বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » বিকল্প সরকার ব্যবস্থা প্রণয়ন করেছিল ‘হাওয়া ভবন’!



বিকল্প সরকার ব্যবস্থা প্রণয়ন করেছিল ‘হাওয়া ভবন’!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
07.03.2021

নিউজ ডেস্ক: হাওয়া ভবন, দেশের ইতিহাসে সব থেকে বেশি সমালোচিত ও বিতর্কিত ভবনের নাম। বিগত জোট সরকারের আমলে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিতি পায় এই ভবন। বলা হয়ে থাকে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের জয়ী হওয়ার পেছনে ভবনটি বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। পরবর্তীতে এটি দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সন্ত্রাসের সমার্থক হয়ে দাঁড়ায়।

বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যমতে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সংবিধান অনুযায়ী সংসদ ভবন থেকে দেশ চলার কথা হলেও, দেশ চালান হতো কুখ্যাত ‘হাওয়া ভবন’ থেকে। অর্থাৎ সোজা বাংলায় বলতে গেলে, বিকল্প সরকার ব্যবস্থা প্রণয়ন করেছিল ভবনটি। যার অদ্বিতীয় নিয়ন্ত্রক ছিলেন খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান। তখন তিনি তারেক ভাইয়া এবং যুবরাজ নামে পরিচিত ছিলেন। ছায়াসঙ্গী হিসেবে সে সময় সার্বক্ষণিক তার সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক ছাত্রনেতা রকিবুল ইসলাম বকুল, ডা. ফিরোজ মাহমুদ ইকবাল, আশিক ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন অপু, বগুড়ার সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুর ছেলে জয়, অমিতাভ সিরাজ, জহির উদ্দিন স্বপন, আব্দুস সালাম পিন্টু সহ আরও অনেকে থাকতেন।

তাদের কাজ ছিল সমান্তরাল সরকার পরিচালনার মাধ্যমে যেকোনো ব্যবসায় ১০ শতাংশ কমিশন বসিয়ে তা আদায় করা। শুধু তাই নয়, চাঁদা না দিলে ভয় ভীতি প্রদর্শন করা হতো হাওয়া ভবনে ডেকে। সে কারণে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ব্যবসায়ীরা সব সময় ভয়ে থাকতো এই ভেবে যে, হাওয়া ভবন থেকে কখন কার ডাক আসে। রাজনীতিবিদ-ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশাজীবী, সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ এমন কেউ ছিলেন না, যাকে ওই সময় হাওয়া ভবনে হাজিরা দিতে হয়নি।

রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য কুখ্যাতি পাওয়া রাজধানীর বনানীর সেই ১৩ নম্বর সড়কের ৫৩ নম্বর বাড়িটিতে তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং নানা অবৈধ ব্যবসার সহযোগী গিয়াসউদ্দিন আল মামুনসহ আরও বেশ কয়েকজন তরুণ নিয়মিত যাতায়াত করতেন। তারা ক্যাসিনো ব্যবসার জন্ম, সুইস ব্যাংকে টাকা পাচারসহ অসংখ্য অনৈতিক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। যেগুলোর নিয়ন্ত্রণ এই ‘হাওয়া ভবন’ থেকেই হতো। এমনকি ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়েও হাওয়া ভবনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতে জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নান তার বয়ানে বলেন, হাওয়া ভবনে বসেই ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা পরিকল্পনা করা হয়েছিল। হামলার তিন দিন আগে হাওয়া ভবনে তারেক রহমান, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু, জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদসহ বেশ কয়েকজন জঙ্গি সদস্য একান্তে বৈঠক করেন। আর সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয় গ্রেনেড হামলার।

দেশে জঙ্গিবাদ কিংবা বাংলা ভাইদের মতো মানুষের উত্থানও ঘটে ‘হাওয়া ভবন’র ইশারায়। দেশব্যাপী বোমা হামলার ঘটনাতেও এই ভবনের সম্পৃক্ততা ছিল। সম্পৃক্ততা ছিলো চট্টগ্রামের ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানেও। পরবর্তীতে যা প্রকাশ্য হয়। অস্ত্র চোরাচালান মামলায় সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবরসহ ১৪ জনকে ফাঁসির আদেশ দেন আদালত।

এ বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, অতীত মুছে ফেলা কঠিন। বিএনপিও তাদের অপকর্মের অতীত মুছতে পারেনি। এ কারণে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। হয়েছে তুমুল সমালোচিত-বিতর্কিতও। সাধারণ জনগণও অতীত পর্যালোচনা করে নির্বাচনের ব্যালট-ইভিএমে তাদেরকে বর্জন করেছে বারবার।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি