মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » সংঘর্ষের ঘটনায় হতাশ বিএনপির হাইকমান্ড



সংঘর্ষের ঘটনায় হতাশ বিএনপির হাইকমান্ড


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
14.09.2020

নিউজ ডেস্ক: উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুলশানে দলের চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে ঢাকা-১৮ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সংঘর্ষের ঘটনায় হতাশ বিএনপির হাইকমান্ড।

তারা বলেন, দলের এই ক্রান্তিকালে নিজেদের মধ্যে প্রকাশ্যে এমন হাতাহাতি বা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দেশের মানুষ এই বিষয়কে কখনো ইতিবাচকভাবে দেখবে না। এসব কর্মকাণ্ড দলের মধ্যে আরো হতাশা বৃদ্ধি করে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা বলেন, মূলত দলের শৃঙ্খলার অভাবের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। যা দলের এ দুঃসময়ে খুবই দুঃখজনক।

তিনি বলেন, মাঠের রাজনীতিতে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতারা আজ নিষ্ক্রিয়। দলীয় কর্মসূচি দেয়া হলেও নেতাকর্মী খুঁজে পাওয়া যায় না। ফোনেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না। আর এখন মনোনয়নের সময় নেতাকর্মীর অভাব হয় না। এ অবস্থার মধ্যেই চলছে বিএনপির সব কার্যক্রম। ব্যক্তি স্বার্থের জন্য এরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করতে পারে। অথচ দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারে না।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বুদ্ধিজীবীরা বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকায় দলের মধ্যে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে বিএনপিতে। এখন আর কেউ কারো কথা শুনতে চায় না। দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ সব কমিটি থাকায় কাউকে নেতাও মানতে চান না কেউ। এসব নিয়েই দলটির মধ্যে বিভিন্ন রকম হতাশার জন্ম নিয়েছে। পল্টন, গুলশান অফিসের সামনে বিএনপি নেতাদের নিজেদের মধ্যে হামলার ঘটনা তারই বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন তারা।

গতকাল শনিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের ভেতরে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার চলার সময়ে বাইরে ঢাকা-১৮ আসনের দুই প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, মনোনয়ন প্রত্যাশী এসএম জাহাঙ্গীরের কর্মী-সমর্থদের উপরে অতর্কিত হামলা চালালে এম কফিল উদ্দিন আহম্মেদের দুই সমর্থকের মাথা ফেটে যায় এবং আরো প্রায় ১৫ জন আহত হয়।

পরে বিএনপির অপর চারজন মনোনয়ন প্রত্যাশীর সমর্থকরা এক হয়ে জাহাঙ্গীর সমর্থকদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। যদিও জাহাঙ্গীর সমর্থকরা তাদের উপর আগে হামলা চালানোর কথা দাবি করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কফিল সমর্থকরা প্রথমেই গুলশান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিলে জাহাঙ্গীর সমর্থকরা তাদের হটিয়ে সেই জায়গায় অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। এ ঘটনার পর মনোনয়ন প্রত্যাশী বাহাউদ্দিন সাদি, মুস্তাফিজুর রহমান সেকুন, হাজী মোস্তফা ও আক্তার হোসেনের সর্মথকরা এক হয়ে জাহাঙ্গীর সমর্থকদের প্রতিরোধ করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী কফিল উদ্দীন বলেন, আমার কর্মী-সমর্থকরা যেন গুলশানে না দাঁড়াতে পারে, পল্টনে না দাঁড়াতে পারে এ কারণেই এস এম জাহাঙ্গীরের লোকেরা আমার কর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের হামলায় আমার ১২ জন কর্মী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই পাশাপাশি দলের হাইকমান্ডের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

এর আগে ঢাকা-১৮ আসনে উপ-নির্বাচনে যুবদল নেতা এসএম জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন না দিতে দলের হাইকমান্ডের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন বিএনপি সমর্থিত ৮ কাউন্সিলর প্রার্থী। আবেদনকারীরা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি