মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » খালেদার বাড়ি ভাড়া বাকি, অভিযোগের তীর কার দিকে?



খালেদার বাড়ি ভাড়া বাকি, অভিযোগের তীর কার দিকে?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
23.02.2021

সরকারের মহানুভবতায় কারামুক্তির পর থেকেই রাজধানীর গুলশানের ভাড়া বাড়ি ‘ফিরোজা’তে বসবাস করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। নতুন তথ্য হলো, গত ১৫ মাস ধরে ওই বাড়ির মাসিক ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি। বাকি পড়ে রয়েছে বিদ্যুৎ, গ্যাস, ময়লা বিলসহ অন্যান্য বিলও। দলীয় নেতাদের প্রশ্ন, তাহলে এতদিন দলীয় তহবিল থেকে ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) বাড়ি ভাড়া বাবদ যে ব্যয় দেখানো হয়েছে, তা গেলো কোথায়? পুরোটাই কি হজম করে দিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী?

দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যমতে, সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্ত হওয়ার পর বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া অনেকটা নিভৃতে জীবনযাপন করছেন। তাছাড়া দলীয় নেতাকর্মীরাও আগের মতো তার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতে যান না। নেন না খোঁজখবরও। উপরন্তু নেত্রীর পক্ষ থেকে কারো সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন মেকি অজুহাতে এড়িয়ে যান।

সাম্প্রতিককালে একটি বিষয় জোরালোভাবে সামনে এসেছে। আর সেটি হলো, দিনকেদিন দলীয় নেত্রীর প্রতি অযত্নশীল হয়ে পড়ছে বিএনপি নেতৃবৃন্দ। যারই ফলস্বরূপ বিগত ১৫ মাস বিএনপি চেয়ারপারসনের ভাড়া বাড়ি বাকী। শুধু তাই নয়, বাকির তালিকায় রয়েছে বিদ্যুৎ, গ্যাস, ময়লাসহ অন্যান্য বিলও। অথচ এমনটি হওয়ার কোন কথাই ছিলো না। কারণ, বিএনপির বর্তমান নিয়ন্ত্রক লন্ডনে পলাতক ফেরারি আসামি তারেক রহমানের নির্দেশনায়, খালেদার দেখভাল ও যাবতীয় দায়িত্ব ছিল দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর উপর। কিন্তু তিনি তার দায়িত্ব পালনে শুধু অবহেলাই করেননি, খালেদার জন্য বরাদ্দকৃত সব টাকাই নিজের পকেটে ঢুকিয়েছেন।

বাংলা নিউজ ব্যাংকের সঙ্গে আলাপনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, তারেক রহমানের ‘ডান হাত’ হওয়ায় দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পরিবর্তে খালেদা জিয়ার দেখভালের দায়িত্ব দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর উপর বর্তায়। তিনি বাড়ি ভাড়া, গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ বিল এসব মেটাবেন। নিজে না পারলেও অন্যকে দিয়ে করাবেন। কিন্তু তিনি সেটি না করে বরং প্রতি মাসে দলীয় তহবিল থেকে ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) বাড়ি ভাড়াসহ ইউটিলিটি বিল উত্তোলনের ব্যয় দেখিয়েছেন। যার ফলেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে নেত্রীর বাড়ি ভাড়া বকেয়া শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এর জন্য রিজভীই অদ্বিতীয়ভাবে দায়ী।

নেতারা এই প্রতিবেদককে আরও বলেন, তারেক রহমান যে রিজভীর আত্মসাৎ করা টাকার ভাগ পাননি, তার কী গ্যারান্টি? কারণ, তারেক তো টাকা হলেই ম্যানেজ। যেখানেই তিনি পান টাকার গন্ধ, সেখানে অন্যায় হলেও তিনি অন্ধ বনে যান। সেই অনৈতিক কাজে প্রচ্ছন্ন সমর্থন যোগান। ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) বাড়ী ভাড়া বকেয়ার বিষয়টিও তার ব্যতিক্রম নয়।

এ বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক বিজ্ঞজনরা বলছেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী তার গুরু তারেক রহমানের কথায় ওঠেন-বসেন। কিন্তু খালেদার বাড়ি ভাড়ার টাকা আত্মসাৎ করে তিনি ‘চোরের উপরে বাটপারি’র প্রমাণ দিলেন। এ থেকে সহজেই অনুমেয়, বিএনপি নেতৃবৃন্দের আসল চরিত্র কেমন ও কতোটা কুৎসিত। আর তারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য কি-ই না করতে পারেন! রিজভী এই ঘটনার মাধ্যমে তা আরও একবার প্রমাণ করলেন। বোঝালেন, স্বার্থের কাছে তারেকও নস্যি!



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি