মঙ্গলবার ১৯ জানুয়ারী ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » তবে কী ভেঙেই গেলো ‘বিএনপির বোঝা’ ২০ দলীয় জোট!



তবে কী ভেঙেই গেলো ‘বিএনপির বোঝা’ ২০ দলীয় জোট!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
07.01.2021

নিউজ ডেস্ক: টানাপোড়েন আর হতাশার জের ধরে ভেঙে গেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট, সম্প্রতি এমন খবর রাজনৈতিক অঙ্গনে চাউর হয়েছে। শরিক দলগুলোর অভিযোগ, তাদেরকে সঠিক মূল্যায়ন না করার কারণেই এই ভাঙন। শত চেষ্টা কিংবা প্রলোভনেও তারা আর ফিরবেন না। চূড়ান্তভাবে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের একচুলও নড়চড় হবেনা বলেও জানান জোট নেতারা।

বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যমতে, নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সম্প্রসারিত হয়ে ১৮ দলীয় জোটে রূপান্তরিত হয়। পরবর্তীতে ‘অধিক লাভের আশায়’ তা ২০ দলীয় জোটে উন্নীত হয়। কিন্তু সেই লাভের আশা নিরাশায় পরিণত হতে বেশিদিন লাগেনি। সন্দেহ ও অবিশ্বাসের দাবানলে শুরু হয় জোটত্যাগ। যার চূড়ান্ত রূপ, আজকের মেধা-নেতৃত্ব-অভিভাবকশুন্য ২০ দলীয় জোট।

২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জনের মধ্য দিয়ে ২০ দলীয় জোটের মধ্যে যে আস্থা ও বিশ্বাস সুদৃঢ় হয়েছিল তা ধীরে ধীরে নিজেদের ভুলেই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। জনগণের নিকট ‘আস্থা’ অর্জন না করতে পারায় ফুলের মত অকাতরে ঝরে যাওয়া এই জোটের সর্বশেষ শোচনীয় পরাজয় হয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। দেশের জনগণ জোট নেতৃবৃন্দের ছলচাতুরী ব্যালটের মাধ্যমে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে। মুখ থুবড়ে পড়ে তাদের সার্বিক সাংগঠনিক কার্যক্রম।

সূত্রটি আরো জানায়, বিএনপির দুই দশকেরও বেশি সময়ের ২০ দলীয় জোটের দীর্ঘদিনের মিত্র ইসলামী ঐক্যজোট, শেখ শওকত হোসেন নিলুর (প্রয়াত) ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) অনেক আগেই জোট ত্যাগ করেছে। পরে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ত্যাগ করেছে জেবেল রহমান গানির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ ও খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজার নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)। পিছিয়ে থাকেনি ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপিও। ওই নির্বাচনের ফলাফল বর্জন করে তারা জোট ত্যাগ করে।

এমন অবস্থায় ড. অলি আহমদ বীর বিক্রমের নেতৃত্বে আরো ৩-৪টি দল নিয়ে তৈরি হয় জাতীয় মুক্তি মঞ্চ। এই মঞ্চ তৈরির পর প্ল্যাটফর্মটির শরীক এলডিপি, সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীকের বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ও ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানের জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপায় তুমুল ভাঙনের সৃষ্টি হয়। পরে কল্যাণপার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান আলাদা দল না বানালেও সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমকে ত্যাগ করেন। কিন্তু এরপরেও থেমে থাকেনি ভাঙনের জোয়ার। এলডিপি ও জাগপাতেও লাগে ভাঙনের অখণ্ড সুর।

জোটগুলোর মধ্যে যখন এমন উষ্ণ-অস্থির আবহাওয়া বিরাজমান, তখনই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ত্যাগ করে বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকীর কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ। ঐক্যফ্রন্ট প্রধান ক্ষমতালোভী ড. কামাল হোসেনের গণফোরামও এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। অপরদিকে, আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডিও ‘কফিনের শেষ পেরেক’ ঠোকার অপেক্ষায়। আর ‘গলায়-গলায় পিরিতে’ থাকা ‘বিএনপির অক্সিজেন’ খ্যাত
জামায়াতের সঙ্গেও জোটের দীর্ঘদিনের মধুচন্দ্রিমার অবসান ঘটেছে। সবমিলিয়ে ‘ভাঙনের খেলাঘর’-এ বাজছে বিউগলের চেয়েও করুণ সুর। যে সুরে তাল-লয় নেই। নেই জোট পুনঃযুক্ত হওয়ার সিঁকেভাগ সম্ভাবনা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বিএনপি তার পাপের ফসলই পেয়েছে। নিজেদের কর্মগুণে জোটকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলেছে। রেষারেষি, অবিশ্বাস আর দোলাচলে তাই ভেঙে গেছে তাদের নেতৃত্বাধীন ২০ দল। যা আর কখনই জোড়া লাগবার নয়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি