মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১



কোন পথে বিএনপির রাজনীতি?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
06.03.2021

নিউজ ডেস্ক: দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারান্তরীণ ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। পরে গত বছরের ২৫ মার্চ সরকারের মহানুভবতায় পেয়েছেন শর্তসাপেক্ষে মুক্তি। এ মুক্তির পেছনে দল কিংবা তারেক রহমান নয়, ভূমিকা রয়েছে তার পরিবারের। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, তাহলে দলীয় নেতাকর্মীরা কি করছেন? নেত্রীর কারামুক্তি বা দলীয় কোন আন্দোলনেও তাদের কেন দেখা নেই? তাহলে কি রাজনৈতিক দল হিসেবে মৃত্যু ঘটেছে বিএনপির?

দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যমতে, মাঠের রাজনীতিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ দলে পরিণত হয়েছে বিএনপি। শুধু তাই নয়, দলটির রাজনৈতিক ধ্বজভঙ্গতা এমন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যে, দলীয় কর্মসূচি বলতে কিছুই অবশিষ্ট নেই বিএনপির। ছিটেফোঁটা যাও মাঝেমধ্যে ‘লোক দেখানো’ রাজনৈতিক কর্মসূচির আহ্বান করা হয়, সেসব সভা-সমাবেশে নেতাকর্মীরা এসে ব্যস্ত হয়ে পড়েন খোশগল্প আর সেলফি তোলায়। বাকি যারা আসেন না, তারা সময়ক্ষেপণ করেন নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্যে।

অন্যদিকে, সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পাওয়ায় দলীয় সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে নিজের আলাদা সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও খালেদার জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমান। তিনি টাকার বিনিময়ে অযোগ্য ও হাইব্রিড নেতাদের পদ-কমিটি ও মনোনয়ন প্রদান করছেন। এর ফলে দলের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতারা তারেকের স্বৈরতন্ত্রে বিরক্ত হয়ে দলবিমুখপূর্বক নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন। আবার কেউবা পদত্যাগ করে রাজনীতিকেই ‘গুড বাই’ জানাচ্ছেন। তবে এসবে ভ্রুক্ষেপ নেই লন্ডনে বিলাসী জীবন যাপনকারী পলাতক এই ফেরারি আসামির।

বাংলা নিউজ ব্যাংকের সঙ্গে আলাপনে এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য বলেন, দলের অভ্যন্তরে কি হচ্ছে, তা কেবল আমরাই জানি। তারেক রহমানের অত্যাচারে সবাই অতিষ্ঠ। কিন্তু তার বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছে না। তবে একটা কথা তার মনে রাখা উচিত, আগুন বেশিক্ষণ চাপা দিয়ে রাখা যায় না। তাই দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলও একদিন দাবানল হয়ে বিস্ফোরিত হবে। সেদিন জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে তারেকের ‘সুখের সাম্রাজ্য’, তার স্বৈরতন্ত্র। কারণ, দড়ি টানা ভালো তবে বেশি নয়। বেশি টানলেই তা ছিঁড়ে যায়। তিনি দল সামলানোর নামে যা করছেন, তা নিতান্তই নিরীহদের ওপরে স্টীমরোলার চালানো বৈ অন্যকিছু নয়।

তবে এসব কথা মানতে নারাজ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, দলে কোন সমস্যা নেই। সাংগঠনিক অবস্থাও ভালো। তবে হালকা-পাতলা মনোমালিন্যের ঘটনা আছে। আর এটা বড় যে কোন রাজনৈতিক দলেই থাকে। এটা তেমন কিছুই না।

এ বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জনগণের মন থেকে বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটার অস্তিত্বই মুছে গেছে। আর কেনই বা মুছবে না, তাদের অতীত অপকর্ম যা জঘন্য! দুর্নীতি, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, এতিমের টাকা আত্মসাৎ, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা, কী করেনি তারা। জনগণও তাই ব্যালট-ইভিএমে বিগত অনুষ্ঠিত সবগুলো নির্বাচনে সেসবের দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছে। তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে। সবমিলিয়ে জনআস্থা হারিয়ে ক্রমেই জাদুঘরের রাজনৈতিক দলে পরিণত হচ্ছে বিএনপি।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি