সোমবার ১ মার্চ ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » এবার নিজেরাই নিজেদের মঞ্চ ভাঙলো বিএনপি নেতৃবৃন্দ!



এবার নিজেরাই নিজেদের মঞ্চ ভাঙলো বিএনপি নেতৃবৃন্দ!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
25.01.2021

নিউজ ডেস্ক: দলীয় কোন্দল ও অনৈক্যের জেরে এবার নিজেরাই নিজেদের সভামঞ্চ ভাংচুর করলো গাজীপুরের শ্রীপুরে উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ। পরে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তারা ক্ষমতাসীন সরকারের দিকে আঙুল তোলার চেষ্টা করলেও তা স্থানীয় সচেতন মহলের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ মডেল একাডেমি মাঠে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে মঞ্চ তৈরী করা হয়েছিল। কিন্তু গ্রুপিং-কোন্দলের কারণে রোববার (২৪ জানুয়ারি) রাতে স্থানীয় বিএনপির একটি বিদ্রোহী পক্ষ ভেঙে দিয়েছে। কারণ, আহ্বায়ক কমিটি গঠনের উদ্দেশে তৈরিকৃত মঞ্চে তাদের পছন্দের ব্যক্তি পদ-পদবী পাচ্ছেন না, এমন সংবাদের ভিত্তিতেই তারা এমন হামলা চালায়।

তবে বিষয়টিকে ধামাচাপা দিয়ে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে আয়োজকরা বলছেন, রোববার রাতের কোনো এক সময়ে কে বা কারা মঞ্চটি ভেঙে দিয়েছে। এটা দলীয় কারো কাজ বলে মনে হচ্ছে না। তবে বিষয়টির তদন্ত করা হচ্ছে। কমিটি গঠন করা হয়েছে। যদি দলীয় কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলা নিউজ ব্যাংকের প্রতিবেদককে শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান ফকির জানান, আগে থেকেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে সভা আহ্বান করা হয়। ওই সভায় গাজীপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক ফজলুল হক মিলন প্রধান অতিথি ও সদস্য সচিব কাজী সাইয়্যেদুল আলম বাবুল বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু রোববার (২৪ জানুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে কে বা কারা মঞ্চ ভাঙচুর ও কুপিয়ে তছনছ করেছে। কারা করেছে তা এখনও চিহ্নিত করা যায়নি।

তিনি আরও জানান, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আমরা সোমবার (২৫ জানুয়ারি) কর্মসূচি বাতিল করেছি। একইসঙ্গে আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তবে ভিন্ন কথা বললেন গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কায়সার মৃধা খোকন। তিনি বলেন, কয়েকজন কর্মী নিয়ে সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় ব্যানার সাঁটাতে গিয়ে মঞ্চের বাঁশ নামানো, মঞ্চ ভাঙচুর, কাপড়-চোপড় টেনে হিঁচড়ে ছিড়ে মাটিতে ফেলার দৃশ্য দেখতে পাই। কিন্তু এই কাজ করার সাহস কার, তা মাথায় আসছে না।

এ ব্যাপারে গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) আমিনুল ইসলাম জানান, সেখানে কোনো সভার অনুমতি কেউ নেয়নি এবং এ ব্যাপারে পুলিশ বাহিনী অবগত ছিল না। মঞ্চ ভাঙচুরের কোনো অভিযোগও কেউ করেনি। শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির ঘরের শত্রু বিভীষণ। তারা নিজেরাই নিজেদের শত্রু । গ্রুপিং-কোন্দলে জর্জরিত হয়ে তারা একে-অপরের মিত্রের পরিবর্তে শত্রুতে পরিণত হয়েছে। যারই প্রতিচ্ছবি গাজীপুরের এই ঘটনা। পরে নিজেদের দোষ ঢাকতে তারা অন্যের দিকে আঙুল তোলার অপচেষ্টায় লিপ্ত। এ অভ্যাস তাদের পুরনো এবং অস্থিগত। সচেতন মহল বরাবরের মতো আবারও সেই অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি