শুক্রবার ২১ জানুয়ারী ২০২২
  • প্রচ্ছদ » জাতীয় » ‘বিশ্বপ্রচার যন্ত্রে পৃথিবীর বৃহত্তম গণহত্যা উঠে আসেনি’



‘বিশ্বপ্রচার যন্ত্রে পৃথিবীর বৃহত্তম গণহত্যা উঠে আসেনি’


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
10.03.2019

ডেস্ক রিপোর্ট: পৃথিবীর বৃহত্তম গণহত্যা চোখের আড়ালে যাওয়ার পেছনের কারণ উল্লেখ করে ইতিহাসবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রফেসর ড. মুনতাসীর মামুন বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমেরিকা, চীন, সৌদি আরবসহ মুসলিম দেশগুলো সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী ছিল। আবার ‘নিরপেক্ষতা’ বজায় রাখার চেষ্টা করেছে ইউরোপীয় দেশগুলো। বাঙালিরা যুদ্ধে জিতে যাবে এটা তারা কেউ কল্পনা করেনি। কিন্তু বিজয়ের পর সমীকরণও বদলে গেল। গণহত্যার সঙ্গে যদি এরা জড়িত- এই প্রচার শুরু হয়ে যায় তাহলে তারা আরও বিপদে পড়বে। কেননা ‘হলোকাস্ট’ বা ইহুদি নিধন তারা মনে রাখে কিন্তু বাঙালি হলে তা মনে রাখে না, এটি বর্ণবাদ। যেহেতু বিশ্বপ্রচার যন্ত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ নিয়ন্ত্রণ করে, তাই বাংলাদেশের গণহত্যার প্রসঙ্গটি উঠে এলো না আবার। এভাবে পৃথিবীর বৃহত্তম গণহত্যা চোখের আড়ালে চলে গেল।’

শনিবার (৯ মার্চ) বিকেলে বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিতে ড. এ. আর. মল্লিক ও আর. এন. মল্লিক মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ফান্ডের উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা যদি না থাকতেন তাহলে আওয়ামী লীগ মানবতাবিরোধী অপরাধের (যুদ্ধাপরাধী) বিচার করতো কিনা তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।’

১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকেই গণহত্যা শুরু হয়েছিল, তাই গণহত্যাকেই বক্তৃতার বিষয় উল্লেখ করে মুনতাসীর মামুন বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে আমি সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব দিই, তার রাজনীতিকে নয়। আমি বলি, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের সিদ্ধান্ত তিনি একাই নিয়েছেন। আমি আরও পরিষ্কার করে বলি, শেখ হাসিনা যদি না থাকতেন তাহলে আওয়ামী লীগ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতো কিনা তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। যারা এর পেছনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, তারা হলেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, যার সঙ্গে আমি যুক্ত ছিলাম। শেখ হাসিনা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই বিচারে অনড় ছিলেন। গণআদালত যে সফল হয়েছিল সেটা একমাত্র শেখ হাসিনার কারণে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান বৈশিষ্ট্য গণহত্যা। বাংলাদেশে গণহত্যার রাজনীতি ছিল পাকিস্তানের রাজনীতি ও সুপার পাওয়ারদের ভৌগোলিক বা কৌশলগত স্বার্থে। পাকিস্তানের রাজনীতির বিষয়টি আমাদের জানা। কৌশলগতভাবে আমেরিকা ও পাশ্চাত্য ছিল পাকিস্তানের মিত্র এবং মুসলমান অধ্যুষিত রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। বাংলাদেশে গণহত্যার সময় পাশ্চাত্য বা আমেরিকার জনমত ছিল গণহত্যার বিপক্ষে এবং তা এতো জোরালো ছিল যে, তাদের সরকার কাঠামোয় পাশ্চাত্য বা পরে আমেরিকা নতি স্বীকার করে। এই গণহত্যা বিশ্বে উপেক্ষিত হলো এই কারণে যে, গণহত্যার বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপিত হলে বিচারের বিষয়টি উঠে আসে, নৈতিকভাবে তা অস্বীকার করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।’

গণহত্যা পাকিস্তানের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তানি বাহিনী কি কোনও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গণহত্যা শুরু করেছিল, নাকি তা পরিকল্পিত ছিল? কোনও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নয় বরং কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল গণহত্যা চালিয়ে বাঙালিদের দমন করা। জুলফিকার আলী ভুট্টোসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদেরও সায় ছিল এই গণহত্যায়। এমনকি যদি বলি, পুরো পশ্চিম পাকিস্তানি জনগণের সায় ছিল, তাও বললে ভুল হবে না। কারণ গণহত্যা শুরুর পর অল্পকিছু পাকিস্তানি এর প্রতিবাদ করেছিল।’

এ সময় ফান্ডের চেয়ারপারসন প্রফেসর আহমেদ এ জামাল, আহ্বায়ক আব্দুর রহিম, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি প্রফেসর মাহফুজা খানমসহ সংস্থাটির সদস্যদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি