শুক্রবার ২১ জানুয়ারী ২০২২



শূন্য পদের লোভ দেখিয়ে কোটি টাকা আদায়, ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতা-কর্মীরা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
09.03.2019

নিউজ ডেস্ক: বিপর্যয় যেন পিছু ছাড়ছে না বিএনপির। কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হতে চলেছে। দলের স্থায়ী কমিটিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ এখনো শূন্য। দলের সাংগঠনিক দুর্বলতার জন্য বিভিন্ন কমিটিতে হাইব্রিড ও অযোগ্য নেতাদের পদায়নকে দুষছেন পদবঞ্চিত নেতারা। অর্থ ও স্বজনপ্রীতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ পদে অযোগ্য ও অথর্ব নেতাদের বসানোয় বিএনপি রাজপথ বাদ দিয়ে পার্টি অফিস কেন্দ্রিক ‘অভিযোগ পার্টি’তে পরিণত হয়েছে বলেও মনে করছেন তারা।

দলটির একাধিক সংস্কারপন্থী এবং ক্ষুব্ধ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদিকে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে দেখা যায়, সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে বিএনপির নতুন কমিটি গঠিত হয়। সেই থেকেই দলের স্থায়ী কমিটির দুটি পদ ফাঁকা ছিলো। পরবর্তীতে হান্নান শাহ, এম কে আনোয়ার ও তরিকুল ইসলামের মৃত্যুতে এখন দলের স্থায়ী কমিটির মোট পাঁচটি পদ শূন্য রয়েছে। আন্তর্জাতিক-বিষয়ক সম্পাদক, যুব-বিষয়ক সম্পাদক, ছাত্র-বিষয়ক সম্পাদক এবং সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ ফাঁকা থাকায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বিএনপি। বিশেষ করে ছাত্র-বিষয়ক সম্পাদক ও সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদকের পদ শূন্য থাকায় বিএনপির ভ্যানগার্ড খ্যাত ছাত্রদলের বেশ করুণ দশা। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের এক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির দাবি, বিএনপির ছাত্র-বিষয়ক সম্পাদক ও সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদকের পদ শূন্য থাকায় সংগঠনকে বেশ ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। ছাত্রদল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের তেমন নিয়ন্ত্রণে নেই, ফলে সংগঠনটির তেমন কোনো পারফরমেন্সও নেই। যা আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের আলোচনায় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন।

তবে গুঞ্জন উঠেছে, মির্জা ফখরুল ও রিজভী আহমেদ ও মওদুদ আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত একটি অদৃশ্য লবিং কমিটি পদগুলো পাইয়ে দেয়ার জন্য ১০ জন বিত্তশালী নেতার কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০ লাখ করে মোট ৫ কোটি টাকা উৎকোচ নিয়ে লন্ডনে পাঠিয়েছেন তারা।

এমন অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির সংস্কারপন্থী ও ঠোঁটকাটা নেতা-খ্যাত শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এটি সত্য যে, বিভিন্ন কমিটিতে শূন্য পদ সৃষ্টি হওয়ায় বিএনপির স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে ছাত্রদল, যুবদলের কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে কমিটিতে পরীক্ষিত নেতার অভাবে। দলের স্থায়ী কমিটির অনেকগুলো পদ ফাঁকা। সব মিলিয়ে দলের অবস্থা জগাখিচুড়ি হয়ে আছে। এরমধ্যে আবার গুঞ্জনও শুনছি, গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর জন্য আগাম টাকা নিয়েছেন কয়েকজন সিনিয়র নেতা। যদি এই গুঞ্জন সত্যি হয় তাহলে বিএনপির রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। দলের ভঙ্গুর অবস্থা আরও নেতিয়ে পড়বে।

তিনি আরো বলেন, তবে আগামী জাতীয় কাউন্সিলে নতুন নেতৃত্ব তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। আশা করছি অথর্ব ও অলস নেতাদের সরিয়ে নতুন উদ্যমে আগামীতে পথ চলা শুরু করবে দল।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি