শুক্রবার ১৫ জানুয়ারী ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » তারেক নয়, রিজভীই বিএনপির মূল নিয়ন্ত্রক!



তারেক নয়, রিজভীই বিএনপির মূল নিয়ন্ত্রক!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
07.01.2021

নিউজ ডেস্ক: যতই সময় গড়াচ্ছে ততই যেন প্রকাশ্য হচ্ছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভেদ, বিশৃঙ্খলা। মিললো চমকপ্রদ এক তথ্য, লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নয়। বিএনপিকে নিয়ন্ত্রণ করছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও তারেকের ‘আস্থাভাজন’ রুহুল কবির রিজভী।

দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যমতে, লন্ডনে আরাম-আয়েশের বিলাসী জীবন যাপন করছেন তারেক রহমান। আর এর পেছনে যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে তার সিংহভাগই যোগান দিচ্ছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা রুহুল কবির রিজভী। মনোনয়ন-পদ-কমিটি বাণিজ্যের পাশাপাশি দলীয় ফান্ডিংয়ের নামে বিভিন্ন খাত থেকে যে অর্থ আসছে, তা আহরণ করে হুন্ডির মাধ্যমে লন্ডন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মালেকের কাছে পাঠানো হচ্ছে। পরে সেখান থেকে কৌশলে পৌঁছে যাচ্ছে খালেদা পুত্র তারেকের হাতে। এ কারণে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে দিনকে-দিন প্রিয় থেকে প্রিয়তর হয়ে উঠছেন রিজভী। অনেকে তাকে তারেকের ‘ডান হাত’ বলেও সম্বোধন করছেন।

তবে তারেককে রিজভীর এই সুবিধা প্রদানের নেপথ্যে রয়েছে অন্য কাহিনী। বাংলা নিউজ ব্যাংকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো সেই তথ্য। প্রাপ্ত তথ্যমতে, রিজভী বিএনপির বর্তমান মহাসচিব খালেদাপন্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিষ্ক্রিয় করতে ‘গায়ে পড়েই’ তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হচ্ছেন। তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন, দলের জন্য তিনি কতোটা নিবেদিত প্রাণ! ছক কষে করা ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তিনি অলিখিতভাবে নিয়ে নিয়েছেন দলের নিয়ন্ত্রণও। এ কারণে যারা পথের কাঁটা ছিলেন, তাদেরকেও তিনি সরিয়ে দিচ্ছেন নিজের কূটকৌশলে।

বিষয়টির সত্যতা জানতে এই প্রতিবেদক যোগাযোগ করে বিএনপি সিনিয়র নেতাদের সাথে। নাম-পরিচয় না প্রকাশের শর্তে দলটির এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, দলের ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও শওকত মাহমুদকে শোকজ করাসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড একহাতে নিয়ন্ত্রণ করেছেন রিজভী। এমনকি সাম্প্রতিক উপজেলা-পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্যও নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি। আর তাকে লন্ডন থেকে সমর্থন দিচ্ছেন খোদ তারেক রহমান।

তবে এই সমর্থনকে ‘গেম প্ল্যান’ এর অংশ হিসেবে আখ্যা দিলেন আরেক নেতা। তিনি বলেন, মূলত ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মাইনাস করতেই রিজভীর এই উঠেপড়ে লাগা। বোকার মতো তারেক রহমানও তাতে সায় দিচ্ছেন। কিন্তু এর পরিণাম যে কতো ভয়াবহ হতে পারে, তা কেবল সময়ই বলে দেবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা ফখরুল মহাসচিব হলেও দলে তার তেমন কোনো ভূমিকা নেই। তার সিদ্ধান্ত কেউ মানতে চায় না। তিনি দাফতরিক আদেশ দিলেও সেটি বাস্তবায়ন করতে অদৃশ্যভাবে বাধা দেন রিজভী ও তার অনুসারীরা। পাশাপাশি মির্জা ফখরুলসহ অন্যান্য খালেদাপন্থী সিনিয়র নেতাদেরও নানা কৌশলে চাপে রাখছেন রিজভী। এ থেকে সহজেই অনুমেয়, বিএনপিতে এখন সব ক্ষমতার মালিক রিজভী, তিনিই সর্বেসর্বা। এ কারণে গঠনতন্ত্রের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে যাকে ইচ্ছা তাকে চিঠি পাঠিয়ে হেনস্থা করছেন দলটির এই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

রাজনৈতিক বিজ্ঞজনরা আরো বলছেন, পদ-কমিটি কিংবা মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে দর কষাকষি করে তারেকের থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাইয়ে দিতেও মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা পালন করছেন ‘প্রেস ব্রিফিং কিং’ রিজভী। পাশাপাশি নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার মাধ্যমে নিয়মিত অনুদান ও চাঁদা আদায় এবং গোপনে সিনিয়র নেতাদের ওপর নজরদারিও বহাল রেখেছেন এই তারেক ঘনিষ্ঠ নেতা।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি