মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » ১৯৯৬ এর ১৫ ফেব্রুয়ারি, বিএনপির ভোট ডাকাতির মহোৎসব



১৯৯৬ এর ১৫ ফেব্রুয়ারি, বিএনপির ভোট ডাকাতির মহোৎসব


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
07.03.2021

নিউজ ডেস্ক : ‘গণতন্ত্র’ ও ‘জাতীয়তাবাদী রাজনীতি’র নামে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ১৯৯১ সালে গঠিত হলেও সে সময়ে গণতন্ত্রের ‘গ’ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ক্ষমতায় এসেই আসন চিরস্থায়ী করার ষড়যন্ত্র স্বরূপ তারা ছোট ছোট বিভিন্ন জঙ্গি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তৈরি করা শুরু করে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিলো ক্ষমতার শেষ সময়ে উক্ত জঙ্গি ও সন্ত্রাসী গ্রুপকে কাজে লাগিয়ে একটি অবৈধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা।

তবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাদের এই ষড়যন্ত্র বুঝে ফেলে। সঙ্গে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার উদ্দেশ্যে তত্বাবধাক সরকার বিল পেশ করে ১৯৯৩ সালে। তৎকালীন খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার এই দাবি মেনে না নিয়ে আওয়ামী নেতা-কর্মী ও প্রতিবাদী জনতার উপর তাদের সন্ত্রাসীগোষ্ঠীকে ব্যবহার করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সহিংস ঘটনার পাশাপাশি বিরোধীদলগুলোর প্রবল প্রতিবাদ ও নির্বাচন বর্জনের পরও খালেদা জিয়া এসবের তোয়াক্কা না করে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছাড়াই ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করেন।

উক্ত একদলীয় নির্বাচন প্রতিহত ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং গণমানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠাকল্পে সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই পল্লীশাসন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারায় বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের ছাত্র হুমায়ুন কবির চৌধুরী নাহিদ।

১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির এই বানোয়াট নির্বাচন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ অধিকাংশ বিরোধী রাজনৈতিক দল বর্জন করেছিল। মোট ভোট গৃহীত হয়েছিল মাত্র ২১%। তবে এই ভোট চুরির নির্বাচনে নিজেকে জয়ী দাবি করে ক্ষমতার চেয়ারে নির্লজ্জের মতো বসে পড়ের খালেদা জিয়া। যদিও শেখ হাসিনার আহ্বানে দেশব্যাপী অসহযোগ আন্দোলন, জনগণের তীব্র চাপ ও প্রতিবাদের মুখে ৩ মার্চ জাতির উদ্দেশে ভাষণে খালেদা জিয়া ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল আনার ঘোষণা দেন।

খালেদা জিয়ার পরামর্শক্রমে ৩০ মার্চ রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয় এবং বেগম জিয়া পদত্যাগ করেন। রাষ্ট্রপতি সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয় লাভ করে সরকার গঠন করে।

এছাড়া বিএনপির ভোট চুরির আমলনামা এখানেই শেষ নয়। ২০০১ সালের নির্বাচন-উত্তর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে (২০০১-২০০৬) ফের ইসলামের নামে জঙ্গি-সন্ত্রাসী গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় মদদ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। ফলে দেশজুড়ে জামা’তুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), জাগ্রত মুসলিম জনতা, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, হরকাত-উল-জিহাদ, হিজবুত তাহিরী, আল-জিহাদ বাংলাদেশ, আল্লাহর দল ব্রিগেড ইত্যাদি নামে অসংখ্য জঙ্গিগোষ্ঠী ও এদের নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। খালেদা জিয়া সরকার ২০০৬ সালের নির্বাচনের জন্য ভোটার লিস্টে ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার অন্তর্ভুক্ত করেন।

ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে বিএনপির এসব দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র দেশের মানুষ আজও ভুলিনি। সঙ্গে মানুষ এর পুনরাবৃত্তি চায় না। মূলত এ কারণেই জনগণের চোখে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিএনপি।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি