বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২১



কী করেনি জিয়াউর রহমান?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
07.03.2021

নিউজ ডেস্ক: জিয়াউর রহমান। নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ভয়ংকর এক মানুষের মুখাবয়ব। যিনি ক্ষমতা দখল, স্বৈরশাসন ও গণতন্ত্র হরণের জনক। শুধু তাই নয়, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশকে উল্টোপথে নিয়ে যাওয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন, তার সবই করেছিলেন তিনি।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে, স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের শাসনামল ছিল এক ভয়ংকর অধ্যায়। সে সময়ে আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ছিল বাংলাদেশ। আর তার এই ক্ষমতায় আরোহণের নেপথ্যে ছিল এক কালো ইতিহাস। ষড়যন্ত্র করে তিনি সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার নীল নকশা বাস্তবায়ন করেন। দখল করেন বন্দুকের নলের মুখে ক্ষমতা।

শুধু তাই নয়, সংবিধান লঙ্ঘন করে জিয়াউর রহমান একই সাথে সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতির পদ দখল করেন। প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এরপর শুরু হয় তার নতুন খেলা। ‘হ্যাঁ-না’ভোটের মাধ্যমে তিনি জনগণের ভোটাধিকার হরণের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের করেন সানন্দে পুনর্বাসন।

সূত্রটি আরো জানায়, আর্মি অ্যাক্ট ভায়োলেশন করে সেনানিবাসে তার বিরুদ্ধে মতকারীদের তথাকথিত ক্যু’র অভিযোগে হাজার হাজার নিরাপধরাধ সৈনিককে জিয়াউর রহমান হত্যা করেন। নির্মম এই হত্যাযজ্ঞ দেখে শুধু বাংলাদেশ নয়, কেঁপে উঠেছিল সমগ্র বিশ্ব। নীরবে ফেলেছিল চোখের জল। নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের মধ্য দিয়ে তিনি ৭৫’র ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করে রাখেন। পাশাপাশি খুনিদের সুরক্ষা ও হত্যাকারীদের বিদেশে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেন।

গল্পটা এখানেই শেষ নয়। জেল হত্যা বিচারেরও উদ্যোগ নেননি জিয়া। উপরন্তু নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য রোপণ করেছিলেন উগ্র সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিষবৃক্ষ। একই সঙ্গে মদ, জুয়া ও পতিতাবৃত্তির লাইসেন্স দেয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি করেন সামাজিক বিশৃঙ্খলা। সবমিলিয়ে এহেন কোন জঘন্য কাজ নেই, যা নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য করেননি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা।

স্বৈরশাসক জিয়া দেশের তরুণদের দুর্বৃত্তায়নের দিকে ধাবিত করেন বলে উল্লেখ করেছেন পাকিস্তানের সাংবাদিক ও লেখক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস। তিনি তার ‘বাংলাদেশ: অ্যা লেগাসি অব ব্লাড’ বইতে জিয়ার শাসনামলকে ‘অমানিশার সরকার’ বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন। লিখেছেন, গ্রাম্য যুবকদের জিয়া হাট-বাজারের ইজারার অধিকার দিয়ে দলীয় ক্যাডারে পরিণত করেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রদের নষ্ট রাজনীতির পঙ্কিল পথে টেনে আনেন।

রাজনৈতিক বিজ্ঞজনরা বলছেন, একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতার নেপথ্য গল্প যদি এমন হয়, তবে আপনারাই ভেবে দেখুন সেই দলের মাধ্যমে জনকল্যাণ কিভাবে বয়ে আসবে? আর কেনই বা মানুষ তাদের বিশ্বাস করবে? তার অতীত সব অপকর্মের কারণে বিএনপি আজও তার ফল ভোগ করছে। পরিণত হয়েছে জনবিচ্ছিন্ন ও সাংগঠনিক তৎপরতাহীন ধ্বজভঙ্গ রাজনৈতিক দলে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি