সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » ‘ক্রসফায়ার’ নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকে স্বীকৃতি দিয়েছিল খালেদা



‘ক্রসফায়ার’ নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকে স্বীকৃতি দিয়েছিল খালেদা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
15.10.2020

নিউজ ডেস্ক: বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছিল ২০০৫ ও ২০০৬ সালে বিএনপির আমলে। ২০০৫-এ ৩৭৭ এবং পরের বছর ৩৬২ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। তখন ‘ক্রসফায়ার’ নামে পরিচিত এ হত্যাকাণ্ডের পক্ষে জোরালো অবস্থান ছিল বিএনপির।

এবিষয়ে একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, দেশের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে ১৯৭৫-১৯৮১ সালের পর সবচেয়ে ভয়ানক সময় ছিল ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর ক্রসফায়ারের নামে সারাদেশে শুরু করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। ২০০২ সালে ‘অপারেশন ক্লিন হার্টে’র নামে প্রথমে দেশে শুরু হয় মানুষ হত্যার রাজনীতি। তার ২০০৪ সালে র‌্যাব গঠন করে তাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে তৎকালীন সরকার।

সূত্র বলছে, ক্লিনহার্ট অভিযান শুরু করে বিরোধী মতকে দমন করার নতুন এক অপকৌশল বেছে নিয়েছিল খালেদা সরকার। এই অপারেশন ক্লিনহার্ট অভিযানে হত্যা করা অসংখ্য বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিককে। ক্লিনহার্ট অভিযান সমাপ্তির পর নতুন মোড়কে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু করে বিএনপি-জামায়াত জোট। ওই সময়ে অভিযানে যারা নিহত হতো, তাদের বলা হতো ‘ক্রসফায়ারে’ মারা গেছে। দেশ-বিদেশের মানবাধিকার সংস্থাসহ রাজনৈতিক মহল বিচার বহির্ভূত এসব হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোয় ক্রসফায়ার শব্দটির পরিবর্তে কিছুদিন ‘এনকাউন্টার’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের তথ্যমতে, ২০০২-০৬ সাল পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১৫৫ জন ব্যক্তিকে বিনা বিচার হত্যা করে বিএনপি-জামায়াত সরকার।

তথ্যসূত্র বলছে, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ২০০১ সালে গদিতে বসার পর প্রথমেই সংখ্যালঘু নিধন, ধর্ষণ, নির্যাতন, বাড়িঘর দখল ও তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করে সরকারদলীয় ক্যাডাররা। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হত্যা, নির্যাতন, বাড়িঘরে আগুন দেয়া, দখল করে নেয়া, বাড়ি ছাড়া করাসহ নানা ধরনের অত্যাচার নির্যাতনের মাত্রা সর্বকালের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে তৎকালীন সরকার। সে সময়ে সরকারদলীয় ক্যাডারদের দখল, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, খোদ রাজধানীর টয়লেটগুলো পর্যন্ত দখল করে নিয়ে যায় তারা। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, সরকারদলীয় সশস্ত্র ক্যাডারদের নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়ে।

এদিকে বিচারবহির্ভূত হত্যা প্রসঙ্গে একজন প্রবীণ সাংবাদিক বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে ক্রসফায়ারের ঘটনায় ‘ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স’ জারি করে হত্যাকারীদের দায়মুক্তি পর্যন্ত দেয়া হয়েছিল। এছাড়া ক্লিনহার্ট অভিযানের সময় যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনে নিহতদের বলা হতো ‘হার্টফেল’ করে মারা গেছে।

উল্লেখ্য, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার জাতীয় সংসদে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে দায়মুক্তি দেয়ার জন্য ‘ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স’ পাস করিয়ে নেয় এবং বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রথম বৈধতা দেয়।

 



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি