শুক্রবার ২ অক্টোবর ২০২০



ইউএনও’র উপর হামলা : শিবিরের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সন্দেহ


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
10.09.2020

নিউজ ডেস্ক : দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলা চালায় দুজন তরুণ। সিসি টিভির ফুটেজ বলছে, হামলাকারীরা গড়নে হালকা স্বাস্থ্যের। হাতুড়ি জাতীয় কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে ওয়াহিদা খানমের মাথায়। অপরাধীদের চিহ্নিত করা না গেলেও যেভাবে চোরাগোপ্তা হামলা করা হয়েছে তাতে স্থানীয় এই হামলার সাথে জড়িতরা পূর্বে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি করতো বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর হামলা করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও জামায়াত-শিবিরের পুনরুত্থানের বার্তা ছড়াতে এই হামলা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

একাধিক গোপন সূত্র বলছে, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলাটি জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত এলাকা। এখানে এখনও জামায়াত-শিবিরের গোপন তৎপরতা রয়েছে বলেও জানা গেছে। বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে জামায়াত-শিবিরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিল অত্র উপজেলার মানুষ। তবে বিগত ৫ বছর ধরে এই অঞ্চলে প্রকাশ্যে কোন কার্যক্রম পরিচালনা না করলেও গোপনে ঠিকই জামায়াতের তৎপরতা ছিলো। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে অপাংক্তেয় হয়ে পড়া জামায়াত পুনর্জাগরণে এই ধরনের চোরাগোপ্তা হামলা করতে পারে বলেও সন্দেহ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর হামলা করে তাদের নিরাপত্তা দিতে সরকারের কথিত ব্যর্থতার বিষয়টি তুলে ধরতে কৌশলে এই হামলা চালিয়েছে জামায়াত-শিবির। পাশাপাশি প্রশাসনে কর্মরতদের মাঝে ভীতি সঞ্চার করে তাদের দায়িত্ব পালন থেকে দূরে রাখতে পরিকল্পিত এই হামলা চালিয়েছে জামায়াত-শিবির চক্র। জঙ্গি স্টাইলে অত্যন্ত সুচারুভাবে এই হামলার কেবল প্রশিক্ষিত জামায়াত-শিবির জঙ্গিরাই করতে পারে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, হঠাৎ করে উদ্দেশ্যহীনভাবে কেবল চুরি-ডাকাতি করতে এই হামলার ঘটনা ঘটেনি। নির্দিষ্ট কোন উদ্দেশ্য সাধনে ও কোন ম্যাসেজ দিতেই এই হামলা চালিয়েছে তারা। হামলার ধরণ দেখে মনে হচ্ছে, প্রশিক্ষিত ও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালিয়ে প্রশাসনে ভীতি সঞ্চার করতে চায়। হামলার ধরন দেখে মনে হচ্ছে জামায়াত-শিবির এই হামলার সাথে জড়িত। কারণ ঘোড়াঘাট উপজেলায় জামায়াত-শিবিরের তৎপরতা বেশি। তাই হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে এই হামলার পেছনের মোটিফ জানতে হবে সরকারকে। আগামীতে যেন আর কেউ এই ধরনের হামলার শিকার না হয় সেই ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি