সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০



চসিক নির্বাচন নিয়ে বিএনপিতে গৃহবিবাদ


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
13.02.2020

নিউজ ডেস্ক: এখন থেকে সব নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন নিয়ে সংকটে পড়েছেন দলের নেতারা।

সর্বশেষ গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে তুমুল তর্ক-বিতর্ক হয়। সর্বশেষ তারেক রহমানের নির্দেশে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

তবে বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে বিএনপি একজন হেভিওয়েট প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিলো। এজন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং চট্টগ্রামের বিশিষ্ট নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু আমীর খসরু প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বিএনপির একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, দলীয় কোন্দল এবং মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে নির্বাচনে অনাগ্রহী আমীর খসরু। তিনি তার কর্মীদের জানিয়েছেন, সাংগঠনিকভাবে দলের এমন দুর্বল অবস্থায় নির্বাচনে যাওয়ার কোনো মানে হয় না। তাছাড়া ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি থেকেও শিক্ষা নিয়েছেন তিনি।

বিএনপি সূত্র জানায়, ঢাকাতে বিএনপির যে অবস্থা, চট্টগ্রামের অবস্থা তার চেয়েও খারাপ। সেখানে অনেক থানায় ঠিকমতো কমিটিই নেই। মহানগর কমিটির অবস্থাও নাজুক। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে নেই কোনো বৈঠক, সভা-সমাবেশ।

এদিকে আমীর খসরু নির্বাচনে অংশ নেয়ায় আগ্রহী না হলেও অনেক নতুন নেতা নিয়মিত লন্ডনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। শেষ পর্যন্ত যে তারেক রহমানকে সন্তুষ্ট করতে পারবে, সে-ই মনোনয়ন বাগাতে পারবে বলেও বিএনপির তৃণমূল মনে করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে লন্ডন প্রবাসী এক বিএনপি নেতা জানান, অনেকেই তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তারা মনোনয়নপত্র কিনবেন, তারপর বাকি বোঝাপড়া। মনোনয়ন বাণিজ্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে এই নেতা বলেন, মনোনয়ন বাণিজ্য আসলে মিডিয়ার প্রচার। দল চালাতে টাকা লাগে। সেই টাকা কে দেবে? তাছাড়া লন্ডনে বিএনপির অফিস, এখানে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকেন, তারও তো খরচাপাতি আছে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতা আবুল হাশেম বলেন, ডা. জাফরুল্লাহর পরামর্শই আসলে মেনে নেয়া উচিত। লন্ডন থেকে দল পরিচালনা করা কঠিন। মাঠের অবস্থা বুঝতে না পারলে রাজনীতি হবে না। চসিক নিয়ে যা হচ্ছে, তাতে শেষ পর্যন্ত ঢাকা সিটির চেয়ে ভালো কিছু হবে না। সিনিয়র নেতারা নির্বাচনে যেতে চাইছেন না, আবার জুনিয়ররা মনোনয়ন পাওয়ার জন্য লবিয়িং চালিয়ে যাচ্ছে। এভাবে নির্বাচন হয় না। আগে দল ঠিক করতে হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি