রবিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » বয়স্ক নেতৃত্বের পরিবর্তন চায় বিএনপির তৃণমূল!



বয়স্ক নেতৃত্বের পরিবর্তন চায় বিএনপির তৃণমূল!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
05.03.2021

নিউজ ডেস্ক: বিগত সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন ও খালেদার জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে যেসব নেতাকর্মী ব্যর্থ ও নিষ্ক্রিয় ছিলেন তাদের পদ পরিবর্তন চায় বিএনপি’র তৃণমূল।

তারা মনে করেন, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সিনিয়র নেতাদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অদক্ষতা ও অযোগ্যতা লক্ষ্য করা গেছে। এসব নেতাদের ভয়-ভীতি, ব্যক্তিস্বার্থ বিএনপি’র আন্দোলন-সংগ্রামকে দুর্বল ও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

তাদের কর্মকাণ্ড ও তৎপরতাকে সাংগঠনিকভাবে গুরুতর অপরাধ বলে গণ্য করা উচিত। এ ধরনের নেতাকর্মীদের কারণেই আন্দোলন তীব্র করা যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা বিএনপি’র কয়েকজন নেতা জানান, বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম ও খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে ঢাকায়ও প্রত্যাশিত আন্দোলন হয়নি। ঢাকার আন্দোলন সফল হলে তার সুফল আমরাও পেতাম।সরকারবিরোধী ও খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে কেন্দ্রীয় নেতারা ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তারা বলেন, যারা দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও সরকারবিরোধী ও খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। তাদেরকে দল থেকে সরে যেতে হবে।

তৃণমূল নেতারা আরো বলেন, মাঠ পর্যায়ের নেতাদেরও ব্যর্থতা আছে। তবে যারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে থেকে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে আগে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিষয়ে একাধিক বিএনপিপন্থী রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বুদ্ধিজীবী জানান, আন্দোলন সংগ্রামে সফল হওয়ার জন্য তরুণ, দক্ষ এবং চৌকস নেতা প্রয়োজন। বিএনপিতে এখন এর বড়ই অভাব।

তারা বলেন, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটি এখন বয়স্ক ও অসুস্থ নেতাদের দিয়ে ভরা। যারা আন্দোলন-সংগ্রামে ঘর থেকে বের হতে পারেন না। কোনো কর্মসূচিতে ২ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না। তাদের দিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম সম্ভব নয়। তাই বিএনপি’র স্থায়ী কমিটিতে এখন সংস্কার দরকার। দক্ষ, মেধাবী ও চৌকস নেতাদের এগিয়ে নিয়ে আসতে হবে। তাদেরকে দায়িত্ব দিতে হবে।

এছাড়া দলের দায়িত্ব প্রতিটি নেতার উপর দিতে হবে। শুধুমাত্র লন্ডন বার্তার জন্য অপেক্ষা করা যাবে না। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে প্রত্যেককে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নেতৃত্বের সমন্বয় দরকার।

এদিকে দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, দীর্ঘ প্রায় দুই বছরের অধিক সময় কারাবরণ শেষে খালেদা জিয়ার মুক্তির পর সংগঠন গোছানোর পাশাপাশি দলের কাউন্সিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে এ বছর শেষের দিকেই হতে পারে বিএনপি’র সপ্তম কাউন্সিল।

সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবিশ্বাস্য ভরাডুবির পর ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ের অংশ হিসেবেই এই কাউন্সিলকে গুরুত্ব দিচ্ছে এক সময়ের রাজপথের প্রধান এই বিরোধী দল। তবে এবারের কাউন্সিলে অকার্যকর ও বৃদ্ধদের পরিবর্তন চান বিএনপির তৃনমূল নেতৃবৃন্দ।

এ বিষয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা দলের সপ্তম কাউন্সিল নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি। তবে এখনো দিনক্ষণ ঠিক করা হয়নি।

জানা গেছে, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শীর্ষ পদে তেমন পরিবর্তন না হলেও স্থায়ী কমিটিতে পরিবর্তন আসবে। বাদ দেয়া হবে অসুস্থ ও নিষ্ক্রিয়দের। এছাড়া শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে ত্যাগী ও চৌকস নেতাদের দিয়ে।

দলের তৃতীয় শীর্ষ পদে এবার নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা দল পরিচালনায় ব্যর্থসহ বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এরইমধ্যে আলোচনায় এসেছে। তবে দলের একটি অংশ মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পুনরায় পদে থাকার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা পরিষদ, যুগ্ন মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সম্পাদকীয় পদগুলোতে যোগ্য, তরুণ ও মেধাবীদের আনা হবে।

দলীয় সূত্র থেকে আরো জানা যায়, ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটিতে ৫টি পদে নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বশেষ ষষ্ঠ কাউন্সিলে দলের যে স্থায়ী কমিটি করা হয়, তাতে দুটি পদ খালি রাখা হয়। এরমধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ.স.ম হান্নান শাহ ও এমকে আনোয়ার মারা গেছেন। ফলে পাঁচটি পদ শূন্য হয়।

সম্প্রতি স্থায়ী কমিটিতে সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরো তিনটি পদ ফাঁকা রয়েছে। এদিকে বার্ধক্যজনিত কারণে ও অসুস্থতার জন্য স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও মাহবুবুর রহমান দলীয় কর্মকাণ্ডে অনুপস্থিত।

তাছাড়া ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার অসুস্থ। তিনটি পদ ফাঁকা ও আরো কমপক্ষে দুজনের বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে পদে নতুন মুখ আসবে। এসব পদে তরুণদের মধ্যে কেউ কেউ জায়গা পেতে পারেন। এরইমধ্যে জায়গা পেতে বিএনপি’র সিনিয়র নেতারা যার যার মতো করে সক্রিয় হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় নির্বাহী কমিটির তিন বছরের মেয়াদ গত বছরের ১৯ মার্চ শেষ হয়েছে। সর্বশেষ বিএনপি’র কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি