বুধবার ২১ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্রের ফসল বিডিআর বিদ্রোহ



বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্রের ফসল বিডিআর বিদ্রোহ


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
24.02.2021

ল্যান্ডমার্ক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচনে জয় লাভ করে আওয়ামী লীগ। এর মাত্র ৫২ দিন পর ঘটে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা। একাত্তরের পরাজয়ের পর যেমন নেমে এসেছিল ষড়যন্ত্রের ঘনঘটা, ষড়যন্ত্রকারীরা মেতে উঠেছিল হত্যাযজ্ঞে। নেমে এসেছিল পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট। ঠিকই একইভাবে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিটি চেয়েছিল স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে, বিতর্কিত করতে। প্রতিশোধ হিসেবে তাই বিএনপি-জামায়াত পাকিস্তানের আইএসআই এর সহযোগিতায় পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট রচনা করে। তারা চেয়েছিল, এর মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে।

দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যমতে, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ও হাজার হাজার সেনার রক্ত ঝরিয়ে বিএনপির রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তারা সব কিছু অবৈধভাবে হাসিলের চেষ্টা করে আসছে। তারই পথ ধরে তারা বারবার স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির উপর আঘাত হেনেছে। সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাও তার অংশ। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা যখন সরকার প্রধান হয়ে দায়িত্ব পালন শুরু করেন, তখন আবার একাত্তরের পরাজিত ওই শক্তিটির গাত্রদাহ শুরু হয়। তারা পাকিস্তানের সঙ্গে যোগসাজশ করে বিডিআর বিদ্রোহের নীলনকশা বাস্তবায়ন করে।

গল্পটা এখানেই শেষ নয়। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিডিআর বিদ্রোহের আগের রাতে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান লন্ডন থেকে তার মাকে ৪৫ বার ফোন করেন এবং নির্দেশনা দেন দ্রুত ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে বের হয়ে যেতে। এ কারণে যে খালেদার দুপুর ১২টার আগে ঘুম ভাঙেনা, তিনি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে বাসা থেকে বের হয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে পালিয়ে যান। যদি সম্পৃক্ততাই না থাকতো, কি ঘটতে যাচ্ছে সবকিছু নাই জানতেন, তবে কি কালো কাচের গাড়িতে করে পালাতেন বিএনপি নেত্রী? আশ্রয় নিতেন একটি দূতাবাসে গিয়ে?

সূত্রটি আরও জানায়, সব দল ও মানুষ ওই ভয়াল দুর্যোগময় মুহূর্তে সাহায্যে এগিয়ে এলেও শুধু এগিয়ে আসেনি বিএনপি-জামায়াত। তাই বলাই বাহুল্য, এ হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগাযোগ ছিল। এ কারণে দল-মত নির্বিশেষে সবাই যখন কীভাবে বিষয়টি সামাল দেয়া যায়, শান্তিপূর্ণ সমাধান করা যায়- সেজন্য ছুটে এসেছিল, তখন বিএনপি-জামায়াত জোটের কোন নেতাও সেখানে যাননি। বরং আত্মগোপনে ছিলেন। পাশাপাশি অভিযুক্তদের পক্ষে চক্রটি আইনি লড়াই করেছে।

সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে বিএনপি-জামায়াত নিয়ন্ত্রিত মিডিয়াগুলো জল ঘোলা করার পাঁয়তারায় ছিলো। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীও তখন আর্মি অফিসারদের মৃত্যু প্রসঙ্গে ‘কিছু প্রাণী মারা গেছে’ বলে বিদ্রূপ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-বিএনপি চক্র কখনোই দেশ ও দশের ভালো চায়নি। তারা দেশকে এগিয়ে নেয়ার পরিবর্তে বারবার চেয়েছে পিছিয়ে নিতে। চেয়েছে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে দেশকে পাকিস্তানের মতাদর্শে চালিত করতে। সেই ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ফসল হিসেবে এসেছে বিডিআর বিদ্রোহ। যার নেপথ্যে মদদদাতা বিএনপি-জামায়াত চক্র।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি