সোমবার ২৪ জানুয়ারী ২০২২
  • প্রচ্ছদ » জাতীয় » অর্থ মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির সম্ভাব্য ৩৩ উৎসের প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে : অর্থমন্ত্রী



অর্থ মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির সম্ভাব্য ৩৩ উৎসের প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে : অর্থমন্ত্রী


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
12.03.2019

ডেস্ক রিপোর্ট: অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৩৩টি খাতে দুর্নীতির তথ্য সংবলিত একটি প্রতিবেদন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে হস্তান্তর করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (১১ মার্চ) শেরেবাংলা নগরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) নিজ কার্যালয়ে এ প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়।

দুদকের অনুসন্ধান ও পর্য়বেক্ষণ প্রতিবেদনে দুর্নীতির সম্ভাব্য ৩৩টি উৎস ও ২১টি সুপারিশ করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়সমূহে দুর্নীতির সম্ভাব্য উৎসগুলো হলো- সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীর বদলিজনিত কারণে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করার পর হিসাবরক্ষণ দফতর কর্তৃক শেষ বেতনপত্র (এলপিসি) নতুন কর্মস্থলে প্রেরণের বেলায় বিলম্ব; সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীর কর্ম অবসানে অবসরে গমনকালে সর্বশেষ হিসাবরক্ষণ দফতর কর্তৃক তার প্রত্যাশিত শেষ বেতনপত্র (ইএলপিসি) ইস্যুর ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব; কর্মকর্তাদের সার্ভিস স্টেটমেন্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে হয়রানিমুক্ত সেবা প্রদান না করা; কর্মচারীদের সার্ভিস বুক ভেরিফিকেশনের বেলায় অনিয়মিতভাবে অর্থ আদায় করা; কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সিলেকশন গ্রেড/টাইম স্কেলে বেতন নির্ধারণের বেলায় এবং বেতন নির্ধারণের পর এরিয়ার বিল দাখিল করা হলে অনিয়মিতভাবে আর্থিক সুবিধা আদায় করা;

কর্মকর্তা/কর্মচারীদের পে-ফিক্সেশনের বেলায় অনিয়মিতভাবে আর্থিক সুবিধা প্রদানের দাবি করা; কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ তহবিল (জিপিএফ) হিসাব খোলার সময় অনিয়মিতভাবে অর্থ আদায় করা; কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জিপিএফ অগ্রিমের অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে অনিয়মিতভাবে আর্থিক সুবিধা আদায় করা; কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জিপিএফ হিসাব হতে চূড়ান্ত অর্থ পরিশোধের বেলায়ও অনিয়মিতভাবে আর্থিক সুবিধার দাবি করা; সরকারি বিভিন্ন অগ্রিম যথা- গৃহনির্মাণ, গাড়ি, মোটর সাইকেল, কম্পিউটার ইত্যাদির বিলের অর্থপ্রাপ্তিতে অনিয়মিত আর্থিক সুবিধা প্রদান; সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকসহ কর্মচারীদের পেনশন সংক্রান্ত আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি) প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অনিয়মিত অর্থ প্রদান করা;

ভ্রমণ ভাতার বিল পরিশোধের জন্য একটি নির্দিষ্ট হারে অনিয়মিত অর্থ পরিশোধ করা; আনুষঙ্গিক ও অন্যান্য খাতের বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে অনিয়মিত অর্থ প্রদান করা; শ্রান্তি-বিনোদন ভাতার বিল উত্তোলনের বেলায় অনিয়মিত অর্থ পরিশোধ করা; বিল দাখিলের ক্ষেত্রে টোকেন প্রদানের সময় হয়রানির শিকার; সরকারি চাকরিতে নবনিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের প্রথম বেতন বিলের টাকা প্রাপ্তিতে অনিয়মিত অর্থ প্রদান; ভুয়া পেনশন সংক্রান্ত বিল পরিশোধের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা; ভুয়া ভ্রমণভাতা বিল পরিশোধের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা; উন্নয়ন প্রকল্প হতে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের বেলায় অনিয়মিতভাবে অর্থ আদায় করা; সরকারি দফতরসমূহ কর্তৃক ক্রয়ের ক্ষেত্রে সংঘটিত অনিয়মসমূহের উপর যথাযথ প্রি-অডিট আপত্তি প্রদান না করে অনিয়মিত অর্থ গ্রহণের মাধ্যমে বিল পাস করা;

সরকারি দফতর কর্তৃক সম্পদ সংগ্রহ বা ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভ্যাট/আইটি/কাস্টম্স ডিউটি কর্তন না করে সরকারি রাজস্ব আদায়ের প্রতিবন্ধকতা বা বাধা সৃষ্টি এবং রাজস্ব আদায়ের টার্গেটে পৌঁছতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা; উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে অর্থছাড়ের বেলায় প্রতিবন্ধকতা, হয়রানি ও দুর্নীতির মাধ্যমে অনিয়মিত আর্থিক সুবিধা গ্রহণ; জুন মাসে যথাযথ প্রি-অডিট না করে অনিয়মিত আর্থিক সুবিধা নিয়ে বিল পাস করা; সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে মাসভিত্তিতে সমরূপে ব্যয় না করে অর্থবছরের শেষ প্রান্তে তথা এপ্রিল, মে, জুন মাসে অর্থছাড় ও বিল সাবমিট করা। হিসাব দফতরসমূহ কর্তৃক যথাযথ প্রি-অডিট না করে বিলসমূহ পাস করা; হিসাবরক্ষণ অফিস কর্তৃক বিভিন্ন অফিসের পে-রোলে নাই এমন ব্যক্তিদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করে সরকারি অর্থের আত্মসাৎ করা;

ব্যাংক কর্তৃক পরিশোধিত মাসিক পেনশনের টাকা হিসাব অফিস কর্তৃক পুনর্ভরণের ক্ষেত্রে কখনও কখনও ভুয়া বিল বা ডুপ্লিকেট বিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থের ক্ষতি ও আত্মসাৎ করা; সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের নিয়মিত বিলের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট অডিট আপত্তি উত্থাপন না করা; নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বেতন-ভাতা পরিশোধের নির্দেশনা অমান্য করে সরকারি সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি করা; বরাদ্দ জটিলতা দেখিয়ে হয়রানি করা; বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বরাদ্দ নেই বলে বিলম্ব করা ও ভোগান্তি সৃষ্ট করা; দাখিলকৃত কাগজপত্র সঠিক ও পর্যাপ্ত নয় মর্মে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। অর্থ প্রদান করলে বিল প্রদান করা; ব্যাংকে কোন কোন ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে অ্যাডভাইস প্রদান না করা; সঠিক বরাদ্দ পাওয়ার পরও অর্থনৈতিক কোড নিয়ে বিড়াম্বনা ও ভোগান্তি সৃষ্ট করা।

দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক টিমের সুপারিশমালা হলো-

সিজিএ কার্যালয় কর্তৃক মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় ভিডিও কনফারেন্স প্রযুক্তির ব্যবহার জোরদার করা; বর্তমানে হিসাবরক্ষণ অফিসসমূহে যে জনবল রয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। যে কারণে সেবা প্রার্থীদের সেবা পেতে অনেক বিলম্ব হয়। সেবাপ্রার্থীর দ্রুত সেবা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল বাড়ানো; একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আইটি সেক্টর প্রতিষ্ঠা করা; আইটি সিস্টেমকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য প্রতিটি হিসাবরক্ষণ অফিসে একজনকে পদায়ন করা; ই-ফাইলিং কার্যক্রম গ্রহণ অর্থাৎ সমগ্র অফিস অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসার পদক্ষেপ গ্রহণ করা; সব ধরনের বিল ইলেকট্রনিক্যালি নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা এবং কতিপয় ক্ষেত্রে (জিপিএফ অগ্রিম গ্রহণ) সেইম ডে সার্ভিস চালুকরণের ব্যবস্থা নেয়া;

পেপারলেস সাইভার আর্কাইভেরব্যবস্থা করা; প্রতিটি হিসাবরক্ষণ অফিসের জন্য ওয়েভসাইটে অভিযোগ পেজ যুক্ত করা; অভিযোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি সহজীকরণ; ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দাখিল, শুনানি ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা থাকা; ট্রানজেকশন অ্যাকাউনটিং সিস্টেম যা পরবর্তীতে আইবিএএসে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে আইবিএসের স্থলে আইবিএস + + রূপান্তরিত হয়েছে বাজেট সন্নিবেশ, অধিকতর স্বচ্ছতা এবং নির্ভুল ও শুদ্ধ হিসাব প্রণয়নের লক্ষ্যে। সে লক্ষ্যে অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার, সুপার, অডিটরের ডেক্স-এ আইবিএস ++ কানেকটেড কম্পিউটার সরবরাহ নিশ্চিত করা; দাপ্তরিক কাজে গতিশীলতা ও সচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে কর্মকর্তা/কর্মচারীগণকে প্রতি তিন বছর অন্তর বদলির বিষয়টি শক্তভাবে অনুসরণ করা।

পেনশন সংক্রান্ত কার্যক্রমকে স্বচ্ছ ও দ্রুত করার লক্ষ্যে পেনশন কেস ৫-৭ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করা, পেনশন সহজীকরণ বিধিমালা বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করা; উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা; বেতন-ভাতাসহ সব ধরনের বিল পরিশোধের বেলায় দায়িত্ব অবহেলা ও বিলম্বের জন্য দায়ী কর্মকর্তা/কর্মচারীর বিরুদ্ধে দায়-দায়িত্ব নিরূপন করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া; প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়, বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, জেলা হিসাব রক্ষণ অফিস ও উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস কর্তৃক সরকারি পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সংঘটিত অনিয়ম, দায়িত্ব অবহেলা ও দুর্নীতি মনিটরিংয়ের জন্য হিসাব মহানিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি ‘হট লাইন’ স্থাপন করা; ‘হট লাইনের’ মাধ্যমে প্রাপ্ত অভিযোগগুলো নিয়মিত পর্যালোচনা করে যথাযথ ও দৃঢ় ব্যবস্থা গ্রহণ করা; হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, অডিটর পর্যায়ে তথা সিদ্ধান্ত প্রদানকারী পর্যায়ে স্থানীয় কর্মকর্তা/কর্মচারী নিয়োগ না দেয়া; কোন এক স্টেশনে দীর্ঘকাল অবস্থান পরিহারের লক্ষ্যে কর্মকর্তা পর্যায়ে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত বদলি নিশ্চিত করা।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি