রবিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » বিডিআর বিদ্রোহ: অভিযুক্তদের পক্ষে কেন আইনি লড়াই করে বিএনপি-জামায়াত?



বিডিআর বিদ্রোহ: অভিযুক্তদের পক্ষে কেন আইনি লড়াই করে বিএনপি-জামায়াত?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
24.02.2021

ক্যালেন্ডারের পাতায় ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশের ইতিহাসের কলঙ্কময় দুটি দিন। এই দুই দিনে আইনের শাসন অমান্য করে ইতিহাসের জঘন্যতম অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক সশস্ত্র বাহিনীর ৫৭ জন মেধাবী কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করে বিপথগামী বিডিআর জাওয়ানেরা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সেই অভিযুক্তদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে আইনি লড়াই করে স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপি-জামায়াত চক্র।

বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যমতে, বিডিআর সদস্যদের ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিডিআরকে ধ্বংসের পাশাপাশি বিডিআরে কর্মরত সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যা করে সেনাবাহিনীকে ক্ষেপিয়ে তুলে এক ঢিলে দুই পাখি মারার ফন্দি এঁটেছিল বিএনপি-জামায়াত। সে অনুযায়ী ছক কষে লন্ডন থেকে তারেক রহমান মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করেন। আর বিডিআর বিদ্রোহের আগের রাতে তিনি তার মা খালেদা জিয়াকে লন্ডন থেকে ৪৫ বার ফোন করেন এবং নির্দেশনা দেন দ্রুত ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে বের হয়ে পালিয়ে যেতে। ছেলের কথা ফেলেননি বিএনপি নেত্রী। অন্যান্য দিনের ন্যায় দুপুর ১২টার পরিবর্তে বিদ্রোহের দিন খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন খালেদা। এরপর রেডি হয়ে সকাল সাড়ে ৭ টা থেকে ৮টার মধ্যে ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে তিনি কালো কাচের গাড়িতে করে পালিয়ে যান। শুধু তাই নয়, ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়াগুলোকে লেলিয়ে দেয় মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে বহির্বিশ্বের কাছে সদ্য গঠন করা সরকার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে। পাশাপাশি, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী সে সময় আর্মি অফিসারদের মৃত্যু প্রসঙ্গে ‘কিছু প্রাণী মারা গেছে’ বলে বিদ্রূপ করেন। এমনকি বিএনপি-জামায়াত নেতারাও এমন পরিস্থিতিতে ফ্রন্টলাইনে না থেকে বরং চলে যান আত্মগোপনে।

সূত্রটি আরো জানায়, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের প্রেক্ষাপট বুঝতে অভিযুক্ত আসামীদের পক্ষে কারা আইনি লড়াই করেছে সেই আইনজীবীদের তালিকাটি বিবেচনা করা একান্তভাবে প্রয়োজন। এ থেকে সহজেই যে কেউ অনুধাবন করতে পারবে যে, নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের সকল সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিল বিএনপি-জামায়াত।

আসামীদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশগ্রহণকারী আইনজীবীরা হলেন-ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ (বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য),ব্যারিস্টার রফিকুল হক (খালেদা জিয়ার প্রধান আইনজীবী), এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন (বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা),ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া (বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য), এডভোকেট আমিনুর রহমান (হাওয়া ভবনের বিশেষ সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত জোট সরকারের পিপি),সাবেক এডভোকেট ফারুক আহমেদ (ছাত্র শিবির নেতা), এডভোকেট সুলতান (সাবেক শিবির নেতা), এডভোকেট জামাল (ঢাকা বারের লাইব্রেরি সম্পাদক ও বিএনপিপন্থী আইনজীবী), এডভোকেট সুলতানা আক্তার রুবি (বিএনপিপন্থী), এডভোকেট সুফিয়া আক্তার হেলেন বিএনপিপন্থী), এডভোকেট রমজান খান (বিএনপিপন্থী), এডভোকেট জহিরুল আমিন (বিএনপিপন্থী), এডভোকেট মো. জয়নুল আবেদীন (বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা), এডভোকেট শফিকুল ইসলাম (বিএনপিপন্থী), এডভোকেট টি এম আকবর (বিএনপি নেতা ও বার এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি), এডভোকেট এস এম শাহজাহান (জামায়াতপন্থী এবং যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসেইন সাঈদীর অন্যতম কৌঁসুলি), এডভোকেট শামীম সরদার (সুবিধাবাদি), এডভোকেট শেখ রাশেদুল হক (বিএনপিপন্থী), এডভোকেট মাজেদুর রহমান মামুন (বিএনপিপন্থী), এডভোকেট এস এম রেফাজ উদ্দিন (বিএনপিপন্থী), এডভোকেট আব্দুর রশিদ (বিএনপিপন্থী), এডভোকেট খন্দকার জামাল (বিএনপিপন্থী), এডভোকেট আব্দুল মান্নান (বিএনপিপন্থী), এডভোকেট হুমায়ুন কবীর (বিএনপিপন্থী) ও এডভোকেট এমদাদুল হক লাল (বিএনপিপন্থী)।

এ বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মন্তব্য, স্বাধীনতার পর থেকে এদেশকে অস্থিতিশীল করতে ষড়যন্ত্রকারীরা যে ধারাবাহিক অশুভ পরিকল্পনা করে আসছে, পিলখানা হত্যাকাণ্ড তারই অংশ। তাই এই হত্যাযজ্ঞে শুধু অংশগ্রহণকারীদের বিচার করলেই সব শেষ হয়ে যাবে না। একই সঙ্গে এ ঘটনার নেপথ্যের কুশীলবদেরও যথোপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করলে ভবিষ্যতে কেউই আর এ রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি করার দুঃসাহস করবে না। পারবে না নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য সরকারবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি