বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » বিএনপির প্রতি ‘মানুষের অনাস্থা’ এবং প্রাসঙ্গিক বাস্তবতা



বিএনপির প্রতি ‘মানুষের অনাস্থা’ এবং প্রাসঙ্গিক বাস্তবতা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
07.03.2021

সন্ত্রাস, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ, এতিমের টাকা আত্মসাৎ, জ্যান্ত মানুষ পুড়িয়ে হত্যা, বিদেশে টাকা পাচার- কী করেনি বন্দুকের নলের মাধ্যমে জন্ম নেয়া দল বিএনপি। অতীত এসব অপকর্ম তাদের ক্রমেই জনবিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক দলে পরিণত করেছে। যার প্রতিফলন ঘটেছে বিগত অনুষ্ঠিত সবগুলো নির্বাচনে। ব্যালট-ইভিএমের মাধ্যমে তারা জনগণের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যমতে, বিএনপির রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি আর অনিয়ম। দল সৃষ্টির উষালগ্ন থেকেই তারা এই ঐতিহ্য বহন করে আসছে। নিজেদের শাসনামলে বিএনপি নেতৃবৃন্দ দেশ ও দশের কথা না ভেবে বরাবরই নিজেদের কথা ভেবেছেন, আখের গুছিয়েছেন। দেশ-বিদেশে বানিয়েছেন আলাদা এক সাম্রাজ্য। কিন্তু পরবর্তীতে সেই অমোঘ বাক্য ‘পাপ কখনো বাপকে ছাড়ে না’র সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। আইনের আওতায় এসেছেন বিএনপির দুই শীর্ষ নেতৃত্ব বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান। দু’জনাই দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত। একজন (খালেদা জিয়া) সাজাভোগ করছেন, আরেকজন (তারেক রহমান) পলাতক জীবন যাপন করছেন। সর্বশেষ তথ্য হলো, সরকারের মহানুভবতায় বিশেষ শর্তে কারান্তরীণ অবস্থা থেকে গত বছরের ২৫ মার্চ মুক্তি পেয়েছেন বিএনপি নেত্রী। অপরদিকে, সরকার পতনের রোগে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনে বসে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার চালানোর মাধ্যমে বেপরোয়া জীবনযাপন করছেন ‘দুর্নীতির বরপুত্র’ তারেক।

এখানেই শেষ নয়। তারেক কৌশলে মা খালেদাকে হটিয়ে দলের পুরো ক্ষমতা কুক্ষিগত করে নিয়েছেন। কায়েম করেছেন স্বৈরতন্ত্র। টাকার বিনিময়ে বহিরাগত-অযোগ্য-হাইব্রিডদের দিচ্ছেন পদ-মনোনয়ন, এমনকি দিচ্ছেন কমিটিতে ঠাঁইও। এতে করে দলের ভেতর অনৈক্য ও কোন্দল এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে, কেউ কাউকে তারা মানেন না। আসেন না দলীয় কোন কর্মসূচিতেও। আর যে দু’চার জনা চক্ষুলজ্জার খাতিরে আসেন, তারা মেতে থাকেন খোশগল্প আর সেলফি তোলায়।

সূত্রটি আরো জানায়, নিজেদের শাসনামলে সীমাহীন দুর্নীতির কারণে বিএনপি দুর্নীতিতে দেশকে ৫ বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল, যা মানুষ আজও ভোলেনি। ভোলেনি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন প্রহসনের নির্বাচনের কথাও। সেদিন তারা ভোট ডাকাতির নির্বাচন করে। যা দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এখনও এক কলঙ্কিত অধ্যায়। আজ তারাই আবার গলাবাজি করে নিজেদের ‘গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালা’ বলে দাবি করে। যা হাস্যকর বৈ অন্যকিছু নয়।

দেশে বাংলা ভাই তথা সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের উত্থানও খালেদা-তারেকের হাত ধরেই হয়েছিল। আর তাদের গঠিত সরকার ছিলো ওই সব অপকর্মের পৃষ্ঠপোষক। আইনের আওতায় এসে পরবর্তীতে অভিযুক্তরা সেসব অকপটে স্বীকারও করেছেন। বলেছেন, তাদের পেছনে অর্থায়ন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারই করেছে। পাকিস্তানের মদদে তারা একটি নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে জঙ্গিরাষ্ট্র বানাতেই এসব করেছে। তাদেরকে সমস্ত নির্দেশনা দেয়া হতো ‘হাওয়া ভবন’ থেকে। তারেক রহমান সেখান থেকে তাদেরকে বার্তা পাঠাতেন, আর বলতেন কিভাবে রাজনীতিকরণ করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে হবে।

বিএনপির আজকের ‘জনবিচ্ছিন্ন দলে’ পরিণত হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে আরেকটি কারণ। তারেক রহমান ক্ষমতার মোহে এতোটাই অন্ধ হয়ে গিয়েছেন যে, তিনি ‘ধরাকে সরা জ্ঞান’ করছেন। এ কারণে তিনি সিনিয়র নেতাদের সাথে দুর্ব্যবহার ও তাদেরকে অবজ্ঞা-অবমূল্যায়ন করছেন। যার প্রতিফলন ঘটছে দলীয় রাজনীতিতে। কেউ কেউ দল ত্যাগ করছেন। আবার কেউবা দলবিমুখ হয়ে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। যার ফলে নির্বাচনে বারবার ভরাডুবি হচ্ছে দলটির।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, ইতিহাস কথা বলে। বিএনপির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। দলটির অতীত অপকর্মের ইতিহাস মূল্যায়ন করেই ভোটাররা তার জবাব ব্যালট-ইভিএমের মাধ্যমে সবগুলো অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দিয়েছেন। জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের মত দুর্নীতিবাজ দলকে বাংলার জনগণ চায় না। চায় না তাদের অপশাসন।

 



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি