সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » পৌরসভা নির্বাচন: বিত্তশালীদের কাছে কি হেরে যাবেন বিএনপির পরীক্ষিতরা?



পৌরসভা নির্বাচন: বিত্তশালীদের কাছে কি হেরে যাবেন বিএনপির পরীক্ষিতরা?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
15.09.2020

আগামী ডিসেম্বরে দুই শতাধিক পৌরসভায় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকারসহ সব নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। স্থানীয় নির্বাচনে দলীয়ভাবে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে দলটি। জানা গেছে, এক্ষেত্রে ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মতামত নেয়ার সম্ভাবনা কম। তবে মনোনয়ন দেয়া নিয়ে শুরু হয়েছে নানা ঝামেলা। সংসদ নির্বাচনে বঞ্চিতরা নাকি স্থানীয় পোড় খাওয়া ও পরীক্ষিত নেতা- কারা মনোনয়ন পাবে সেটি নিয়ে নির্ধারিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বিএনপির হাইকমান্ড।

তবে সংসদ নির্বাচনে বঞ্চিত ও পরীক্ষিতরা পুনরায় স্থানীয় নির্বাচনের মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হবেন, অর্থের কাছে হেরে যাবেন এবং হাইব্রিড-অতিথি বিত্তশালীরা পুনরায় অর্থের জোরে মনোনয়ন বাগিয়ে নিবে বলেও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও বিএনপির হাইকমান্ডের দাবি, অর্থ-বিত্ত দেখে নয় বরং জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হবে। তবে হাইকমান্ডের এমন আশ্বাসে আস্থা রাখতে পারছেন না বিএনপির প্রবীণ ও বঞ্চিত স্থানীয় নেতারা। তারা বলছেন, বিএনপির শীর্ষ নেতারা জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন দেয়ার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন বাগিয়ে নেবেন হাইব্রিড ও বিত্তশালী অতিথি নেতারাই। আর এটি হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো পৌরসভা নির্বাচনেও চরম ভরাডুবি হবে বিএনপি প্রার্থীদের।

পরিচয় গোপন রেখে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি নেতাদের দাবি, মামলা-জেল জুলুমের শিকার হলেও দলের তরফ থেকে এখন অবধি মূল্যায়ন পাননি তারা। পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়ন পেলে তাদের অন্তরজ্বালা কিছুটা হলেও মিটবে। কিন্তু বিএনপি নীতি-নির্ধারকরা মুখে এক কথা অন্তরে আরেক কথা পুষে রাখেন। যোগ্য ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করার কথা বললেও অর্থ-বিত্তের কাছে এসব আশ্বাস মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে অনেকবার। হঠাৎ করে পয়সা ছিটিয়ে অজনপ্রিয়, অদক্ষ ও হাইব্রিড নেতারা মনোনয়ন বাগিয়ে নেন আর পরীক্ষিতরা বরাবরই বঞ্চিত থাকেন। দলের এই নীতি পরিবর্তন করা দরকার নতুবা পৌরসভা নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে বিএনপি। যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দিলে তৃণমূল বিএনপিও চাঙ্গা হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে মনোনয়ন বাণিজ্য ও অর্থের প্রলোভন থেকে বিএনপিকে বেরিয়ে আসতে হবে। আর এটি না করতে পারলে শুধু তৃণমূল নয় বিএনপির সকল স্তরে বিভেদ, কোন্দল ও সংঘাত বাড়বে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

এই বিষয়ে বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণেই নির্বাচন এলে বেড়ে যায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল। যেকোনো নির্বাচনে জয়ী হতে হলে যোগ্য ও পরীক্ষিত নেতাদের মনোনয়ন দিতে হবে তারেককে। আর যোগ্য নেতাদের মনোনয়ন না দিলে বিভেদ বাড়বে দলে। তাই বিভেদ মেটাতে আর্থিক লেনদেন থেকে বেরিয়ে আসতে হবে বিএনপিকে। পৌরসভা নির্বাচনে অযোগ্যদের মূল্যায়ন করলে বড় ভুল হবে। দলকে টিকিয়ে রাখতে হলে অন্তত মনোনয়ন বাণিজ্যে জড়ানো যাবে না তারেককে। তৃণমূল ভেঙে গেলে দলের কোমর ভেঙে যাবে, সেটি খেয়াল রাখতে হবে বিএনপির নীতি-নির্ধারকদের।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি