রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » শেষমেশ জামায়াত ও ঐক্যফ্রন্ট থেকে আলাদা হচ্ছে বিএনপি



শেষমেশ জামায়াত ও ঐক্যফ্রন্ট থেকে আলাদা হচ্ছে বিএনপি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
08.03.2021

নিউজ ডেস্ক: বিগত ২২ বছর যাবৎ জামায়াতের সঙ্গে জোট থাকলে, তাদের নিয়ে মনে মনে খুশি নয় বিএনপি। সঙ্গে বিগত দুই বছরে একাধিক নির্বাচনে ভরাডুবির পর নতুন জোট ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে চরম অস্বস্তিতে রয়েছে বিএনপি। বিশেষ করে ঐক্যফ্রন্ট ছাড়তে ২০ দলীয় জোটের উপর ভর করায় পরোক্ষ চাপ সেই অস্বস্তিকে প্রবল মাত্রায় নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাপেও অনেকটা বেকায়দায় রয়েছে দলটি।

তবে দলটির অতীত ইতিহাস বলছে, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের সঙ্গে জোট করে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনার মুখে তারা। দলটির সঙ্গ ছাড়তে দেশি ও বিদেশি শক্তি দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপিকে চাপের মুখে রেখেছে। কিন্তু কৌশলগত কারণে চাপের মধ্যেও জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক অব্যাহত রেখেছেন তারা। যার প্রমাণ হিসেবে দেখা যায়, বর্তমানে বিএনপির কোনো সভা সেমিনারে দেখা যাচ্ছে না জামায়াতকে। তবে এ নিয়ে প্রতিনিয়তই নানা মহলের প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা।

এ বিষয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের এক নেতা বলেন, মূলত দলের দু’একজন নেতার জন্য শরিকদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। আমরা শরিকদের বিপক্ষে নই। তবে মনে রাখতে হবে জামায়াত স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিলো। ফলে চাইলেই তাদের সব যায়গায় নিয়ে যাওয়া যায় না। সঙ্গে অন্যান্য জোটের সঙ্গে বেশি দহরম-মহরমে আমরা থাকতে পারি না। এই বিষয়টি আবার জামায়াত পছন্দ করে না। সঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে দলের মহাসচিব করা নিয়েও আছে বিতর্ক।

এ প্রসঙ্গে স্থায়ী কমিটির এই নেতা আরও বলেন, জোট বা ফ্রন্টের মধ্যে অনেকটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে এটা সত্য। কিন্তু খন্দকার মোশাররফ নতুন মহাসচিব হলে পরিস্থিতি সামলে নিতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। মহাসচিব নির্বাচনে আরও সচেতন হওয়া উচিৎ।

ঐক্যফ্রন্টের বিষয়ে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ঐক্যফ্রন্ট ছিলো, শুধুমাত্র নির্বাচনী অংশ। তাদের সঙ্গে কোনো জোট নেই। কারণ তাদের কোনো সমর্থন নেই। ফলে তাদেরকে নিয়ে আমরা কোনো কথা বলতে চাই না। মূলত বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য সব নাটকের নাটের গুরু ছিলেন ড. কামাল। তার নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট রাখতে অনেকেই চান না। আর এ কারণেও দলের সিনিয়ররা ঐক্যফ্রন্ট থেকে দূরে আছেন।

বিএনপির এই নেতাদের এমন বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল, সে প্রতিশ্রুতির কিছুই অবশিষ্ট নেই। এদিকে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির আর সম্পর্ক রাখা উচিত নয়। শোনা যাচ্ছে, দলটি জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিএনপির উচিত হবে স্বাধীনতাবিরোধী এ দলটির সঙ্গ ত্যাগ করা। কারণ, জামায়াতের কারণে দলটিকে দেশে-বিদেশে বেশ বেকায়দায় পড়তে হয়েছে। ঐক্যফ্রন্ট ছাড়া ২০ দলীয় জোটের শরিকদের নিয়েও বেকায়দায় রয়েছে বিএনপি। বিশেষ করে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের পর থেকে অস্বস্তির মধ্যে দিন পার করছে দলটি। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহল থেকে স্বাধীনতাবিরোধী এ দলটির সঙ্গ ত্যাগ করার চাপও রয়েছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি