শুক্রবার ২ অক্টোবর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » other important » হঠাৎ কেন সব নির্বাচনে অংশ নিতে চায় বিএনপি, নেপথ্যে কি শুধু বাণিজ্য?



হঠাৎ কেন সব নির্বাচনে অংশ নিতে চায় বিএনপি, নেপথ্যে কি শুধু বাণিজ্য?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
10.09.2020

নিউজ ডেস্ক: প্রেসব্রিফিং, মানববন্ধন ও অভিযোগের রাজনীতি থেকে বের হয়ে এখন থেকে স্থানীয় সরকারসহ সব উপ-নির্বাচনের অংশ নেয়ার কথা জানিয়েছে বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতারা বলছেন, রাজনীতির মূলধারায় ফিরতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিকল্প নেই, যার কারণে এই সিদ্ধান্ত। তবে দলের দুর্দশায় হঠাৎ করে সকল ধরনের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা নিয়ে দলটির অভ্যন্তরে চলছে নানা আলোচনা। অনেকেই বলছেন, জনসমর্থন কমে যাওয়ায় পরাজয় জেনেও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে দলীয় ফান্ড গঠন, মনোনয়ন বাণিজ্য।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বিএনপির নির্বাহী কমিটির কয়েকজন সিনিয়র নেতা বলেন, দলের যে অবস্থা তাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের চেয়ে দলকে পুনর্গঠিত করা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তৃণমূল থেকে সকল পর্যায়ে দল সুসংগঠিত করেই নির্বাচনে যাওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হতো। কিন্তু দলকে অসংগঠিত রেখে এই মুহূর্তে নির্বাচনে যাওয়াটা বোকামি। কারণ ভঙ্গুর দল নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বারবার পরাজিত হলে দলের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। যদিও সিনিয়র নেতারা বলছেন, মূলধারার রাজনীতিতে ফিরতেই বিএনপি সকল প্রকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু হাইকমান্ডের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে তৃণমূলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়ে তাদের আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতির মুখে ফেলছে দল। নির্বাচনে জয়ী হতে জনমত প্রয়োজন, কিন্তু বিগত এক দশকে দেশব্যাপী সেই জনমত গড়ে তুলতে পারেনি বিএনপির হাইকমান্ড। তাই এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা মানেই নিশ্চিত পরাজয়। আবার নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে চলে অর্থবাণিজ্যের খেলা। নির্বাচনে পরাজিত হয়ে অর্থ ও সম্মান হারান নেতারা। আর এই সুযোগে মনোনয়ন বাণিজ্য করে কোটিপতি হয়ে ওঠেন গুটিকয়েক দায়িত্বশীল নেতা। সুতরাং রাজনীতিতে সরূপে ফিরতে হলে বিএনপিকে নির্বাচনের চিন্তা বাদ দিয়ে দলকে সুসংগঠিত করার পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে।

নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, বিএনপিকে রাজনীতিতে জনসমর্থন ফিরে পেতে হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঝুঁকিটুকু নিতে হবে। তবে দলকে অগোছালো রেখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাটাও সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না। মনোনয়ন বাণিজ্য নিয়ে তৃণমূলে নেতিবাচক ধারণাও রয়েছে, সেটি দূর করাটাও চ্যালেঞ্জিং। এসব বিষয় নিয়ে হাইকমান্ডকে ভাবতে হবে। নির্বাচনের নামে একজনের সর্বনাশ করে অন্যজনের পৌষ মাসের ব্যবস্থা করাটা সমীচীন হবে না। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার জন্য হাইকমান্ডের প্রতি আমার বিশেষ আহ্বান রইলো।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি