সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » ঢাবি ছাত্রীকে লঞ্চের কেবিনে ধর্ষণ করে মামুন, পাহারা দেয় নুর!



ঢাবি ছাত্রীকে লঞ্চের কেবিনে ধর্ষণ করে মামুন, পাহারা দেয় নুর!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
16.10.2020

নিউজ ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ‘ধর্ষিত’ ছাত্রীটির অভিযোগ— ছাত্র অধিকার পরিষদের দুই নেতার একজন তাকে ‘বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ’ করেছে, অন্যজন মিটমাট করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চাঁদপুর নেওয়ার পথে লঞ্চের কেবিনে ধর্ষণ করেছে। পরিষদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ছাত্রীটিকে দুশ্চরিত্র আখ্যা দিয়েছে, ফেসবুকে পতিতা বলে সাব্যস্ত করেছে এবং দাবি করেছে ঐ দুই নেতার সাথে ‘মেয়েটির পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সঙ্গম’ হয়েছিল। মনে করি— পরিষদের বক্তব্যই ঠিক, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতেই লালবাগে-লঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই ত্রিমুখী মহাসঙ্গমযজ্ঞ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের সাবেক সহ-সভাপতি ফেসবুক লাইভে ঐ ছাত্রীর চরিত্রহনন করার পর একটি টিভি চ্যানেল তার বক্তব্য জানতে চেয়েছিল, সহ-সভাপতি সেই চ্যানেলকে বক্তব্যপ্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়ে সেই সাংবাদিকের ফোন নাম্বার ফেসবুকে পোস্ট করার পর সাংবাদিক পেতে থাকলেন অব্যাহত অশ্রাব্য হুমকি। এ নিয়ে প্রতিবেদন হওয়ার পর সাবেক সহ-সভাপতি ডাক দিলো চ্যানেলটি বয়কটের এবং সেই আহ্বানে একাত্মতা প্রকাশ করলেন কয়েকজন ওয়াজবক্তা। অর্থাৎ এটি স্পষ্ট যে, এই সহ-সভাপতি ও তার সংগঠন ছাত্র অধিকার পরিষদের ওপর ঐ ওয়াজবক্তাদের প্রকাশ্য ও প্রত্যক্ষ সমর্থন আছে।

ওয়াজ মাহফিলগুলোয় বক্তাদেরকে বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্কের ব্যাপারে বরাবরই উচ্চকণ্ঠ থাকতে দেখা গেছে, এ জাতীয় সম্পর্ক স্থাপনকারীদেরকে পাথর মেরে ভবলীলা সাঙ্গ করে দেওয়ার কথাও বলতে শোনা গেছে, শোনা গেছে বুকের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও এদেরকে প্রতিহত করার ইচ্ছে পোষণ করতে। রাজাকার আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে সাত বছর আগে জাতীয় জাদুঘরের সম্মুখে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে ‘ওখানে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা হয়’ মর্মে হাটহাজারি-ভিত্তিক একটি ধর্মীয় সংগঠন বিতর্কিত ও বহুধাবিভক্ত করেছিল।

এখন প্রশ্ন হলো— এই যে ছাত্র অধিকার পরিষদের দুই নেতা ও এক নেত্রী লালবাগে ও লঞ্চে অবাধে মেলামেশা করল, বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হলো, এসব করে দেশের যুবসমাজকে জেনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার ওয়াসওয়াসা দিলো; এ ব্যাপারে হাটহাজারির ঐ সংগঠনটির প্রতিক্রিয়া নেই কেন? লালবাগ অভিমুখে লং মার্চ নেই কেন? ঐ মুরতাদ লঞ্চটি ঘেরাওয়ের কর্মসূচি নেই কেন? ঢাকা-চাঁদপুর নৌরুটে কেবিন ব্যবহার হারাম— মর্মে ফতোয়া নেই কেন? যে ওয়াজবক্তারা জেনার বিরুদ্ধে সোচ্চার, তারা পরিষদের তিন জেনাকারীকে পাথর মারার কথা না বলে উলটো পরিষদকে প্রত্যক্ষ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন কেন? কেন তারা জেনাকারীদের ওপর শরিয়া আইন প্রয়োগ করতে চাইছেন না? সর্বোপরি— এই তিন আত্মস্বীকৃত ব্যভিচারীর বিরুদ্ধে দেশের ধর্মপ্রাণ তৌহিদি জনতা নীরব কেন?

লেখক: কবি



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি