সোমবার ২৫ জানুয়ারী ২০২১



ইন-আউট সমাচার: তবে কী বাদই পড়লেন খালেদা!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
12.01.2021

নিউজ ডেস্ক: কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসার আগেই চারদিকে চলছে কানাকানি। আকাশে-বাতাসে গুঞ্জন, দলীয় প্রধানের পদ হারালেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। অর্থাৎ তারেক ইন, খালেদা আউট! অনুসন্ধানে মিললো সত্যতাও। প্রকাশ্য হলো থলের বিড়াল। সোমবার (১১ জানুয়ারি) এক ফেসবুক লাইভে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দলের ‘চেয়ারম্যান’ বলে সম্বোধন করে দলের ভেতর ও রাজনৈতিক অঙ্গণে ঝড় তুলেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার এই হঠাৎ পরিবর্তনকে সন্দেহের চোখে দেখছেন অনেকে।

ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন…

বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, স্বার্থ ছাড়া এক পা-ও অগ্রসর হন না বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতোদিন খালেদাপন্থীর খেতাব থাকলেও সম্প্রতি এই সুবিধাবাদী নেতা বুঝেছেন, খালেদা জিয়া নয়-বিএনপির সমস্ত কলকাঠি নাড়েন লন্ডনে পলাতক ফেরারি আসামি তারেক রহমান। এবং দেশে তার হয়ে কাজ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। যেহেতু তারেকের সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, পদ-মনোনয়ন-কমিটি বাণিজ্য, দলীয় ফান্ডিংয়ের অর্থ লন্ডনে কৌশলে পৌঁছে দেয়ার কাজটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রিজভীই করেন, তাই তারেকেরও পছন্দ দলের পরবর্তী মহাসচিব যেন রিজভীই হন!

খবরটি মির্জা ফখরুলের কানে পৌঁছাতেই তিনি খালেদার সঙ্গে সমস্ত রকম যোগাযোগ বন্ধ রেখেছেন। এমনকি খালেদা ফোন দিলেও ধরছেন না তিনি। বরং তারেককে খুশী করতে, ম্যানেজ করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। তারই অংশ হিসেবে সোমবার (১১ জানুয়ারি) ফেসবুক লাইভে তারেককে দলের ‘চেয়ারম্যান’ বলে সম্বোধন করেন তিনি। তার এমন সুবিধাবাদী আচরণের পরপরই নড়েচড়ে বসেছেন দলের অন্যান্য সিনিয়র নেতারাও।

বাংলা নিউজ ব্যাংকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, সব ঠিক থাকলে শিগগিরই বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অনুষ্ঠেয় কাউন্সিলে মাইনাস ফর্মূলার অংশ হিসেবে দলীয় প্রধানের পদ থেকে বেগম খালেদা জিয়া ও মহাসচিব হিসেবে পদ হারাতে পারেন জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর পুরো বিষয়টি লন্ডনে বসে নিয়ন্ত্রণ করছে বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশে তার ‘ডান হাত’ কিংবা ‘নির্ভরযোগ্য প্রতিনিধি’ হয়ে কাজ করছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। এ কারণে তাকেই তিনি পরবর্তী মহাসচিব করতে চান। প্রস্তুতিও প্রায় চূড়ান্ত। এমতাবস্থায় ‘ইন-আউট’ দ্বন্দ্বে পড়ে এতোদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও প্রিয় নেত্রীর সঙ্গ ত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল। চেষ্টা করছেন পরবর্তী চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিকটবর্তী হতে। এ কারণে লাইভ অনুষ্ঠানেই তিনি তারেককে ‘খুশী’ করতে বলে ফেললেন ‘চেয়ারম্যান’।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির ইতিহাসই ষড়যন্ত্রের, সুবিধাবাদের। জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, মির্জা ফখরুল ইসলাম কিংবা রিজভীরা কেউই এর ঊর্ধ্বে নন। সময়ের ব্যবধানে তা কেবল প্রকাশ পাচ্ছে মাত্র। তাই তাদের থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়।

 



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি