সোমবার ১ মার্চ ২০২১



বেফাঁস মন্তব্যের জনক ডা. জাফরুল্লাহ


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
21.02.2021

নিউজ ডেস্ক: দেশে চলমান বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করায় দেশের রাজনীতিতে গুরুত্ব হারিয়েছেন বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী-রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। বিশেষ করে অনেকেই তাকে বেফাঁস মন্তব্যের জনক বলেই অভিহিত করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, নিজেকে সবজান্তা ও সর্ব বিষয়ে জ্ঞানী হিসেবে জাহির করার জন্যই দেশের যেকোনো ইস্যুতেই গণমাধ্যমে কথা বলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। সবসময়ই তার কথা বলার ধরণ থাকে সমালোচনামূলক ও নেতিবাচক।

কখনো ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে, কখনো বিএনপির বিরুদ্ধে এমনকি রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সম্পর্কেও ভুলভাল ও বেফাঁস মন্তব্য করে বারবার সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির সিনিয়র এক নেতা বলেন, এক সময় বিএনপিতে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে গুরুত্ব দেয়া হলেও এখন আর তাকে সেভাবে দেখা হয় না।

তিনি বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সব সময় যার নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা করতেন। তার হাতেই এখন বিএনপির নেতৃত্ব। যার ফলে বিএনপিতে গুরুত্ব হারিয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। বিএনপির রাজনীতিতে তার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সম্পর্কে বেফাঁস মন্তব্য করায় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে আস্থা হারিয়েছেন তিনি। তার বুদ্ধি বা পরামর্শ এখন বিএনপির পক্ষে নয়, বিপক্ষেই বেশি বলেও মনে করেন বিএনপির বর্তমান সিনিয়র নেতারা।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সম্পর্কে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, তিনি যতটুকু জানেন তার চেয়ে অনেক বেশি জ্ঞানী হিসেবে নিজেকে জাহির করতে চান।

তারা বলেন, নিজেকে জাহির করতে গিয়েই অনেক সময় তিনি ভুলভাল তথ্য উপস্থাপন করেন। যার জন্য পরবর্তীতে তাকে অনেক বার জনগণের সামনে এসে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হতে হয়েছে। এছাড়া তার বেফাঁস মন্তব্যের কারণে অনেকে তার বক্তব্যকে পাগলের প্রলাপ বলেও মনে করেন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বেফাঁস মন্তব্য:

যুদ্ধাপরাধী কামরুজ্জামান এর ফাঁসি কার্যকরের পর জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন (ড্যাব) আয়োজিত এক সভায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছিলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিরোধিতা করি না; কিন্তু কামরুজ্জামানকে ফাঁসির দড়িতে ২০ মিনিট ধরে ঝুলিয়ে রেখে যে মানবতাবিরোধী অপরাধ এই সরকার করেছে তার জন্য তাদের উচিত অপরাধীর পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়া।

এরপর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় ব্যবহৃত গ্রেনেডের উৎস সম্পর্কে বলতে গিয়ে সময় টিভির এক টকশোতে চট্টগ্রাম সেনানিবাস থেকে কথিত গোলাবারুদ চুরির কথা বলেন ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এই মন্তব্যের কারণে নানা সমালোচনার মুখে চারদিন পর সংবাদ সম্মেলন ডেকে টকশোতে দেয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি