বুধবার ২১ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » মির্জা আব্বাসের মুখে ‘৭ই মার্চের বন্দনা’, ক্ষুব্ধ তারেক



মির্জা আব্বাসের মুখে ‘৭ই মার্চের বন্দনা’, ক্ষুব্ধ তারেক


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
07.03.2021

মির্জা আব্বাস ও তারেক রহমান

সত্য কিংবা আগুন কোনটাই কখনও চাপা থাকে না। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। ৭ই মার্চের ভাষণ নিয়ে এবার মুখ খুললেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, করলেন তার প্রশংসা। আর এ খবর লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কানে পৌঁছতেই তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। বলেছেন, এর ফল আব্বাসকে ভোগ করতে হবে।

দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যমতে, বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ সভা মঞ্চের সামনে প্রথম যে বাঁশের ব্যারিকেড বা নিরাপত্তা বেষ্টনী সেখানে বসেই ভাষণ শুনেছিলেন। দিচ্ছিলেন আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে স্লোগান। সেদিনের ২০ বছর বয়সী টগবগে আব্বাস বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর প্রতি তার এই শ্রদ্ধা ও সম্মানের কথা তিনি মুখ ফুটে বলতে পারেন না। কারণ, বললেই তারেক রহমান তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন। তারপরেও বছর ঘুরে ক্যালেন্ডারের পাতায় ৭ মার্চ এলে তিনি স্মৃতিরোমন্থন করেন।

যেমনটা করলেন এই প্রতিবেদকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণের পর পরিষ্কার হয়ে গেল, যুদ্ধই একমাত্র মুক্তির পথ। তাই অগ্রপশ্চাৎ না ভেবে বঙ্গবন্ধুর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী ঝাঁপিয়ে পড়লাম মহান মুক্তিযুদ্ধে। আরেকটি বিষয় না বললেই নয়। সেটি হলো, তখন সারাদেশে মানুষের সংখ্যা ছিল সাত কোটি। এদের মধ্যে ঢাকা শহরে বাস করত ২০ বা ২৫ লাখ মানুষ। সেদিক থেকে বিচার করলে ৭ই মার্চের ভাষণ শুনতে ঢাকার প্রায় সব মানুষই চলে এসেছিল। স্বাধীনতার আগে একসঙ্গে এত মানুষ আমরা দেখিনি। মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কারণেই স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হয়েছিল। আর এর পেছনে প্রেরণা যুগিয়েছিল ঐতিহাসিক সেই ভাষণ।

বিএনপির এই রাজনীতিবিদ আরও বলেন, বর্তমানে আমি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। দায়িত্ব পালন করেছি ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে। মন্ত্রীও হয়েছি একবার। ঢাকা-৬ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যও ছিলাম আমি। এসব যেমন মিথ্যে নয়, তেমন বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণও একচুল মিথ্যে নয়। ওই ভাষণে দিকনির্দেশনা এসেছিল বলেই স্বাধীন ভূখণ্ড ও লাল-সবুজের পতাকা প্রাপ্তি হয়েছে। এটা কোনভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই।

মির্জা আব্বাসের এমন ‘বঙ্গবন্ধু বন্দনা’ দেখে ক্ষুব্ধ তারেক রহমান। লন্ডনের কিংস্টনভিত্তিক সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রচণ্ডভাবে রেগে আছেন মির্জা আব্বাসের উপর। শুধু তাই নয়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর গুলশানের একটি মিলনায়তনে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, একাত্তরের ৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ অবশ্যই ইতিহাস। সবমিলিয়ে এই দুই জ্যেষ্ঠ নেতার উপর দারুণভাবে ক্ষিপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি এর শেষ দেখে ছাড়বেন বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিজ্ঞজনদের ভাষ্য, সত্য কখনো লুকানো যায় না। একদিন না একদিন তা প্রকাশিত হবেই। মির্জা আব্বাসের ক্ষেত্রেও তেমনটা হয়েছে। তিনি ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব স্বীকার করেছেন, আর তাতেই পিত্তি জ্বলে যাচ্ছে তারেক রহমানের। কারণ, অপ্রিয় সত্য তিনি কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। মেনে নিতে পারছেন না আব্বাসের এই ওদ্ধত্যকে। বলছেন এর কঠোর বিচার করবেন তিনি। প্রয়োজনে দল থেকে তাকে বেরও করে দেবেন!



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি