শনিবার ২৮ নভেম্বর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » other important » গ্রাম পুলিশকে নির্যাতনের অভিযোগে ধামরাইয়ে কৃষকদলের সভাপতি গ্রেফতার



গ্রাম পুলিশকে নির্যাতনের অভিযোগে ধামরাইয়ে কৃষকদলের সভাপতি গ্রেফতার


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
18.10.2020

নিউজ ডেস্ক: ঢাকার ধামরাইয়ে রাতভর চিরুনি অভিযান চালিয়ে ধামরাই উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি মো. উবায়দুল্লাহ খানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উপজেলার সুয়াপুর ইউনিয়নের আনন্দনগরে নিজ বাড়িতে তাকে না পেয়ে রোববার ভোররাতে সাভার বাজার রোডস্থ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার সকাল ১০টার দিকে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তার বিরুদ্ধে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা, স্বর্নপদকপ্রাপ্ত ঢাকা জেলার সেরা জনপ্রতিনিধি (ইউপি চেয়ারম্যান) হাফিজুর রহমান সোহরাবকে ফাঁসাতে গ্রাম পুলিশকে দিনভর বেঁধে রেখে দফায় দফায় মারধর ও মিথ্যা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করার অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্ন সৃষ্টি, সরকারি জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণসহ নানা ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

সুয়াপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমান সোহরাব বলেন, ধামরাই উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি ও আনন্দনগর গ্রামের বাসিন্দা মো. উসমান খানের ছেলে মো. উবায়দুল্লাহ খান স্থানীয় তার অপরাপর সহযোগীদের নিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৫ অক্টোবর বিকালে সুয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ ও শিয়ালকুল এলাকার বাসিন্দা মো. ফজলহক তার স্ত্রীর ভিজিডি কার্ডে উত্তোলিত ৩০ কেজি চাল, গ্রাম পুলিশ আবুল হোসেনের ৩০ কেজি চাল ও স্থানীয় জাফর হোসেনের স্ত্রীর ৩০ কেজি চালের তিন বস্তা চাল বিক্রি করতে গেলে মিথ্যা অপবাদে তাকে আটক করে উবায়দুল্লাহ খানের লোকজন।

এরপর তাকে চাল চুরির অপবাদ দিয়ে বেঁধে রেখে দিনভর দফায় দফায় মারধর করা হয়। পরে চাল চুরির ঘটনা সাজিয়ে আমাকে ওই ঘটনায় ফাঁসানোর জন্য ওই গ্রাম পুলিশকে মারধরসহ নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়। খবর পেয়ে ধামরাই উপজেলা ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসিল্যান্ড অন্তরা হালধার ও ধামরাই থানার পরিদর্শক দীপক চন্দ্র সাহা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ঘটনার সত্যতা না পেলে এ ব্যাপারে কৃষকদলের সভাপতি উবায়দুল্লাহ খানসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যানকে ফাঁসাতে গ্রাম পুলিশকে মারধর ও মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করে হয়রানির অভিযোগে ধামরাই থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হন ধামরাই থানার এসআই মো. আনোয়ার হোসেন।

শনিবার দিনগত রাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আনোয়ার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মামলার প্রধান আসামি কৃষকদলের সভাপতি মো. উবায়দুল্লাহ খানকে গ্রেফতার করতে উপজেলার সুয়াপুর ইউনিয়নের আনন্দনগর গ্রামে অভিযান চালায়। কৌশলে তিনি পালিয়ে সাভার বাজার রোডের বাসভবনে যান। পরে সেখান থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন এসআই আনোয়ার।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আনোয়ার হোসেন জানান, পুলিশের উপস্থিতি ও গতিবিধি টের পেয়ে বার বার অবস্থান পরিবর্তন করেন উবায়দুল্লাহ খান। তবে শেষমেশ সে পুলিশের ফাঁদে ধরা পড়ে।

ধামরাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, কৃষকদলের সভাপতি উবায়দুল্লাহ খানের বিরুদ্ধে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ ও চেয়ারম্যানকে ফাঁসাতে গ্রাম পুলিশকে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করার অপরাধে থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযান চালিয়ে তাকে রোববার ভোররাতে গ্রেফতার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ঢাকাস্থ ধামরাই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি