শুক্রবার ২৭ নভেম্বর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » ‘লোভে পড়ে ইচ্ছাকৃতভাবে তৃণমূলকে নিষ্ক্রিয় করেছে বিএনপির কিছু নেতা’



‘লোভে পড়ে ইচ্ছাকৃতভাবে তৃণমূলকে নিষ্ক্রিয় করেছে বিএনপির কিছু নেতা’


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
24.10.2020

নিউজ ডেস্ক: দলকে সুসংহত ও সংগঠিত না করে যেকোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার দলীয় সিদ্ধান্তে নাখোশ বিএনপির তৃণমূল নেতৃবৃন্দ। দল না গুছিয়ে, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব না মিটিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কারণে বিএনপির শোচনীয় পরাজয় ঘটছে। জানা গেছে, বিশেষ কোনো মহল, ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে বরং দলকে শক্তিশালী করতে তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। দলের ক্রমাগত পরাজয়ের কারণ খুঁজে বের করে প্রয়োজনে ব্যর্থ সিনিয়র নেতাদের বহিষ্কারেরও দাবি তুলেছেন তারা। দল রক্ষায় স্বজনপ্রীতি বাদ দিয়ে যোগ্যদের পদায়নেরও দাবি উঠছে তৃণমূল থেকে।

রংপুর বিভাগীয় বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, জাতীয় নির্বাচন থেকে ইউনিয়ন পরিষদ-যেকোনো নির্বাচনেই বিএনপি ক্রমাগতভাবে পরাজিত হচ্ছে। দল বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে, তৃণমূলের রাজনীতিতে খেই হারিয়ে ফেলেছে দল। তৃণমূলকে জাগ্রত করতে কেন্দ্রের কোনো তৎপরতা লক্ষণীয় নয়। বিএনপি এখন রাজধানীকেন্দ্রিক দলে পরিণত হয়েছে। দলে তৃণমূলকেন্দ্রিক কোনো কার্যক্রম না থাকায় বিএনপির যে অস্তিত্ব রয়েছে সেটি ভুলতে বসেছে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এমন এলোমেলো সময় দেখেনি বিএনপি। সিনিয়র নেতাদের অনাগ্রহতা, অদূরদর্শিতা ও নীতি-নৈতিকতার অভাবে তৃণমূল বিএনপি শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারছে না। রাজপথের তো কোনো আন্দোলন নেই, তাই চাইলেই অন্তত ২ বছরে বিএনপির তৃণমূলকে গুছিয়ে তোলা যেতো। কিন্তু অদৃশ্য কিছু কারণে তৃণমূলের পুনর্গঠন নিয়ে বিএনপির হাইকমান্ডের অভূতপূর্ব নীরবতা নেতা-কর্মীদের ভাবিয়ে তুলছে। লাভের আশায় লোভে পড়ে তৃণমূলকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খল করে রেখেছেন কিছু নেতা। গুঞ্জন উঠেছে, সরকার ও অন্যান্য মহলের সাথে আঁতাত করে ইচ্ছাকৃতভাবে বিএনপির তৃণমূলকে নিস্ভ্রভ করে রেখেছেন দলের কিছু সুবিধাবাদী নেতা। তাই দল বাঁচাতে এসব সুবিধাবাদী ও আঁতাতকারী নেতাদের খুঁজে বের করে বহিষ্কার করারও দাবি উঠছে।

এদিকে তৃণমূলের পুনর্গঠন নিয়ে হাইকমান্ডের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তার বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, তৃণমূল পুনর্গঠন একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আর তৃণমূল নেতাদের সাথে রিজভীরা ডিল করে। দলকে শক্তিশালী করতে তৃণমূলকে শক্তিশালী করার বিকল্প কিছু নেই। শেকড় দুর্বল হলে গাছও দুর্বল হয়ে পড়ে। বিএনপির প্রাণ ছিল তৃণমূল। সেই তৃণমূল এখন মৃতপ্রায়। বিষয়টি কষ্ট দেয় আমাকে। কিন্তু কিছু বলতে গেলে পদে পদে বাধা আসা। তাই কষ্ট লাগলেও মুখবুঝে এসব সহ্য করতে হয়। তবে আশাকরি ২০২৪ সালের মধ্যেই তৃণমূল বিএনপি শক্তিশালী হয়ে আগের রূপে ফিরে আসবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি