সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » খালেদা যাবে, তারেক আসবে কিন্তু ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না বিএনপি!



খালেদা যাবে, তারেক আসবে কিন্তু ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না বিএনপি!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
14.09.2020

দুর্নীতি, অপকর্ম, ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতিবাচক চরিত্র হয়ে উঠেছেন বিএনপি নেত্রী বেগম জিয়া ও তারেক রহমান। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, সীমাহীন লুটপাটের কারণে দেশ-বিদেশে সমর্থন হারিয়েছে বিএনপি। এখন গুঞ্জন উঠেছে, বেগম জিয়া সরে যাবেন-তারেক রহমান বিএনপির পুরোপুরি দায়িত্বভার নেবেন। এতে জেগে উঠতে পারে বিএনপি। কিন্তু তারেক কি বিএনপিকে পুনর্জাগরিত করতে পারবেন-এমন প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।

জানা গেছে, দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ, দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম এবং বিএনপিপন্থী বিদেশি রাষ্ট্রগুলোও তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল নয়। ২০১৫ সালের প্রথমদিকে তিনমাসব্যাপী যে অরাজকতা চলছিল, সেটি ছিল তারেকের ওপর জামায়াতের চাপের ফল। সরকার পরিবর্তন নিয়ে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার বাহিনী এবং দলটির নিয়োগকৃত লবিস্টরা যতটা বেপরোয়া ছিল, তার সিকিভাগও বিএনপির কোনো স্তরে দেখা যায়নি। সাংগঠনিকভাবে বিএনপির দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা মানেই ফ্যাসিস্ট জামায়াতের সাংগঠনিক সফলতা। আর বিএনপি ও ২০ দলীয় রাজনীতিতে গুঞ্জন প্রচলিত রয়েছে যে-সাজার কারণে বেগম জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের ইতি ঘটেছে। সুতরাং অনিচ্ছা, অনাগ্রহতা ও বিতর্কের সত্ত্বেও তারেকই হচ্ছেন বিএনপির সর্বেসর্বা। কিন্তু এতেও নিষ্ক্রিয় বিএনপি সক্রিয় হতে পারবে না বলেও শঙ্কা প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিএনপি জনগণের চেয়ে বিদেশি শক্তিগুলোকে দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হওয়ার অন্যতম হাতিয়ার মনে করে। তারা ১৯৭৮ সালের হ্যালুসিনেশনে ভুগছে। বিএনপি যে দশকের পর দশক মিথ্যাচার করে আসছে, তা থেকে পুরোপুরি বের হয়ে আসতে হবে। গুজব আর ষড়যন্ত্র-নির্ভর রাজনীতি পরিহার করা দরকার। হেফাজতের সমাবেশের হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি, অমিত শাহের সঙ্গে মিথ্যা ফোনালাপের দাবি, কংগ্রেসম্যানদের স্বাক্ষর জাল করে সরকারবিরোধী বিবৃতিদান, ১৫ আগস্ট দলীয় প্রধানের ‘তথাকথিত’ জন্মদিন পালনের মতো বালখিল্যতা থেকে দলটিকে নিবৃত রাখার মানসিকতাও গঠন করতে হবে। বহু-আদর্শিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বশীল বিএনপি নামক প্ল্যাটফর্মে একটি বড় অংশ রয়েছে যা আদর্শিকভাবেই বিএনপিতে জামায়াতের প্রতিনিধি। কয়েক বছর আগেও তাদের যে সকল নেতা-কর্মী উদার চিন্তা করতেন, আজকাল তাদের কর্মকাণ্ড ও চিন্তাধারা দেখে বুঝা বেশ দুরূহ যে, তারা জামায়াতের রাজনীতি করে নাকি বিএনপির।

সন্ত্রাস, দুনীতি, জঙ্গি রাজনীতির প্রতি কৌশলগত মনোভাব, ব্যক্তিগত আচার-আচরণ সব মিলেই তারেক রহমান এমন এক ব্যক্তিত্বের অধিকারী, যা দিয়ে আওয়ামী লীগবিরোধী চল্লিশ শতাংশ ভোটের প্রতিনিধিত্বশীল কাঠামোতে নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগের মতো একটি কর্মতৎপর সংগঠনের মোকাবেলা করার জন্য যে বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনীতির চর্চা বিএনপির বিভিন্ন স্তরে আবশ্যক সেটি নিশ্চিত করার মতো যোগ্যতা তার নেই। কোনো ইস্যুতেই বিএনপি জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পারেনি। বিএনপি আজও মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে পারেনি। এজন্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম বিএনপি ক্ষমতার বাইরে থাকবে এবং একটা সময়ে কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে বিএনপি।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি