বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » মুক্তির মেয়াদ বাড়লো খালেদার, তারেকের মাথায় হাত!



মুক্তির মেয়াদ বাড়লো খালেদার, তারেকের মাথায় হাত!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
08.03.2021

নিউজ ডেস্ক: গত বছরের ২৫ মার্চ সরকারের মহানুভবতায় কারান্তরীণ অবস্থা থেকে মুক্তি মেলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার। পরবর্তীতে গত সেপ্টেম্বরে পূর্বের ছয় মাসের সঙ্গে আরও ছয় মাস মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। যার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২৪ মার্চ। এর আগেই গত ২ মার্চ আবারো মেয়াদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে খালেদার পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আবেদন করা হয়। তার প্রেক্ষিতে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ আগের শর্তে আরও ছয় মাস বাড়ানোর সুপারিশ করে মতামত দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। কিন্তু এ খবর শুনেই ‘আহত পাখির’ মতো আর্তনাদ করছেন তারেক রহমান। কারণ, খালেদা বেশিদিন বাইরে থাকা মানে দলের একটি অংশ তার কথা শুনবে এবং কথানুযায়ী চলবে। এতে তার ক্ষতি বৈ লাভ হবে না।

দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যমতে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে ছিলেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। গত বছরের ২৫ মার্চ শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য দণ্ড স্থগিত করে মুক্তি দেয় সরকার। এরপর দ্বিতীয় দফায় ফের ছয় মাস সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সেই মেয়াদ শেষের আগেই পূর্বের ন্যায় দল কিংবা পুত্র তারেকের সহায়তা ছাড়াই পরিবারের মাধ্যমে সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেন খালেদা। মঙ্গলবার (২ মার্চ) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর ওই আবেদনটি করেন তার ভাই শামীম ইস্কান্দার।

জবাবে সোমবার (৮ মার্চ) আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানোর মতামত দিয়ে আমরা ফাইল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন বাকি সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই নেবে।’

এ কথা শুনেই মাথায় হাত লন্ডনে পলাতক ফেরারি আসামি ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। কিংস্টনভিত্তিক একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তারেক রহমান খুব বিচলিত। কারণ ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) বেশিদিন বাইরে থাকা মানে, তার ক্ষতি। তিনি ঠিকভাবে দলকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। কারণ কিছু নেতাকর্মী আছেন যারা তারেকের চেয়ে খালেদার কথাকেই বেশি প্রাধান্য দেন এবং সে অনুযায়ী চলেন।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিজ্ঞজনদের ভাষ্য, সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি। অথচ সেই শর্তই ভেঙে ফেলেছেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। তিনি সৌজন্য সাক্ষাতের নামে রাজনৈতিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। নেতাকর্মীদের দিয়েছেন দিকনির্দেশনা। এতে যারপরনাই বিরক্ত হন তারেক। মনে মনে চান দ্রুতই পথের কাঁটা সরে যাক। কারাগারে ফিরে যাক তার মা। কিন্তু তা আর হলো কই! উল্টো ছেলে ও দলের প্রতি রাগ করে পরিবারের মাধ্যমে নিজেই সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়িয়ে নিলেন এবং পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ রাখলেন দলের। এটা বুঝতে পেরেই মাথায় হাত উঠেছে তারেকের আর বলছেন, হায় হায় এ কী হলো!



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি