বৃহস্পতিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » পৌর নির্বাচন: খালেদার আসনেই ‘দলীয় প্রার্থী’ দেয়নি বিএনপি!



পৌর নির্বাচন: খালেদার আসনেই ‘দলীয় প্রার্থী’ দেয়নি বিএনপি!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
19.01.2021

নিউজ ডেস্ক: এ যেন বিসমিল্লাতেই গলদ! বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পৈত্রিক ভিটা ও নির্বাচনী আসন ফেনী-১ (ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাই) হলেও সেখানকার পৌর নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি বিএনপি। অথচ এই নির্বাচনী আসন থেকেই বার বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি নেত্রী। শুধু তাই নয়, অত্র অঞ্চল বিএনপির ঘাঁটি হিসেবেও পরিচিত। কিন্তু কোন অজানা কারণে পরশুরাম পৌরসভার পৌর নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী দেয়নি, তা নিয়ে রীতিমত আলোচনার ঝড় উঠেছে।

বিশিষ্টজনদের অভিমত, নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, সাংগঠনিক সমন্বয়হীনতা ও দলীয় অনৈক্যে বিএনপির রাজনীতি আজ বিলীন প্রায়। শুধু তাই নয়, মাঠের রাজনীতিতেও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন এই রাজনৈতিক দলটি সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ। যারই প্রতিচ্ছবি বিগত অনুষ্ঠিত সবগুলো নির্বাচনে দেশবাসী দেখেছে। ব্যত্যয় ঘটলো না পরশুরাম পৌরসভার নির্বাচনেও। বিএনপি ও অন্যান্য দলগুলো প্রার্থী না দেওয়ায় ভোট ছাড়াই সেখানে নির্বাচিত হতে চলেছেন আওয়ামী লীগের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। এর দায় কিভাবে এড়াবে বিএনপির দলীয় হাইকমান্ড?

এ ব্যাপারে বাংলা নিউজ ব্যাংকের প্রতিবেদককে জেলা ও উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ জানান, নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ নেই, তাই তারা প্রার্থী দেননি। তবে মানসিকভাবে তারা সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত ছিলেন অংশ নেওয়ার।

তবে ভিন্ন কথা বললেন দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। তাদের ভাষ্য, সাংগঠনিক অদক্ষতার কারণে দলীয় প্রার্থী দেওয়া যায়নি। বিষয়টির সহজ সুরাহা হতো, দলীয় হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপে। যেটা করা হয়নি।

এদিকে নির্বাচন কমিশন বলছে, বিএনপিকে বার বার ডেকেও নির্বাচনে আনা যায়নি। পাওয়া যায়নি একজন মেয়র প্রার্থী। পাশাপাশি মেলেনি কোন কাউন্সিলর প্রার্থীও।

ফেনী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, রোববার (১৭ জানুয়ারি) ছিলো মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। কিন্তু সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে গেলেও বিএনপির কেউই আসেননি। পরে বাধ্য হয়ে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করি। বলি এখন পর্যন্ত আপনাদের কোনো মনোনয়ন জমা হয়নি। আপনারা চাইলে পরশুরাম নইলে ফেনীতে গিয়েও নির্বাচন অফিসে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে পারেন।

কিন্তু বিষয়টির কর্ণপাত না করে উপরন্তু বিকেলে বিভিন্ন অভিযোগ এনে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে স্থানীয় বিএনপি। এর ফলে ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে কোনো ভোটারকে আর কেন্দ্রেই যেতে হচ্ছে না। সব পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বিনা ভোটে জনপ্রতিনিধি হতে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, নির্বাচনে অংশ না নিয়ে নিজেরাই নিজেদের পায়ে কুড়াল মারলো বিএনপি। এর ফল তারা নিজেরাই ভোগ করবে। তাদের ধারাবাহিক এই একগুঁয়েমি সিদ্ধান্তের ফলেই এক সময় রাজনৈতিক দল হিসেবে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যাবে জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি