মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০



পুতুল নয়, ক্যারিশমেটিক মহাসচিব চায় বিএনপির তৃণমূল


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
09.09.2020

নিউজ ডেস্ক: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হলেও তার সাংগঠনিক দক্ষতা নেই বলে মনে করেন দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। জানা গেছে, পুতুল মহাসচিব নয়, ক্যারিশমেটিক মহাসচিব চায় বিএনপির তৃণমূল।

তারা বলেন, অতীতে বিএনপিতে আব্দুস সালাম তালুকদার, খন্দকার দেলোয়ার হোসেন, মান্নান ভূঁইয়াসহ আরো অনেকেই মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা ক্যারিশমেটিক লিডার ছিলেন। তাদের মাধ্যমে যেকোনো সময় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের একটা সম্ভাবনা থাকতো। কিন্তু বর্তমান মহাসচিবের সেই কর্মদক্ষতা নেই। তিনি দলের মধ্যে একজন পুতুল মহাসচিবের ভূমিকায় কাজ করছেন। দলে তার ভূমিকা ডাকবাক্সের মতো।

লন্ডন থেকে যে নির্দেশ আসে, সেটা নিয়েই বর্তমান মহাসচিবকে কাজ করতে হয়। বিদেশ থেকে যে বার্তা আসবে তা নিয়েই তাকে কাজ করতে হবে। কিন্তু ওই বার্তা যে রাজপথের আন্দোলনে কোন সুবিধা করতে পারবে না সেটি দলের সাধারণ নেতা-কর্মীরাও জানেন।

দলটির একাধিক স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নীতিনির্ধারকরা বলেন, বর্তমান মহাসচিবের নেতৃত্বে দল এতোটাই এলোমেলো যে বিগত সময়ে বিএনপির সহযোগী ছাত্রদল, যুবদলসহ যেসব সংগঠনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তা নিয়ে হাঙ্গামা হয়েছে। অফিসের সামনে নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছে। নেতাদের অবরুদ্ধ রেখেছেন। এমন কি নেতাদের অনেকেই জানেন না কীভাবে এসব কমিটি হয়, কারা কমিটির নেতৃত্বে আসেন। অথচ এর দায় এসে পড়ে তাদেরই উপর।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের একাধিক সিনিয়র নেতা বলেন, বর্তমান মহাসচিবের সাংগঠনিক কোনো দক্ষতা নেই। তিনি এককভাবে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারেন না। পদ-পদবি হারানোর ভয়ে তিনি কোনো রকম মুখ খোলেন না।

তারা বলেন, এছাড়াও তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। আমরা দেখেছি ইতিপূর্বে অনেক মহাসচিব ছিলেন তারা দলের দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। একক সিদ্ধান্তে দলকে সংকটমুক্ত করেছেন। কিন্তু বর্তমান মহাসচিবের সেই কর্মদক্ষতা নেই।

তারা আরো বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি আরো অনেক আগেই হতো। বর্তমান মহাসচিবের রাজনৈতিক অদক্ষতার কারণে তার মুক্তি এতো বিলম্বিত হয়েছে। তিনি নিজেই হতাশাগ্রস্ত ছিলেন, কীভাবে এই সংকট থেকে বিএনপিকে মুক্ত করবেন। তিনি কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারেন না। তিনি কোনো আশ্বাস দিতে পারেন না। তিনি নেতা-কর্মীদের কোনো সাহস জোগাতে পারেন না। শুধু রাজনীতির মাঠে ফুল ছড়ানো বক্তব্য দিলেই নেতা হওয়া যায় না। নেতা হতে হলে সাংগঠনিক দক্ষতার প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বিএনপিপন্থী রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বুদ্ধিজীবীরা বলেন, মির্জা ফখরুল তো বিএনপিতে একটি পুতুল মহাসচিব। তার আলাদা কোনো ক্ষমতা নেই। তিনি ইচ্ছা করলে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।

তারা বলেন, তিনি হলেন বিএনপির একজন অভিভাবক কিন্তু দুঃখের বিষয় হল তিনি তার সেই পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা দিতে পারেন না। মানববন্ধনের কর্মসূচির মতো একটা অনুষ্ঠানে যদি তার কোলের মধ্যে থেকে কর্মীকে ছিনিয়ে নেয়া হয় তাহলে তার প্রতি কর্মীদের কি আস্থা থাকতে পারে?

বিএনপি মহাসচিবকে উদ্দেশ্য করে তারা বলেন, লন্ডন থেকে পাঠানো বার্তার জন্য বসে থাকবেন না। সংকটপূর্ণ মুহূর্তে একক সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা করুন। দল পরিচালনা করবেন নিজের দক্ষতায়। বিএনপিতে অনেক দক্ষ ও চৌকস নেতা আছে। তাদের বসিয়ে না রেখে দায়িত্ব দিন। লন্ডনের বার্তা নিয়ে আন্দোলনে সফল হওয়া যাবে না। প্রত্যেকেই বিএনপিকে নিজের ভাবার চেষ্টা করুন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি