বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২১



৭ মার্চ নিয়েও বিএনপির গভীর ষড়যন্ত্র!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
07.03.2021

নিউজ ডেস্ক: অক্সিজেন ছাড়া যেমন মানুষ বাঁচেনা, ঠিক তেমন ষড়যন্ত্র করা ছাড়া বিএনপি নেতৃবৃন্দের পেটের ভাত হজম হয় না। তাদের শিরায় শিরায় অক্সিজেনের পরিবর্তে বইছে ষড়যন্ত্রের বিষবাষ্প। দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে তাদের এই ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত। তারই ধারাবাহিকতায় এবার দলটির নেতৃবৃন্দ ঐতিহাসিক ৭মার্চকে বিতর্কিত করার পাঁয়তারা করছেন বলে জানা গেছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে, বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃতিতে অদ্বিতীয় নাম বিএনপি। ৭৫-এর ১৫ আগস্টের পরসহ বিভিন্ন সময়ে দলটির নেতৃবৃন্দ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম-নিশানা মুছে ফেলার চেষ্টা করেছেন। বলেছেন, স্বাধীন ভূখণ্ড ও লাল-সবুজের পবিত্র পতাকা প্রাপ্তিতে শেখ মুজিবের কোন ভূমিকা নেই। সব অবদান জিয়াউর রহমানের, তিনিই সব করেছেন। তিনিই স্বাধীনতার ঘোষক। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, জিয়াউর রহমান ২৬ শে মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে যে বাণী দিয়েছিলেন সেটি ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার পুনঃউচ্চারণ মাত্র। আর সেই ঘোষণায় তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে তিনি এই ঘোষণা পাঠ করছেন। অথচ ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে ও নিজেদের গায়ের জোরে বিএনপি নেতৃবৃন্দ আজও মূর্খতার সঙ্গে বড়াই করে বলেন, জিয়া না থাকলে কিছুই হতো না।

সত্যকে ধামাচাপা দিতে এর আগে বিএনপি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার নিষিদ্ধ করেছিল। শুধু তাই নয়, ৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী শব্দটাও পর্যন্ত উচ্চারণ করা যেতো না, নাম নেওয়া যেত না রাজাকার-আলবদরদের। পরবর্তীতে এই অবস্থা পরিবর্তিত হতে থাকে। স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হতে থাকেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। বর্তমানে যখন সরকারের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং মুক্তিযুদ্ধের ধারা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, তখন আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বিএনপি। বুনেছে নতুন করে ষড়যন্ত্রের জাল।

ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ৭ মার্চ উদযাপন করছে বিএনপি। কিন্তু এই উদযাপনের ব্যাখ্যা কি তা এখন পর্যন্ত দলটির নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করেননি। এর মাধ্যমেই অনুধাবন করা যায়, ইতিহাস বিকৃতির আরেকটি উৎসবের পাঁয়তারা করছে বিএনপি। একইসঙ্গে চেষ্টা করছে, ৭ মার্চ স্বাধীনতার কোন ঘোষণা দেয়া হয়নি। দেয়া হয়নি কোন দিক-নির্দেশনা, এমন তথ্য প্রচারের।

৭ মার্চকে খাটো করার দেখার এই অপচেষ্টা বিএনপির সফল হবে না উল্লেখ করে দেশের রাজনৈতিক বিজ্ঞজনরা বলছেন, ইতিহাস বিকৃতির এই নাটক সাধারণ জনগণ বোঝে। ইতোপূর্বে তারা এর প্রমাণ পেয়েছেন। তবুও সরকারের পাশাপাশি আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে যাতে, কোনেভাবেই তারা তাদের অসৎ উদ্দেশ্য সাধন না করতে পারে। খাটো করতে না পারে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে। যে ভাষণের মাধ্যমে এসেছিল স্বাধীনতা। প্রাপ্তি ঘটেছিল লাল-সবুজের পতাকা ও স্বাধীন ভূখণ্ডের।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি