বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » other important » মুজিব কোট গায়ে দিয়ে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিলেন নব নির্বাচিত কাউন্সিলর



মুজিব কোট গায়ে দিয়ে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিলেন নব নির্বাচিত কাউন্সিলর


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
02.03.2021

ডেস্ক রিপোর্ট: যশোরের কেশবপুর পৌরসভা নির্বাচনে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন বিএনপি নেতা আফজাল হোসেন বাবু। সোমবার রাতে উপজেলার মজিদপুরে মুজিব কোট পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি। এসময় ফুলের মালা দিয়ে বাবুকে বরণ করে নেন মজিদপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, বাবু প্রায় ২৫ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। গতবছর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু টাকার বিনিময়ে বিএনপির নেতারা পদ বিক্রি করে দেওয়ায় যোগ্য প্রার্থী হয়েও দলে পদ পাননি আফজাল হোসেন বাবু। এ নিয়ে তখন থেকেই বিএনপির ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন বাবু।

রোববার কেশবপুর পৌরসভা নির্বাচনে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে দ্বিতীয়বারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হন আফজাল হোসেন বাবু। কিন্তু নির্বাচিত হয়েই আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার কারণ কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২৫ বছর ধরে একটা দল করি। ভেবেছিলাম দল এতদিনের কাজের মূল্যায়ন করবে। গত বছর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম। তখন টাকার বিনিময়ে জেলার সর্বোচ্চ নেতারা অযোগ্য ব্যক্তিকে পদ দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হলেও দল ত্যাগ করিনি। আশা ছিল, কেন্দ্রীয় নেতাদের জানালে তারা হয়ত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন, যোগ্য নেতাকে পদ দেবেন। কিন্তু ঢাকায় গিয়ে যখন এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের জানাই, তখন আমি আশ্চর্যের সাথে লক্ষ্য করলাম, পদ পেতে হলে লক্ষ লক্ষ চাঁদা দিতে হবে।

বাবু বলেন, বিএনপিতে দলীয় আনুগত্য এবং দলের জন্য ত্যাগের কোন মূল্য নেই, সেই দলে কেন থাকব? বিএনপি নেতারা এখন পুরোপুরি টাকার কাছে বিক্রি হয়ে গেছেন। দলীয় পদ পেতে হলে কেন্দ্রীয় নেতাদের লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হয়। নয়ত তাদের পিছনে পিছনে ঘুরলেও পদ পাওয়া যায় না।

পদ না পেয়ে আশাহত হয়ে নিজের এলাকায় ফেরত আসেন বাবু। এবারের পৌরসভা নির্বাচনেও বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে কোন সাহায্য করেননি বলে জানান। বাবু বলেন, নির্বাচনে আমার পক্ষে কাজ করতে দলের কর্মীদের চাইলে পৌর বিএনপির সভাপতি-সম্পাদক আমার ওপর রাগ ঝাড়েন। তারা আমাকে বলেন, খুব তো ঢাকায় গেলেন পদের জন্য, আমাদের বিরুদ্ধে বিচার দিয়েছিলেন। কিন্তু কিছু করতে পেরেছেন? আমরা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে পদ নিয়েছি। কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে তো আপনার লাভ। দলের কর্মীদের যদি নির্বাচনে কাজে লাগাতে চান তাহলে আমাদেরকে টাকা দিতে হবে। নয়ত কোন কর্মী আপনার পক্ষে কাজ করবে না।

বাবু বলেন, কেশবপুর পৌর বিএনপি নেতাদের টাকা না দিতে পারায় তারা নির্বাচনে আমার পক্ষে কাজ করেননি। বিএনপির জন্য এত ত্যাগ করেও কোন প্রতিদান পাই নি। বিএনপির স্থানীয় থেকে কেন্দ্রীয় সব পর্যায়ের নেতারা টাকা ছাড়া কিচ্ছু বোঝেন না। এরা জনগণের কথা ভাবে না, শুধু নিজের লাভের কথা ভাবে। তাই বিএনপি ত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। গত এক যুগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে উঠেছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। অচিরেই দেশ উন্নত দেশের কাতারে উঠে আসবে। উন্নয়নের পক্ষের সৈনিক হিসেবে কাজ করতেই আওয়ামী লীগে যোগ দিলাম।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি