শুক্রবার ১৫ জানুয়ারী ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে সন্দেহ-অবিশ্বাস চরমে, বিপর্যয়ের আশঙ্কা!



বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে সন্দেহ-অবিশ্বাস চরমে, বিপর্যয়ের আশঙ্কা!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
08.01.2021

নিউজ ডেস্ক: যত দিন যাচ্ছে ততই যেন প্রকাশ্য হচ্ছে রাজনৈতিক দল বিএনপির ‘হাঁড়ির খবর’। অবিশ্বাস-দোলাচলে কেন্দ্রীয় থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে এক ধরনের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। কেউ কারো উপর ভরসা করতে পারছেন না। সবার মনেই সন্দেহের হিমালয়। বিষয়টিকে দলের বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে দেখছেন দেশের বিশিষ্টজনরা।

তাদের মতে, বিএনপিতে বর্তমানে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তা লাইফ সাপোর্ট থেকেও খারাপ পর্যায়ে আছে। কারণ, সবাইকে নিয়ে দল। সবাইকে নিয়েই রাজনীতি। অথচ দলটির নেতাকর্মীদের এমন চর্চাই নেই। যা তাদেরকে চরম বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যমতে, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে সন্দেহ-অবিশ্বাস চরম আকার ধারণ করেছে। শুধু তাই নয়, আস্থাহীনতা এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে,দলের বিপর্যয়ের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। পাশাপাশি জামিন বা আন্দোলনের মাধ্যমে দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে সরকারের সঙ্গে আপস করে মুক্তি নেওয়াটাকেও ভালোভাবে নেননি দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

তাদের ভাষ্য, সরকারের দয়ায় আপাতত মুক্তি পেয়েছেন খালেদা। তবুও তার মুক্তি ইস্যুতে জোরালো কোন আন্দোলন গড়ে তুলতে পারছে না বিএনপি। কারণ দলে রন্ধ্রে রন্ধ্রে সমন্বয়হীনতা। সাংগঠনিকভাবে ধ্বংজভঙ্গ হওয়া দলটি বিপদসংকুল পথে যে যাত্রা শুরু করেছে, তা সহসাই থামবে না। এখন উচিত খালেদা জিয়া বা তারেক রহমানের দলকে সুসংগঠিত করা। অতীতের সব ভুল-ত্রুটি ভুলে গিয়ে একাত্ম হয়ে কাজ করা।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বাংলা নিউজ ব্যাংক যোগাযোগ করে বিএনপি হাইকমান্ডের সঙ্গে। বিএনপি হাইকমান্ড এই প্রতিবেদককে বলেন, অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হাতছাড়া করেছে বিএনপি। যেগুলোতে একাট্টা হয়ে কাজ করলে দল আজ অনেক এগিয়ে থাকতো। কিন্তু তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার ‘দুই রকম’ নেতৃত্বের কারণে দল দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, এ কথা অস্বীকার করার জো নেই। তাছাড়া কেন্দ্রের পক্ষ থেকে তৃণমূলকেও তেমন গুরুত্বের চোখে দেখা হয়নি। হয়নি করা মূল্যায়নও। সবমিলিয়ে একটা হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

হাইকমান্ড নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, তবে এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার এখনও সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে খালেদা কিংবা তারেক যে কোন একজনকে সহনীয় হতে হবে। নিজেদের ইগো ও স্বৈরতন্ত্রকে বিসর্জন দিলে হয়তো বিএনপি হয়তো তার পুরনো রূপে ফিরে গেলেও যেতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি এখন এমন জায়গায় এসে পৌঁছেছে, যেখান থেকে ফেরার কোন উপায় নেই। এখন দলটির নেতাকর্মীদের চেয়ে চেয়ে নিজেদের ও প্রাণের রাজনৈতিক দলের বিপর্যয় দেখা ছাড়া অন্য কোন পথ নেই। কারণ, দল টিকে থাকে শীর্ষ নেতৃত্বগুণে। আর সেখানেই বিএনপির ঘুন ধরেছে। তাই আর রক্ষার সুযোগ নেই, শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই অপ্রিয় সত্য।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি