মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » বিদেশ যাচ্ছেন বেগম জিয়া: চিকিৎসার নামে চাইবেন রাজনৈতিক আশ্রয়



বিদেশ যাচ্ছেন বেগম জিয়া: চিকিৎসার নামে চাইবেন রাজনৈতিক আশ্রয়


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
02.06.2020

নিউজ ডেস্ক: দুর্নীতি মামলায় ২ বছরের অধিক কারাবাসের পর সরকারের মহানুভবতায় গত ২৫ মার্চ মুক্তি পেয়ে রাজধানীর গুলশানের ভাড়া বাসায় হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বাসায় থেকেই তিনি দলীয় চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু এই চিকিৎসায় সন্তুষ্ট না হতে পারায় এবার যুক্তরাজ্যে উন্নত চিকিৎসা নেয়ার চিন্তা করছেন খালেদা জিয়া। পাশাপাশি সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসেরও চিন্তা রয়েছে তার।

বিএনপি চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠ একাধিক গোপন সূত্রের বরাতের এমন তথ্য জানা গেছে। পুরো পরিবার লন্ডনে থাকায় দেশে মন টিকছে না বিএনপি নেত্রীর। জীবনের বাকিটা সময় তিনি পরিবারের সাথে লন্ডনে কাটাতে চান, নিতে চান উন্নত চিকিৎসা। যার কারণে গত ৩০ মে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এই ইচ্ছার বিষয়ে অবগত করেছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক আশ্রয়ের নামে দেশটিতে কিভাবে স্থায়ীভাবে থাকা যায় সেই বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করতে তারেক রহমানকে নির্দেশ দিয়েছেন বেগম জিয়া। এছাড়া আইনের কোন ধারায় উন্নত চিকিৎসার নামে বিদেশ যাওয়া যাবে এবং সেখানে গিয়ে কিভাবে দীর্ঘদিন থাকা যাবে-সেই বিষয়ে আইনি পরামর্শ দিতে দলের সিনিয়র আইনজীবীদের পরামর্শও চেয়েছেন বিএনপি নেত্রী। দলের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে অনেকটাই বাধ্য হচ্ছেন বেগম জিয়া। তার অবর্তমানে তার প্রতিনিধি হয়ে দেশে বিএনপিকে নেতৃত্ব দেবেন মির্জা ফখরুল। বেগম জিয়া লন্ডন থেকে দেবেন ছায়া নেতৃত্ব।

এদিকে বিএনপি নেত্রীর গুলশানের ভাড়াবাড়ি ‘ফিরোজা’র ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, দেশে আর থাকতে চান না বেগম জিয়া। নিজের শারীরিক অবস্থা ও দলের ভঙ্গুরদশায় হতাশ হয়েই তিনি লন্ডনে চিকিৎসার নামে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারেক রহমানকে তার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। বেগম জিয়ার এমন ইচ্ছার কথা জেনেই ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে বিএনপি-জামায়াতের আস্থাভাজন আইনজীবী লর্ড কার্লাইলের সাথেও পরামর্শ করেছেন তারেক। কোন ধারায় এবং কোন কৌশলে বেগম জিয়াকে লন্ডনে নিয়ে আসা যায় তা জানাতে তারেকের কাছে সময়ও চেয়েছেন লর্ড কার্লাইল।

নতুন এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে নিজের কথিত আপোষহীন ও দেশপ্রেমিক তকমাকে বিতর্কিত করতে যাচ্ছে বেগম জিয়া, এমন গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। নিজের প্রাণের মায়ায় এম মোরশেদ খানের মতো বিদেশ পালানোর এই কৌশলে রাজনীতিতে বিএনপি নেত্রীর আরো বদনাম হবে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি