বুধবার ২১ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » other important » জিয়াউর রহমান: বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পৃষ্ঠপোষক, এক কুখ্যাত ব্যক্তির নাম



জিয়াউর রহমান: বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পৃষ্ঠপোষক, এক কুখ্যাত ব্যক্তির নাম


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
07.03.2021

নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের মহা-নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধ ছিল ২১ বছর। এ দীর্ঘ সময়ে জিয়াউর রহমানের শাসনামল এবং খালেদা জিয়ার দুই আমলের বিএনপি সরকার বাংলাদেশের ইতিহাসের এই কলঙ্কজনক হত্যাকাণ্ডের বিচার হতে দেয়নি। বরং তৎকালীন সরকার মহল বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বাঁচাতে দেশ-বিদেশে বহুভাবে সহযোগিতা করেছে।

জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাবস্থায় বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে চাকরি এবং পদোন্নতির ব্যবস্থা করেছিল। দেশের বিপক্ষে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। খালেদা জিয়ার আমলেও এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে।

১৯৭৬ সালের ৮ জুন বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মধ্যে উল্লেখিত ১২ জনকে বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেয়া হয়েছিল-

১. শরিফুল হক ডালিম (মেজর ডালিম), চীনে প্রথম সচিব।
২. আজিজ পাশা, আর্জেন্টিনায় প্রথম সচিব।
৩. একেএম মহিউদ্দিন আহমেদ, আলজেরিয়ায় প্রথম সচিব।
৪. বজলুল হুদা, পাকিস্তানে দ্বিতীয় সচিব।
৫. শাহরিয়ার রশীদ, ইন্দোনেশিয়ায় দ্বিতীয় সচিব।
৬. রাশেদ চৌধুরী, সৌদি আরবে দ্বিতীয় সচিব।
৭. নূর চৌধুরী, ইরানে দ্বিতীয় সচিব।
৮. শরিফুল হোসেন, কুয়েতে দ্বিতীয় সচিব।
৯. কিসমত হাশেম, আবুধাবিতে তৃতীয় সচিব।
১০. খায়রুজ্জামান, মিসরে তৃতীয় সচিব।
১১. নাজমুল হোসেন আনসার, কানাডায় তৃতীয় সচিব।
১২. আবদুল সাত্তার, সেনেগালে তৃতীয় সচিব।

উল্লেখিত খুনিদের নিয়োগপত্র ঢাকা থেকে লিবিয়ায় পৌঁছে দিয়েছিলেন শমসের মবিন চৌধুরী। এর আগে ওই বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসে তাদের সঙ্গে আলোচনা-সমঝোতার জন্য তৎকালীন মেজর জেনারেল নুরুল ইসলাম লিবিয়ায় গিয়েছিলেন।

১৯৮০ সালের সেপ্টেম্বরে জিয়াউর রহমানের নির্দেশে ফরেন সার্ভিস ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হয়। তবে উল্লিখিত ১২ সেনা কর্মকর্তা ফরেন সার্ভিসে যোগ দিতে রাজি হলেও প্রধান দুই হোতা ফারুক ও রশীদ জিয়ার সঙ্গে সমঝোতা করে চাকরি না নিয়ে ব্যবসা করার মনস্থির করেন। জিয়াউর রহমান তাদের ব্যবসার মূলধন হিসেবে আর্থিক সহযোগিতা করে। ফারুক ও রশীদ লিবিয়া সরকারের বিশেষ অনুকম্পা লাভ করে।

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের স্বার্থরক্ষার জন্য জিয়া-খালেদা সরকার রীতিমতো প্রতিযোগিতায় মত্ত থেকেছে। প্রয়াত বেনজির ভুট্টো সরকার পাকিস্তানে খুনি মহিউদ্দিন আহমেদকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালেও সৌদি সরকার এ খুনিকে সৌদি আরবে বাংলাদেশের মিশন উপপ্রধান হিসেবে গ্রহণ করে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, মেজর ডালিমকে বেইজিং থেকে হংকংয়ে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাকে পোল্যান্ডের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নিয়োগ দেওয়া হলে সে সময়ে সমাজতান্ত্রিক পোল্যান্ড সরকার তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। পরে তাকে কেনিয়ায় হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। মেজর নূর তখন ব্রাজিলে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এর আগে তিনি আলজেরিয়ায় কাউন্সিলর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। মেজর রাশেদ চৌধুরী টোকিওতে কাউন্সিলর পদে নিযুক্ত ছিলেন। মেজর এ কে এম মহিউদ্দিন সৌদি আরবের মিশন উপপ্রধান হিসেবে (বেনজির ভুট্টোর সরকারও করাচিতে একই পদে তার নিয়োগ গ্রহণ করেনি), মেজর শরিফুল হোসেন ওমানে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স দায়িত্ব পালন করেছেন। উল্লেখ্য, তাঁরা সবাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মিনিস্টার হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছিলেন।

মূলত, এই জিয়াউর রহমান ছিলেন ক্ষমতা লোভী। যখন বিপথগামীরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার বিষয়ে জিয়াউর রহমানের কাছে পরামর্শের জন্য আসে, সে সময় তিনি তাদেরকে চুপ না করিয়ে উৎসাহ দেন। যার প্রমাণ স্বরূপ দেখা যায়, জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণের পর তার আশে পাশে বঙ্গবন্ধুর খুনিরা থাকলেও তাদের কোনো প্রকারের শাস্তি না দিয়ে উল্টো বহাল তবিয়তে জীবন যাপনের ব্যবস্থা করে দেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি