মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » জাতির পিতার সব চিহ্ন মুছে ফেলার নির্দেশ দেন জিয়া



জাতির পিতার সব চিহ্ন মুছে ফেলার নির্দেশ দেন জিয়া


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
07.03.2021

নিউজ ডেস্ক: ৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। বঙ্গবন্ধুর সব চিহ্ন মুছে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন জিয়া। জিয়াউর রহমান কার্যত: ১৯৭৫ এর ৭ নভেম্বরের পর দেশের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয়েছিলেন। এসময় জিয়া তথ্যমন্ত্রনালয়কে বঙ্গভবনে এক জরুরী বৈঠকে ডেকেছিলেন। ঐ বৈঠকে তিনি কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

ঐ নির্দেশনার মধ্যে ছিলো;

১. রেডিও ও টেলিভিশনে কোথাও বঙ্গবন্ধুর (জিয়া বলেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান) নাম উচ্চারণ করা যাবে না।
২. ৭ মার্চের ভাষণ তো নয়ই, বঙ্গবন্ধুর কোন ভাষণ প্রচার করা যাবে না।
৩. রেডিও টেলিভিশনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নাম উচ্চারণ করা যাবে না।

উল্লেখ্য, ১০ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে জিয়া উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (ডি.সিএম.এল এ) হন। এসময় ১০টি মন্ত্রণালয় ছিলো জিয়ার হাতে। এই মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে ছিলো অর্থ, স্বরাষ্ট্র, শিল্প, বাণিজ্য, পাট, তথ্য, শিক্ষা, বিজ্ঞান, কারিগরি ও আনবিক গবেষণা। ৭৫’র এর ১০ নভেম্বর থেকে ৭৬ এর ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তথ্য মন্ত্রণালয় জিয়া তার অধীনে রেখেছিলেন। ১৮ সেপ্টেম্বর আকবর কবিরকে তথ্য ও বেতার উপদেষ্টা করা হয়। কিন্তু ১০ মাস তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে জিয়া একটি কাজ করেছিলেন। তা হলো বঙ্গবন্ধুর সব ভাষণকে একত্রিত করেছিলেন।

অতপর তা পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সে সময় (৭২-৭৫) প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ভিডিও ধারণ করা হতো ফিল্ম ক্যামেরায়। এই ধারণকৃত ফিল্মগুলো দুটি স্থানে সংরক্ষিত হতো, একটি টেলিভিশন লাইব্রেরিতে অন্যটি ডিপার্টমেন্ট অব ফিল্ম এ্যান্ড পাবলিকেসন্স (ডিএফপি তে)। জিয়ার নির্দেশে সব ফিল্ম ডিএফপিতে নিয়ে আসা হয়। সেগুলোকে পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু সে সময় তরুণ এক কর্মচারী সালাউদ্দিন একটি পরিত্যক্ত বাথরুমে এগুলো লুকিয়ে রাখেন। ডিএফপি থেকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়া হয় যে, ‘শেখ মুজিবের সব ভাষণ ধ্বংস করা হয়েছে।’

১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ সরকার। তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান বঙ্গবন্ধু গবেষক অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। তিনি বঙ্গবন্ধুর ভিডিও ফুটেজ উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পরেন। এ সময় সালাউদ্দিন নামের ঐ কর্মচারী, অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে এই ফিল্মগুলোর সন্ধান দেন। কিন্তু দীর্ঘ ২১ বছরে এগুলো নষ্ট প্রায়। ব্যক্তিগত উদ্যোগে অধ্যাপক সাইয়িদ এই ফিল্মগুলো মুম্বাই পাঠান। সেখানেই এই অমূল্য ফিল্মগুলো নতুন জীবন পায়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি