শুক্রবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১



বিএনপি চলছে ‘লন্ডনের জাদুর কাঠির’ ছোঁয়ায়!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
23.02.2021

নিউজ ডেস্ক: বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আবেগ-অনুভূতি, ঐক্যের জায়গা- সব কিছু যেন ‘লন্ডনের বাক্সে’ আটকে আছে। আন্দোলন গড়ে তোলার শক্তি, সামর্থ্য এখন বিএনপির নেই বলে মনে করেন রাজনীতিবিদরা। মূলত বিএনপি চলছে ‘লন্ডনের জাদুর কাঠির’ ছোঁয়ায়।

তারা বলেন, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন অসুস্থ শরীরে কারাগারে তখনও আন্দোলন করতে পারেনি দলটি। এই যেন ব্যর্থ নেতৃত্বের একটি দল। বিএনপি নেতাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোনো ক্ষমতা নেই। দলের সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করে লন্ডনে বসে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান যে নির্দেশ দিচ্ছেন, সেটাই হচ্ছে।

তারা আরো বলেন, বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে নেতৃত্বের সিদ্ধান্তহীনতা একটি বড় বাধা। সিদ্ধান্তহীনতার পেছনে নেতাদের মধ্যে বিশ্বাসের ঘাটতি এবং সমস্যা চিহ্নিত করতে না পারাসহ বেশ কিছু বিষয় রয়েছে।

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। আর তার ছেলে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় দেশে আসতে পারছেন না। তাই লন্ডন থেকে যে ‘ওহী’ আসে তা দিয়ে দল পরিচালনা করা হয় কিন্তু বিএনপির সিনিয়র কোনো নেতার বক্তব্য কাজে আসে না। তার মানে তারেক রহমানের কথার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই বিএনপি নেতাদের।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, দেশে থাকা সিনিয়র নেতাদের ওপর দায়িত্ব দিয়ে দুই বছরের জন্য দল থেকে তারেক রহমানের সরে যাওয়া উচিত। বিএনপিতে নতুন নেতৃত্ব আসলে দলটি গতিশীল হবে। তারেক রহমান সরে গেলে দল শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলনও জোরদার হতো।

তারা বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্ব যেন ডিঙি নৌকায় বিশাল সাগর পাড়ি দেয়ার মতো। এই দলে বড় বড় সিনিয়র নেতা থাকা সত্ত্বেও তাদের মতামতের মূল্যায়ন করেননি। এসব কারণে কোনো আন্দোলনে বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে সরব ছিলেন না। এমনকি মাঠে নেমে বড় একটি মিছিলও করতে পারেননি।

তবে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী মনে করেন, তারেক রহমানের পরিবর্তে দলের কোনো সিনিয়র নেতাকে যদি নেতৃত্ব দেয়া হয় তাহলে আন্দোলন-সংগ্রাম বেগবান হবে।

তারেক রহমান তার দল ও নেতাকর্মীর জন্য এমনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন যেন বিএনপি কোনো রাজনৈতিক দল নয়, পৈতৃক সম্পত্তি। দলের সবাইকে অন্ধকারে রেখে, স্থায়ী কমিটির সদস্যদের উপেক্ষা করে, বিএনপির লাখো নেতা-কর্মী-সমর্থকের আবেগকে অবহেলা করে এককভাবে এবার এমপিদের শপথের সিদ্ধান্ত নেন। তারেক রহমান এর মাধ্যমে প্রমাণ করতে চেয়েছেন দলের সবাই তার কথায় চলে।

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যখন গঠন করা হয়, তখন বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যফ্রন্টকে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর একটা প্লাটফরম হিসেবে দেখেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে তারেকের কারণে সেই জোট আর শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেনি বলে মনে করেন রাজনীতিবিদরা।

নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর সেই ফ্রন্ট নিয়েই বিএনপিতে বিতর্ক দেখা দেয়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোক্তারা অনেকেই মনে করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থানীয় কমিটির কোন্দলের কারণে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি দলটি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক অনুষ্ঠানে বলেন, বিএনপি হলো মেরুদণ্ডহীন নালিশ পার্টি। তাদের বিষয়ে যতো কম কথা বলা যায়, ততোই ভালো। তাদের একটা মিছিল করারও ক্ষমতা নেই। ঘরে বসে শুধু বিদেশিদের কাছে নালিশ করে। তাদের মরা গাঙ্গে আর জোয়ার আসবে না। শুধু আন্দোলনের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে কিন্তু পরে খুঁজে পাওয়া যায় না। এতগুলো বছরে একটা আন্দোলন দেখা যায়নি তাদের। যা দেখা গেছে, সেটা হলো বোমাবাজী।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি