বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » other important » জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার জিয়া আমলের উত্থান



জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার জিয়া আমলের উত্থান


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
15.10.2020

নিউজ ডেস্ক: জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার জিয়া আমলের উত্থান হয়েছিল। তথ্যসূত্র বলছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে যুক্তরাজ্যে একটি অনুসন্ধান কমিশন গঠিত হয়েছিলো। তদন্তের জন্য কমিশনের সদস্যরা বাংলাদেশে আসতে চাইলে বাধা দিয়েছিলেন তৎকালীন সামরিক স্বৈরাচার জিয়াউর রহমান।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন জিয়াউর রহমান। ১৯৮১ সালে বিদেশি এই কমিশনের সদস্যদের বাধা দেওয়ার সময় বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি ছিলেন জিয়াউর রহমান।

১৯৮২ সালের ২০ মার্চ যুক্তরাজ্যের এই কমিশন তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়াকে তার নিজস্ব পথে এগোতে দেওয়া হয়নি। আর এজন্য কমিশন সে সময়ের সরকারকে দায়ী করে, যে সরকারের প্রধান ছিলেন জিয়াউর রহমান।

স্বাধীন এই অনুসন্ধান কমিশন জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের বিচার পাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু জিয়াউর রহমান কমিশনের আহ্বান আমলে নেননি।

১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার মাত্র চার বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার মহান নায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। ওই সময় বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ইউরোপে থাকায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। একদল উচ্ছৃঙ্খল সেনাসদস্য এই হত্যাকাণ্ড ঘটালেও এর পেছনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ছিল বলে নানা দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন জিয়াউর রহমান। এর মাধ্যমে জাতির পিতা হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ আটকে দিয়েছিলেন তিনি। তখন প্রবাসে থাকা বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য এবং জেল হত্যাকাণ্ডের শিকার জাতীয় চার নেতার পরিবারের সদস্যদের আবেদনের প্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যে এই কমিশন গঠিত হয়েছিল। এছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে সমাবেশ থেকে ওঠা দাবিও কমিশন গঠনে ভূমিকা রেখেছিল।

অনুসন্ধান কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য স্যার টমাস উইলিয়ামস, সদস্য ছিলেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক প্রেসিডেন্ট, আয়ারল্যান্ডের সাবেক মন্ত্রী, শান্তিতে নোবেলজয়ী শন ম্যাকব্রাইড, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য জেফরি টমাস; সদস্য সচিবের দায়িত্বে ছিলেন অব্রে রোজ।

কমিশনের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর। এরপর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে অনুসন্ধান চালানোর সিদ্ধান্ত নেন কমিশনের সদস্যরা। অনুসন্ধানের জন্য বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন এরপর কমিশনের সদস্যরা। তারা ভিসার জন্য লন্ডনের বাংলাদেশ দূতাবাসের শরণাপন্ন হন। ১৯৮১ সালের জানুয়ারিতে কমিশনের পক্ষে বাংলাদেশে আসতে ভিসার আবেদন করেছিলেন জেফরি টমাস এবং তার এক সহকারী।

তবে বাংলাদেশে আসার অনুমতি পায়নি তদন্ত কমিশনের সদস্যরা। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ভিসা না পাওয়ায় এই সফর হয়নি। কেন ভিসা দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে দূতাবাসের পক্ষ থেকে কিছু জানানোও হয়নি। দূতাবাসে কয়েকবার চিঠি দিলেও তা গ্রহণ করা হয়নি।’

কমিশনের প্রতিবেদনটি ‘শেখ মুজিব মার্ডার ইনকোয়ারি: প্রিলিমিনারি রিপোর্ট অব দ্য কমিশন অব ইনকোয়ারি’ নামের পুস্তিকা আকারে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়। এর মুখবন্ধ লিখেছিলেন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। যুক্তরাজ্যে গঠিত এই কমিশনের সদস্যদের প্রতি আস্থা রেখে তিনি লিখেন, ‘তাদের নামগুলো এই নিশ্চয়তা দেয় যে তাদের তদন্ত বিচার ব্যবস্থার সর্বোচ্চ মান অক্ষুণ্ণ রেখেই হতো।’

জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের একুশ বছর পর ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এরপর নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ উন্মুক্ত হয়। বিচারের রায় হওয়ার পর ক্ষমতার পালাবদলে জিয়াউর রহমানের গঠিত দল বিএনপি সরকার গঠনের পর আবার তা ঝুলে যায়। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসার পর বিচার শেষ করে জাতির পিতার ছয় খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি