বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২০



ঢাকা-১৮ আসনের উপ-নির্বাচনকে ঘিরে কোন্দলে বিএনপি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
20.09.2020

নিউজ ডেস্ক: আসন্ন ঢাকা-১৮ আসনের উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি, কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে একে অপরের প্রতি পাল্টাপাল্টি অভিযোগপত্র দেয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে হাস্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে দলটি। এর ফলে বিব্রত দলটির সিনিয়র নেতারাও।
জানা গেছে, আসন্ন উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকারে হামলা ও আহতের ঘটনায় এস এম জাহাঙ্গীরকে অভিযুক্ত করে সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করেছেন উত্তর থানা বিএনপির ৭ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী।

এ আসনে বিএনপির নয়জন নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী। এর মধ্যে মুস্তাফিজুর রহমান সেগুন, এম কফিল উদ্দিন আহমেদ, ইসমাইল হোসেন, আখতার হোসেন মোস্তফা কামাল, বাহাউদ্দিন সাদি ও আব্বাসউদ্দীন লিখিতভাবে অভিযোগ করেন।

অভিযোগপত্রে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বলেন, গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎকারে প্রায় সব মনোনয়ন প্রত্যাশীর সমর্থকরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিল। এ সময় মনোনয়ন প্রত্যাশী এস এম জাহাঙ্গীর বাহিনী লাঠি নিয়ে আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী এম কফিল উদ্দিনের সমর্থকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা করে। এতে কয়েকজন মারাত্মকভাবে আহত হন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

এর আগে ৭ কাউন্সিলর প্রার্থী তাকে মনোনয়ন না দেয়ার বিষয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দেয়। অপরদিকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে ঢাকা-১৮ আসনের অন্তর্গত সাতটি থানার বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সমর্থনের কাগজপত্র জমা দেয় এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

দলীয় সূত্র মতে, ঢাকা-১৮ আসনের উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়িতে চরম হতাশ হয়েছেন দলের সিনিয়র নেতা-কর্মীরা। তাদের মতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তিকে নষ্ট করে। দলের গ্রহণযোগ্যতা কমিয়ে দেয়, নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বললেও ভেতরে ভেতরে এই ঘটনাটি নিয়ে দলের মধ্যে প্রচুর সমালোচনা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পর্যায়ের এক নেতা বলেন, এস এম জাহাঙ্গীর ও এম কফিল উদ্দিন আহমেদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাটি এখন বিএনপির আলোচনার মূল ইস্যু।

তিনি বলেন, দলীয় কর্মসূচি ডাকা হলে সেখানে নেতা-কর্মী খুঁজে পাওয়া যায় না। খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন কর্মসূচিতেও নেতা-কর্মী খুঁজে পাওয়া যায় না। তাহলে নির্বাচন আসলে মনোনয়নের জন্য নেতা-কর্মীদের এই স্রোত কোথা থেকে আসে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকায় বিএনপি কর্মীদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ভঙ্গুর সাংগঠনিক অবস্থা কারণে দলটিতে এখন আর শৃঙ্খলা নেই।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি