সোমবার ১ মার্চ ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » ফখরুলের দিকেই লাগাতার অভিযোগের তীর রিজভীর!



ফখরুলের দিকেই লাগাতার অভিযোগের তীর রিজভীর!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
17.02.2021

নিউজ ডেস্ক: সামনেই বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল। তাই মহাসচিব পদ বাগাতে নড়েচড়ে বসেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। নানা পন্থায় তিনি বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্পর্কে লন্ডনে পলাতক ফেরারি আসামি ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে একের পর এক মিথ্যে অভিযোগ এনে তার কান ভারি করছেন।

দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যমতে, বিএনপিতে এমনিতেই রুহুল কবির রিজভী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘ডান হাত’ নামে পরিচিত। দলের গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও তারেক রিজভীর সঙ্গে করেন। এমনকি পদ-মনোনয়ন ও কমিটি বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রকও দলের এই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। তারেকের নির্দেশনাতেই তিনি ‘ধরাকে সরা জ্ঞান’ করেন। এ কারণে তার চলাফেরা বেপরোয়া। বর্তমানে সেই লাগামহীন স্বৈরাচারী আচরণের পারদ এতোটাই উপরে উঠেছে যে, তিনি স্বয়ং দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথাও শুনছেন না। তার দেয়া ফোন রিসিভ না করে বরং কেটে দিচ্ছেন।

এখানেই শেষ নয়। দলের আগামী জাতীয় কাউন্সিলে মির্জা ফখরুলকে সরিয়ে নিজে মহাসচিব হয়ে পছন্দ মতো স্থায়ী কমিটি গঠন করতে ইতোমধ্যে অনেকদূর অগ্রসর হয়েছেন রিজভী। সে লক্ষ্যে দেশের ৬৪ জেলা কমিটির সদস্যদের কাছে নতুন কমিটি গঠন সংক্রান্ত একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন তিনি। চিঠিতে নির্দেশ দিয়েছেন স্থায়ী কমিটি গঠনের নিমিত্তে গণস্বাক্ষর অভিযান চালাতে হবে এবং কর্মকাণ্ড সম্পন্ন হলে যত দ্রুত সম্ভব তা লন্ডনে পাঠাতে হবে।

অনুসন্ধানকালে বাংলা নিউজ ব্যাংকের এই প্রতিবেদককে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, গেল জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ও হালের পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির পরাজয়ের কারণ হিসেবে রুহুল কবির রিজভী ঢাকঢোল পিটিয়ে অভিযোগ তুলছেন দলের বর্তমান মহাসচিব ও খালেদার ‘আস্থাভাজন’ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দিকে। বলছেন, স্থায়ী কমিটির অন্যান্য সদস্যদের সমন্বয়ে ফখরুল মোটা অংকের টাকা খেয়ে দলের পরাজয় ডেকে এনেছেন। তিনি দল নয়, নিজের ভালো চান।

মূলত মির্জা ফখরুল অতি ভদ্র ও নিরীহ প্রকৃতির বলেই তিনি রিজভীর মিথ্যাচারের ‘দাঁত ভাঙা জবাব’ দিচ্ছেন না বলেও দাবি করেন নেতাকর্মীরা। তাদের ভাষ্য, এতক্ষণে অন্য কেউ হলে রক্তপাত হয়ে যেতো। শুধু ফখরুল ভাই বলে, নীরবে সব সয়ে যাচ্ছেন। অবশ্য তার করারও কিছু নেই। কারণ, তারেক রহমানই এখন দলের সর্বসবা। আর রিজভী তার ‘কাছের’ জন।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মহাসচিব পদপ্রাপ্তির জন্য রিজভী উঠেপড়ে লেগেছেন এ কথা সত্য। কিন্তু ফখরুল যে নির্দোষ, তার বিরুদ্ধে রিজভীর সকল অভিযোগ যে মিথ্যে, তার কী গ্যারান্টি? আসলে, দলীয় অনৈক্য-কোন্দল এবং একে-অপরকে না মানার সংস্কৃতি বিএনপির অস্থিগত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। তাই বলাই বাহুল্য, রিজভী-ফখরুলের ঘটনাও বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি