মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » মানুষকে সাহায্য না করে সেই টাকায় বিএনপি কার্যালয়ের আলোকসজ্জা!



মানুষকে সাহায্য না করে সেই টাকায় বিএনপি কার্যালয়ের আলোকসজ্জা!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
03.03.2021

করোনায় মানুষকে সহায়তার উদ্দেশ্যে তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশ-বিদেশের বিভিন্নজন থেকে নেওয়া হয়েছে মোটা অংকের টাকা। এমনকি দলীয় ফান্ড থেকেও সাহায্যের জন্য নেওয়া হয়েছিল অর্থ। কিন্তু দিনশেষে সেই অর্থ কোথায় গেছে, তার সদুত্তর দলীয় হাইকমান্ডের কেউই দিতে পারেননি। তবে নতুন খবর হলো, সেই অর্থের একাংশ দিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। তারই অংশ হিসেবে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতিকৃতি দিয়ে সাজানো হয়েছে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়।

বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যমতে, ‘গরীবের হক মেরে’ দলীয় কার্যালয়ের সামনে বসানো হয়েছে বড়পর্দার টেলিভিশন। যেখানে ইতিহাস ও সত্য বিকৃত করে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র সারাবছর দেখানো হবে। রোববার (১ মার্চ) রাত ৮টায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বোতাম টিপে এই সাজসজ্জা ও চিত্র প্রদর্শনী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এসময় ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, সেলিমা রহমান, আমান উল্লাহ আমান, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, বিলকিস জাহান শিরিন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, নাজিম উদ্দিন আলম, আফরোজা আব্বাস, শিরিন সুলতানা, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, কাজী রওনাকুল ইসলাম, রফিক শিকদার, আহসান উল্লাহ চৌধুরী, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, হাবিবুর রশীদ হাবিব, শায়রুল কবির খান ও সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা নিউজ ব্যাংকের পক্ষ থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনে বিএনপির বছরব্যাপী নেয়া অনুষ্ঠানমালা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতিকৃতি দিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয় সাজানো হয়েছে। আলোকসজ্জার পাশাপাশি ভবনের সামনে আইল্যান্ড জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে। বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালা চলবে। সে লক্ষ্যে কমিটিও করা হয়েছে। তারাই সব দেখভাল করছে। তাছাড়া লন্ডন থেকে তারেক রহমান সার্বক্ষণিক এ বিষয়ে নির্দেশনা দিচ্ছেন। তার বেঁধে দেওয়া বাজেট অনুযায়ী দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী পরোক্ষভাবে এর ব্যয়ভার বহন করছেন।

এ ব্যাপারে রুহুল কবির রিজভী বলেন, করোনায় মানুষের সহায়তার জন্য তোলা চাঁদার কিছু অংশ বেচে গিয়েছিল। সেই টাকার সঙ্গে তারেক রহমান কিছু টাকা দিয়ে আবার বিভিন্নজন থেকে ফান্ডিং করে এই অনুষ্ঠানমালাকে সাফল্যমণ্ডিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। সে অনুযায়ীই কাজ হচ্ছে।

দলের ক্ষুব্ধ একটি অংশের দাবি, দলের অসহায় তৃণমূল নেতারা যেখানে করোনায় কর্মহীন হয়ে অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন, সেখানে তাদের সহায়তার অর্থ দিয়ে এমন জৌলসপূর্ণভাবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করা বিলাসিতা বৈ অন্যকিছু নয়। একটা কথা সব সময় মনে রাখা উচিত, কর্মী বাঁচলেই দল বাঁচবে। কারণ, কর্মীরাই দলের প্রাণ। তাই তাদের হক মেরে এই অনুষ্ঠান করার কোন মানে হয় না। আল্লাহ এটা কখনই সহ্য করবে না।

এ বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মন্তব্য, গরীব কিংবা এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করার নেশা বিএনপির বহু পুরনো। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এর মাধ্যমে তাদের আসল রূপ জনসম্মুখে আরেকবার বেরিয়ে এলো। জাতিও ঘৃণাভরে দেখলো তাদের অপকর্ম। এ সমস্ত কারণেই দিনকেদিন জনবিচ্ছিন্ন দলে পরিণত হচ্ছে বিএনপি। এমনটা চলতে থাকলে বিলুপ্তপ্রায় রাজনৈতিক দল হিসেবে অচিরেই বিএনপি ঠাঁই নেবে জাদুঘরে। আর পরবর্তী প্রজন্ম আঙুল তুলে বলবে, একদা এক দল ছিল। যার রন্ধ্রে রন্ধ্রে আদর্শের বিপরীতে ছিল পেটভরা অপকর্ম আর দুর্নীতি। সেদিন আর বেশি দূরে নয়, বোধকরি সন্নিকটেই।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি