বুধবার ২১ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » আবারও সরকারের শরণাপন্ন খালেদা, ক্ষুব্ধ তারেক



আবারও সরকারের শরণাপন্ন খালেদা, ক্ষুব্ধ তারেক


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
03.03.2021

জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান কিংবা দলের পক্ষ থেকে কিছু করা হয়নি। বাধ্য হয়ে তাই পরিবারের মাধ্যমে সরকারের অনুকম্পায় কারামুক্তি নেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই আবারও তিনি সরকারের দ্বারস্থ হলেন। করলেন দণ্ডাদেশ স্থগিত ও বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে আবেদন। আর এ খবর লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কানে পৌঁছতেই তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যমতে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে ছিলেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। গত বছরের ২৫ মার্চ শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য দণ্ড স্থগিত করে মুক্তি দেয় সরকার। এরপর দ্বিতীয় দফায় ফের ছয় মাস সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সেই মেয়াদ আগামী ২৫ মার্চ শেষ হচ্ছে। আর তার আগেই পূর্বের ন্যায় দল কিংবা পুত্র তারেকের সহায়তা ছাড়াই পরিবারের মাধ্যমে সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছেন খালেদা। মঙ্গলবার (২ মার্চ) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর আবেদনটি করেছেন তার ভাই শামীম ইস্কান্দার।

বাংলা নিউজ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলামের সঙ্গে। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি কিছু জানি না। আবেদনের বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু বলেনি।

একই কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খানও। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এমনকি ম্যাডামও (খালেদা জিয়া) আমাকে কিছু বলেনি।

খালেদার পরিবারের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জমা দেন। একইসঙ্গে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে তার স্থায়ী জামিনের আবেদনও করেন। তবে, এখন অবধি এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে খালেদা জিয়ার পরিবারকে কিছু জানানো হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে তার বর্তমান মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর (এক্সটেনশন) জন্য একটি আবেদন আমার কাছে দিয়েছেন। এখন কি ব্যবস্থা নেয়া যায় তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আবেদন পত্রটি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। পরবর্তী আপডেট যথা সময়েই জানানো হবে।

ঘটনার আদ্যোপান্ত জেনে দারুণভাবে চটেছেন লন্ডনে পলাতক ফেরারি আসামি ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লন্ডনের কিংস্টন ভিত্তিক সূত্রের দাবি, পরিবারের পাশাপাশি দলেরও গুরুত্বপূর্ণজন তারেক। কিন্তু তাকে না জানিয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া যে কাজটি করেছেন, তা কোনভাবেই মানতে পারছেন না তারেক। তার ধারণা, দলের অন্যান্য নেতাকর্মীদের মতোও খালেদা সরকারের ইশারায় চলছেন। তাই এমন সিদ্ধান্ত তিনি সাবলীলভাবেই নিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিজ্ঞজনরা বলছেন, ছেলে কিংবা দলের পক্ষ থেকে কোনরূপ সহায়তা না পেয়েই খালেদা পূর্বের ন্যায় এবারও সরকারের দ্বারস্থ হয়েছেন। বুঝে গিয়েছেন, দল কিংবা তারেক কখনই তার জন্য কিছু করবে না। করলে আগেই করতো। যেটা সরকার করেছে তার জন্য। মহানুভবতার পরিচয় দিয়ে কারামুক্ত করেছে। তাই সেই নির্ভরতার জায়গা থেকে এবারও খালেদা সরকারের শরণাপন্ন হয়েছেন। যা শুনে ইতোমধ্যে গাত্রদাহ শুরু হয়ে গেছে তারেকের। জ্বলছেন তেলে-বেগুনে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি