রবিবার ৭ মার্চ ২০২১



বিএনপিতে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে তারেক!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
19.02.2021

নিউজ ডেস্ক: খালেদা জিয়া রাজনীতি থেকে অবসরে যাবেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। এছাড়া ছেলের প্রতিদ্বন্দ্বী না হতেও তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সম্প্রতি জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিএনপিতে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করতে এরইমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছেন তারেক রহমান। তিনি চাইছেন স্থায়ী কমিটিসহ সবাই তার পক্ষে কথা বলুক। এজন্য তিনি তার পছন্দের লোকজনদের ধীরে ধীরে পদায়নের চেষ্টা চালাচ্ছেন। যা দলের সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি সর্বস্তরে দিন দিন দৃশ্যমান হচ্ছে। এ নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে আলোচনা-সমালোচনা থামছেই না।

দলীয় সূত্রমতে, দলকে সামনের দিকে টেনে নেয়ার মতো শারীরিক সক্ষমতা বর্তমানে খালেদা জিয়ার নেই। এছাড়া সাজা স্থগিত করে নির্বাহী আদেশে কারামুক্তির কারণে তার পক্ষে রাজনীতিতে সফল হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে অনেকেই মনে করছেন। তাই এক প্রকার বাধ্য হয়েই সিনিয়র নেতারা তারেক রহমানের নেতৃত্ব মেনে নিয়ে দল পরিচালনায় আগ্রহী হচ্ছেন।

সূত্রটি আরো জানায়, স্থায়ী কমিটির সদস্যরা খালেদার সঙ্গে দুইবার দেখা করার সুযোগ পেলেও রাজনীতির বিষয়ে তিনি মুখ খুলছেন না। বিশেষ করে ভবিষ্যতে তিনি রাজনীতি করবেন কিনা, সে বিষয়টি দলের সিনিয়র নেতাদের কাছে এখনো অস্পষ্ট। ফলে অনেকে ধরেই নিয়েছেন খালেদা জিয়া ভবিষ্যতে রাজনীতিতে আর নাও থাকতে পারেন। তিনি রাজনীতি না করলে তারেক রহমানের পছন্দের লোকেরা ভবিষ্যতে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে যাবেন, সে বিষয় নিশ্চিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, খালেদা জিয়া নীরব হয়ে যাওয়ার পর সাম্প্রতিককালে তারেক অনুসারী বলে পরিচিত নেতারা বড় পদে যাওয়ার জন্য জোর তৎপরতা শুরু করেছেন। অতি উৎসাহী দু-একজন নেতা এরইমধ্যে মহাসচিব হওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরুও করেছেন বলে দলের অনেকের কাছে দৃশ্যমান হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান একই পরিবার বৃত্তের মধ্যে আবদ্ধ রয়েছে। এর ফলে রাজনীতি বা ক্ষমতার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে বিএনপির ভবিষ্যত খুবই ক্ষীণ।

সুশানের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের মতে, খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকার কারণে এ মুহূর্তে হয়তো তারেক রহমানকে বিএনপির প্রয়োজন। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, সুধী সমাজ ও জনগণের কাছে তারেক জিয়ার তেমন কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি