বৃহস্পতিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » জিয়াউর রহমান: দেশের জন্য এক অদ্বিতীয় অভিশাপের নাম



জিয়াউর রহমান: দেশের জন্য এক অদ্বিতীয় অভিশাপের নাম


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
18.01.2021

নিউজ ডেস্ক: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৮১, স্বাধীন বাংলাদেশ ডুবে যায় ঘোর অমানিশায়। অস্থির এই সময়ের সুযোগ নিয়ে পেশাগত জীবন থেকে রাজনৈতিক অঙ্গন- সব জায়গাতেই গিরগিটির মতো রঙ বদলানো জিয়াউর রহমান নিজেকে শাসক ঘোষণা করেন। করেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল। যার প্রেক্ষিতে ভুল পথে পরিচালিত হয় বাংলাদেশ। ডুবে যায় আকণ্ঠ দুর্নীতিতে। ইতিহাসের এই কালো অধ্যায়ের কথা অকপটে নিজের ‘বাংলাদেশ: অ্যা লেগাসি অব ব্লাড’ বইতে লিখেছেন পাকিস্তানের সাংবাদিক ও লেখক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস। তার মতে, বিভিন্ন পন্থায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা স্বৈরশাসক জিয়া তরুণদের দুর্বৃত্তায়নের দিকে ধাবিত করেন। এছাড়া করেন দেশ ও মানবতাবিরোধী নানা অপকর্ম। এ কারণে জিয়ার শাসনামলকে ‘অমানিশার সরকার’ বলেও উল্লেখ করা হয়।

দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যমতে, জিয়াউর রহমান মূলত মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে চাননি। এমনকি ২৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের দমন করতে সোয়াথ জাহাজে অস্ত্র যে পাঠানো হয়, তা খালাস করবার দায়িত্বও পান পাক প্রশাসনের এই বিশ্বস্ত কর্মী। আর তিনি তাই করতে ব্যস্ত ছিলেন। কারণ, তিনি জানতেন পাকিস্তানকে খুশী করতে পারলেই সব সম্ভব। সম্ভব ক্ষমতাহরণও। তারই অংশ হিসেবে তিনি সপরিবারে জাতির পিতাকে হত্যার নীল নকশা বাস্তবায়ন করেন। পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশকে উল্টোপথে নিয়ে যাওয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন, তার সবই করেন। যেমন, সংবিধান লঙ্ঘন করে একই সাথে সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতির পদ দখল, ‘হ্যাঁ-না’ভোটের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ, জামায়াতে ইসলামীসহ যারা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল তাদের সহাস্যে পুনর্বাসন, তথাকথিত ক্যু’র অভিযোগে হাজার হাজার নিরাপরাধ সৈনিককে হত্যা, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের মধ্য দিয়ে ৭৫’র ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করে রাখা, জেল হত্যা বিচারের উদ্যোগ না নেওয়া, খুনিদের সুরক্ষা ও হত্যাকারীদের বিদেশে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করা, উগ্র সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিষবৃক্ষ রোপণ, মদ, জুয়া ও পতিতাবৃত্তির লাইসেন্স দেয়ার মাধ্যমে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মতো জঘন্য কর্মকাণ্ড।

শুধু তাই নয়, দেশের রাজনীতিতে বিভাজন, বিশৃঙ্খলা ও হানাহানি সৃষ্টি হয়েছিল জিয়ার শাসনামলেই। তিনি বিএনপিকে নিজ স্বার্থে পরিণত করেছিলেন রাজনৈতিক ক্লাবে। এমনকি সর্বসাধারণের জন্য জিয়া রাজনীতিকে করে তুলেছিলেন কঠিন থেকে কঠিনতর। মোদ্দাকথা, শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশিদের জন্য কালের অভিশাপ হয়ে এসেছিলেন তিনি।

গ্রাম্য যুবকদের হাট-বাজারের ইজারার অধিকার দিয়ে দলীয় ক্যাডারে পরিণত করেন ক্ষমতালোভী এই স্বৈরশাসক। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রদের নষ্ট রাজনীতির পঙ্কিল পথে টেনে আনেন। এসব মেধাবী ছাত্ররা লেখাপড়া ভুলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে টেন্ডারবাজি, তদবিরবাজি, হলের সিট ভাড়া ইত্যাদি বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হয়।

ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে রক্ত ও সংঘাতের মধ্য দিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়া যে শুধু স্বাধীনতা বিরোধীদের সুযোগ দিয়েছে তা নয়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিষ্ঠুরভাবে দমনও করেছেন জিয়া। সামরিক বাহিনীর অনেক সদস্যকে তার সময়ে নিজ স্বার্থেই দেওয়া হয় মৃত্যুদণ্ড। যার কারণে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের ছিল প্রচণ্ড ক্ষোভ। সেই ক্ষোভের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত অপমৃত্যু ঘটে জিয়ার। নিক্ষিপ্ত হন ইতিহাসের আস্তাকুড়ে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি