বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » মুশতাক আহমেদের স্বাভাবিক মৃত্যু নিয়েও অপপ্রচার!



মুশতাক আহমেদের স্বাভাবিক মৃত্যু নিয়েও অপপ্রচার!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
27.02.2021

যেন ইস্যুর অপেক্ষাতেই থাকে দেশবিরোধী চক্র ও তাদের ‘পেইড এজেন্ট’রা। এজন্য পান থেকে চুন খসার আগেই তারা ঘটনাপ্রবাহে রং মাখিয়ে দেন ভিন্ন মাত্রা। রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে, বিব্রত করতে। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের দায়ে অভিযুক্ত লেখক মুশতাক আহমেদের স্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে কুচক্রী মহলটি নোংরা অপপ্রচার চালাচ্ছে। সরকার পতনের রোগে তাদের হয়ে সেসব মিথ্যাচার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করছেন তাসনিম খলিল, পিনাকী ভট্টাচার্য, ডেভিড বার্গম্যান, সায়ের জুলকারনাইন সামি, মিনহাজ মান্নান, কনক সারোয়ার, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম গংরা। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে মুশতাক আহমেদের।

দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যমতে, সায়ের জুলকারনাইন সামি, মুশতাক আহমেদ ও মিনহাজ মান্নান তিনজনই ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী। সম্পর্কে তারা তিনজনই খুব ঘনিষ্ট ছিলেন। শুধু তাই নয়, আরেক জায়গায় তাদের গভীর মিল ছিল। তিনজনই সরকার বিরোধী অপপ্রচারে শীর্ষজনদের একজন করে ছিলেন। যার প্রমাণ I am Bangladeshi ফেসবুক পেইজ ও সর্বশেষ প্রকাশিত আল-জাজিরার রিপোর্ট।

গুজব ও ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মুশতাক আহমেদকে নির্যাতন করে মারা হয়েছে বলে অনলাইনে মিথ্যাচার করা হলেও তার পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, কারাবন্দী হওয়ার আগে থেকেই তিনি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ নানাবিধ শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে কাশিমপুর কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে কারা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। মূলত শারীরিক জটিলতার কারণেই তিনি মারা গেছেন। আমাদের সঙ্গে কারা সূত্রেরও একই দাবি। তাই এই মৃত্যু নিয়ে আমাদের কোনো অভিযোগ নাই।

তাহলে কেন এই মিথ্যচার, উত্তরটা খুব স্পষ্ট। দেশ সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে অদম্য গতিতে প্রশংসনীয়ভাবে এগিয়ে চলেছে। পৌঁছে গেছে উন্নয়নশীল
দেশের কাতারেও। শুধু তাই নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা সূচকেও এসেছে ঈর্ষণীয় অগ্রগতি। যা অনেক দেশের জন্য উদাহরণ। পাশাপাশি করোনা মোকাবিলাতেও বাংলাদেশ অর্জন করেছে অভূতপূর্ব সাফল্য। এসব কর্মতৎপরতায় সরকারের প্রতি মানুষের জনআস্থা বেড়েছে বহুগুণ। পক্ষান্তরে গাত্রদাহ শুরু হয়েছে দেশবিরোধী কুচক্রী মহলটির। তাই তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ নিয়েও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাতে পিছপা হননি। রাষ্ট্রবিরোধী এসব ষড়যন্ত্রের দায়ে গ্রেফতার হন মুশতাক আহমেদ এবং কিশোর। আর কারাগারে থাকাকালীন সময়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বাভাবিক মৃত্যু হয় মুশতাকের।

কিন্তু তার স্বাভাবিক মৃত্যুকে রাজনৈতিক মেরুকরণের মাধ্যমে নিজেদের ফায়দা হাসিলের চেষ্টার পাশাপাশি ইতোপূর্বেও চক্রটি সরকারের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র প্রচার করেছে। সর্বশেষ মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দিয়ে ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা তথ্যের সমন্বয়ে একটি ‘তথাকথিত তথ্যচিত্র’ বানিয়ে তারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করে। কিন্তু ষড়যন্ত্রমূলক ও বানোয়াট এই তথ্যচিত্রটি জনগণ প্রত্যাখ্যান করায় এবার তারা মুশতাক আহমেদের মৃত্যুকে ক্যাশ করে নতুন করে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন।

এ বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক বিজ্ঞজনরা বলছেন, আল-জাজিরার অপপ্রচারে কাজ না হওয়ায় তাসনিম খলিল, পিনাকী ভট্টাচার্য, ডেভিড বার্গম্যান গংরা এবার মুশতাক আহমেদের স্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে দেশবিরোধী নতুন চক্রান্ত করছে। এটা তাদের অস্থিগত পুরনো স্বভাব। তারা যাতে কোনভাবেই তাদের অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের মাধ্যম দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সে ব্যাপারে সরকারের পাশাপাশি আমাদের সবাইকে সদা সতর্ক থাকতে হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি