণে যথেষ্ট।

এদিকে তারেক রহমানের সঙ্গে জঙ্গিদের মদদদাতা, বিশ্বের অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল দাউদ ইব্রাহিমের সম্পর্ক, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ ইতিমধ্যে ২০০৮, ২০১০ এবং ২০১১ সালে তিনটি পৃথক প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে, দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে তারেক রহমানের আর্থিক লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে দাউদ ইব্রাহিম এবং তারেক রহমানের একাধিক বৈঠক হয়েছে। এছাড়া, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে তারেক রহমান তার রাজনৈতিক অফিস ‘হাওয়া ভবনে’ একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে গোপন বৈঠক, ইসলামী ছাত্রশিবির এবং ছাত্রদল হলো একই মায়ের দুই সন্তান বলে দেয়া তারেক রহমানে বক্তব্যসহ একাধিক ঘটনায় ফেঁসে যাবেন তারেক রহমান।

সূত্র বলছে, উপরে উল্লেখিত ঘটনার যেকোন একটির প্রমাণ করতে সমর্থ হয় ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর তবে তারেক রহমানের রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিলে আর বাধা থাকবে না।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক শামিমা কিশোরী বয়সে আইএস -এর প্রতি আসক্ত হন এবং তিনি ব্রিটেন থেকে পালিয়ে সিরিয়ায় আইএস কেন্দ্রে যান। সেখানে তিনি বিয়ে করেন এবং তার দুটি সন্তান চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করে। এখন তিনি তৃতীয় সন্তানসম্ভবা হয়ে ব্রিটেনে ফেরার আবেদন করেছেন। কিন্তু ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর তার আবেদন নাকচ করে দিয়ে তার নাগরিকত্ব বাতিল করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শামিমার নাগরিকত্ব বাতিলের পর তারেকের রাজনৈতিক আশ্রয়লাভের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি