শুক্রবার ২ অক্টোবর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » other important » নবীকে নয়, সালাহউদ্দিনকে মনোনয়ন, ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা



নবীকে নয়, সালাহউদ্দিনকে মনোনয়ন, ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
14.09.2020

নিউজ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নবী উল্লাহ নবীকে বাদ দিয়ে ঢাকা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে দলের বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। আর আতঙ্কের কারণ নবী উল্লাহ নবীকে মনোনয়ন না দেওয়ায় খুশি ক্ষমতাসীনরা।

বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৪ আসন থেকে অংশ নেয়া সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা তো দূরের কথা মাঠে নামারও সাহস পাননি। নির্বাচনের দিন সকাল বেলায় মার খেয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ভোট পান ২০ হাজারেরও কম।

রাজনীতির মাঠে সালাহউদ্দিন আহমেদ ‘দৌড় সালাহউদ্দিন’ নামে পরিচিত। ২০০৩ সালে পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানের দাবিতে সালাহউদ্দিনের নির্বাচনী এলাকার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। ক্ষোভে ফুঁসে ওঠা মানুষকে বিক্ষোভ বন্ধের হুমকি দিলে তখনকার এমপি সালাহউদ্দিনকে ধাওয়া দেয় জনতা। তিনি দৌড়ে এলাকা ছাড়েন- এমন ছবি পত্রিকায় প্রকাশিত হলে ‘দৌড় সালাহউদ্দিন’ নাম মানুষের মুখে মুখে ছড়ায়।

এদিকে ২০১০ সালে গত ২৮ জানুয়ারি দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশ না মানায় তাকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল। ওই বছরের ২৭ জানুয়ারি তৎকালীন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ ডাকেন। একই দিন মহানগরীর থানায় থানায় বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দেন সালাহউদ্দিন ও মিরপুরের সাবেক এমপি এস এ খালেক। খোকার সমাবেশ ভণ্ডুল করতে এই পাল্টা কর্মসূচি দেয়ার অভিযোগ উঠলে ক্ষুব্ধ খালেদা জিয়া বহিষ্কার করেন সালাহউদ্দিনকে।

রাজধানীর প্রবেশদ্বারখ্যাত ঢাকা-৫ আসনে গত নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিলেন নবী উল্লাহ নবী। সার্বক্ষণিক চষে বেড়িয়েছেন এলাকার মাঠ-ঘাট। যেখানে দলের হেভিওয়েট নেতাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল, সেখানে ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিলেন তিনি। শক্তিশালী প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও নবী উল্লাহ নবীকে প্রার্থী ঘোষণা না করায় প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ শিবিরে খুশির বন্যা বইতে শুরু করেছে। কারণ, এ এলাকায় ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগে কোন্দল। এ কারণে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনিরুল ইসলাম মনুও কিছুটা আতঙ্কিত ছিলেন। আর প্রার্থী হিসেবে নবী উল্লাহ নবী আতঙ্কের কারণ আওয়ামী লীগের জন্য।

নবী উল্লাহ নবীকে মনোনয়ন না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করছেন, নেতৃত্বের দুর্বলতায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যেহেতু ঢাকা-৫ আসনে নবী উল্লাহ নবী গত নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিলেন সেহেতু এই আসনে শক্তিশালী প্রার্থী তিনিই। তাছাড়া সালাহউদ্দিন আহমেদ রাজধানীর শ্যামপুর এলাকার বাসিন্দা। গত এক দশক এ আসনে সালাহউদ্দিন আহমেদের কোনো সাংগঠনিক তৎপরতাও কারও চোখে পড়েনি। তাই উপ-নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট কেন্দ্রে ভোটার টানা অসম্ভব বলে মনে করছেন সবাই। একজন ভাড়াটে ব্যক্তিকে প্রার্থী করায় দলীয় নেতাকর্মীর কাছে আস্থাও হারাচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড। কর্মীরা চলছে, এরই নাম বিএনপি। যেখানে মেধা, শ্রম ও যোগ্যতার কোন মূল্য নেই।

আর নবী উল্লাহ নবী একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাংগঠনিক অবস্থা শক্তিশালী করেন। প্রতিটি সেন্টারে নিজস্ব কর্মী বাহিনী তৈরি মাধ্যমে প্রায় ৭০ হাজার ভোট পান। নির্বাচনে তিনি পরাজিত হলেও একদিনের জন্য মাঠ ছেড়ে যাননি। নেতাকর্মীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। এমনকি ঢাকা সিটি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের প্রচারণায় মাঠ ঘাট চষে বেড়িয়েছেন নবী উল্লাহ নবী। বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালেও তিনি নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অত্র এলাকায় অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এরপরও তাকে বাদ দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদকে মনোনয়ন দেয়ায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করছেন এখনও যেহেতু সময় আছে সেহেতু সালাহউদ্দিন আহমেদকে পরিবর্তন করে নবী উল্লাহ নবীকে বিএনপির প্রার্থী করা হোক। এতে দলের মঙ্গল হবে।

ঢাকা মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে বিশেষ করে ডেমরা-যাত্রাবাড়ী এলাকায় তার বেশ প্রভাব রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে ওই এলাকায় তার অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। নবীর রাজনৈতিক জীবনের শুরু জিয়াউর রহমানের সময়ে। ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের গঠিত জাগো দলের যুব শাখার বৃহত্তর ডেমরা থানার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। এরপর বিএনপির ডেমরা-যাত্রাবাড়ী থানার সভাপতি ছিলেন প্রায় ২৫ বছর।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি