সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » খালেদা জিয়ার প্যারোলে আবেদন, পদত্যাগের সিদ্ধান্ত দলের শীর্ষ নেতাদের



খালেদা জিয়ার প্যারোলে আবেদন, পদত্যাগের সিদ্ধান্ত দলের শীর্ষ নেতাদের


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
14.02.2020

নিউজ ডেস্ক: দুর্নীতি মামলায় দুই বছরেরও অধিক সময় ধরে কারান্তরীণ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার মুক্তি নিয়ে দলের পক্ষ থেকে তেমন কোনো তৎপরতা নেই। ইতোমধ্যে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা তার মুক্তিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে সরে দাঁড়িয়েছেন। এমতাবস্থায় খালেদার পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেছেন তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার। কিন্তু এ বিষয়ে অবগত নন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, এটা অন্যায়। তাদের না জানিয়ে কেন এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া হলো?

জানা গেছে, খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির আবেদনের পর থেকেই দলের ভেতরকার চিত্র প্রকাশ হয়েছে। শীর্ষ জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপেক্ষা করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় যারপনাই ক্ষুব্ধ তারা। এমতাবস্থায় যে যার অনুসারীদের নিয়ে আলাদা আলাদা অবস্থানে যাওয়ার কথা ভাবছেন। কেউ কেউ বলছেন, দল ছেড়ে দেশের বাইরে চলে যাবেন। আবার কেউবা ব্যবসায় পুরোদস্তুর মনোনিবেশের কথা ভাবছেন।

খালেদা জিয়ার প্যারোল নিয়ে কথা হয় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্যারোলের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। শুধু আমি কেন, আমার ধারণা দলের কেউই জানেন না। পরিবারের পক্ষ থেকে এমন আবেদন করা ঠিক হয়নি। কারণ তিনি তো আমাদের দলের নেত্রী। একটাবার অন্তত বিষয়টি তারা আমাদের জানাতে পারতেন।

এ অবস্থায় তাহলে আপনাদের অবস্থান কী হবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবস্থান কী আর হবে। দলে গুরুত্বহীন বিবেচনায় আমি পদত্যাগ করবো। শুধু আমি নয়, এমন সিদ্ধান্তে আছে অনেকেই।

তবে এসব নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার। তিনি বলেন, এখনই সব কিছু বলা সম্ভব নয়। সময় হলেই বিস্তারিত জানানো হবে। তবে ছোট করে এতোটুকু বলতে পারি, দল যদি খালেদাকে মুক্ত করতেই চাইতো-তবে এতদিনে যেকোনো মূল্যে মুক্তি মিলতো। কিন্তু সেটা যেহেতু হয়নি, তাই ধরেই নেব- দলের সদিচ্ছা ছিলো না। এ কারণে পরিবারের পক্ষ থেকে এখন অগ্রসর হওয়া হয়েছে।

বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, প্যারোলের বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে খালেদার পরিবার ও দলের মধ্যে বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে। তৈরি হয়েছে নানা মত। এমতাবস্থায় দলের একাধিক নেতা বলছেন, যেহেতু তাদের মতামত ছাড়াই এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে তাহলে তাদের মূল্যায়নই করা হবে না। সে কারণে মহাসচিব পদ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলামসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে জ্যেষ্ঠ নেতারা অব্যাহতি নিয়ে রাজনীতিকে বিদায় জানাবেন।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক এ আরাফাত বলেছেন, মাঠের রাজনীতিতে বিএনপি ব্যর্থ একটি দল- এটি নতুন করে বলার কিছু নেই। সাংগঠনিকভাবে দলটি ভঙ্গুর- এটিও কারো অজানা নয়। কিন্তু নতুন খবর হলো, খালেদার প্যারোল আবেদনে দলটির শীর্ষ নেতারা পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। এটি একটি রাজনৈতিক দলের জন্য কতো বড় নেতিবাচক খবর, সেটা খোদ বিএনপির নেতাকর্মীরাও বুঝতে পারছে না।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি